বিভ্রান্তিতে গ্রাহকরা

বসছে ১ লাখ প্রিপেইড মিটার

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

গাজীপুর প্রতিনিধি

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে গাজীপুরে ১ লাখ প্রিপেইড মিটার স্থাপনের জন্য জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ কে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে প্রায় ৫০ হাজার মিটার স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৫০ হাজার মিটার স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে বলে জানায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। তবে প্রিপেইড মিটার বসানো নিয়ে বিভ্রান্তি কাজ করছে অনেক গ্রাহকদের মঝে। বিদ্যুৎ বিল বেশি আসাসহ নানা রকম অভিযোগ রয়েছে ব্যবহারকারীদের। তবে অচিরেই এসব অভিযোগের সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১।

গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রথমে ৫ হাজার গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়। বিদ্যুতের অপচয় রোধ, বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির প্রবর্তন ও সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পরিকল্পনায় পরের অর্থবছরে (২০১৭-১৮) তারা আরো ৫ হাজার গ্রাহককে প্রিপেইড মিটার সংযোগ প্রদান করেন। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের শেষ অবধি মোট ৫০ হাজার প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা সম্ভব হয়। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত আরো ৫০ হাজার মিটার স্থাপন করা হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশে ২ কোটি গ্রাহকের মধ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের সরকারি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজীপুরে এসব মিটার স্থাপন করা হচ্ছে।

গ্রাহকদের অভিযোগ প্রচলিত পোস্টপেইড অ্যানালগ বা ডিজিটাল মিটারের চেয়ে নতুন পদ্ধতির প্রিপেইড মিটারে বিদ্যুতের বিল বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন গ্রাহকরা। এছাড়া সেবাজনিত বিভিন্ন রকমের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় বলেও অভিযোগ তাদের। কিছুদিন আগে শ্রীপুরের মাওনাতে মানববন্ধন ও কালিয়াকৈরে বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।

গ্রাহকরা বলছেন, রিচার্জের জন্য পর্যাপ্ত স্টেশন না থাকায় বিদ্যুৎ অফিসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে প্রিপেইড মিটারের টাকা রিচার্জ করতে হয়। এছাড়া মিটার স্থাপনের পর প্রতি মাসে আগের চেয়ে বেশি পরিমাণ মিটার ভাড়া কাটা হচ্ছে। আগে যেখানে মাসে ১০ টাকা মিটার ভাড়া দিতে হতো, এখন দিতে হয় ৪০ টাকা। এদিকে অগ্রিম রিচার্জ সিস্টেমের কারণে চাকরিজীবী বা ভাড়াটিয়ারাও সমস্যায় পড়ছেন।

তবে গ্রাহকদের অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, নতুন গ্রাহকদের মধ্যে নানা রকমের বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নতুন সিস্টেমে বেশি বিল কেটে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। গ্রাহকরা যতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, বিল সেই পরিমাণই আসবে। নানা অসচেতনতার কারণে কিছু গ্রাহক সমস্যায় পড়লেও অধিকাংশ গ্রাহক নতুন পদ্ধতিতে সন্তুষ্ট। নতুন একটি সিস্টেম চালু করতে গেলে প্রাথমিক অবস্থায় কিছু সমস্যা থাকলেও পুরো সিস্টেমে গ্রাহক প্রতারিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেও জানানো হয়েছে।

যেসব গ্রাহক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সমিতির লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে সেসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করে দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এদিকে পোস্টপেইডের তুলনায় প্রিপেইড মিটারে বিল বেশি আসার কোনো কারণ নেই, তবে টেকনিক্যাল কিছু কারণে বিল বেশি আসতে পারে বলেও জানিয়েছে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার যুবরাজ চন্দ্র পাল। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের বাসা-বাড়ির ওয়্যারিংয়ে কোনো ত্রুটি থাকলে বিল বেশি আসতে পারে। যেসব কারণে বিল বেশি আসার সম্ভাবনা থাকে, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সে ব্যাপারে অবহিত করে থাকেন। গ্রাহকরা এসব সমাধান করলে প্রকৃত বিলই আসবে।

প্রিপেইড মিটার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও অতিরিক্ত বিলের কারণ হিসেবে তিনি আরো বলেন, গ্রাহকের বাসার ওয়্যারিংয়ে যদি ত্রুটি থাকে এবং নিউট্রাল লাইন যদি কমন থাকে, তবে সেই লাইনের বিল যোগ হবে। ফলে বিল বেশি দেখাবে। কোনো বহুতল ভবনের সব নিউট্রাল যদি এক থাকে; আর্থিংয়ের তার, আইপিএসের নিউট্রাল, সোলারের নিউট্রাল, জেনারেটরের নিউট্রাল, চেঞ্জওভারের নিউট্রাল যদি মেইন সুইচের নিউট্রালের সঙ্গে থাকে এবং কোনো সাইট কানেকশনের নিউট্রাল যদি লোড সাইটের নিউট্রালে থাকে, তবে বিল বেশি আসতে পারে।

অতিরিক্ত মিটার ভাড়া প্রসঙ্গে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার যুবরাজ চন্দ্র পাল জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী মিটার ভাড়া ৪০ টাকা নির্ধারণ করেন। প্রকৃতপক্ষে এটি বেশি নয়। কারণ, একটি অ্যানালগ বা ডিজিটাল মিটারের দাম ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা। আর এর ভাড়া নেওয়া হতো ১০ টাকা। অন্যদিকে একটি প্রিপেইট মিটারের দাম ৬ হাজার টাকা, এর ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৪০ টাকা। আর মাসে একবার প্রতি কিলোওয়াটে ডিমান্ড চার্জ নেওয়া হয় মাত্র ২৫ টাকা। এর বাইরে আর কোনো চার্জ নেই। ফলে অতিরিক্ত চার্জ কেটে নেওয়ার যে অভিযোগ গ্রাহকদের, তার কোনো ভিত্তি নেই।

প্রিপেইড মিটার রিচার্জের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম অবস্থায় আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল, বর্তমানে সমস্যা নেই। গ্রাহকরা এখন বাড়িতে বসেও নির্ধারিত অ্যাপসের মাধ্যমে রিচার্জ করার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি ব্যাংক এরই মধ্যে গ্রাহকদের বিনামূল্যে রিচার্জ করার সুযোগ দিচ্ছেন। বাকি ব্যাংকগুলোও অচিরেই শুরু করবে। এছাড়া রবি, এয়ারটেল ও গ্রামীণফোনের মাধ্যমেও গ্রাহকরা রিচার্জ করতে পারবেন।

 

"