মশার উপদ্রব ও ডেঙ্গুর প্রকোপে সতর্ক সরকার

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর নর্দমা, নিচু জায়গাসহ বিভিন্ন স্থানে জমছে বৃষ্টির পানি। এতে বাড়ছে মশার উপদ্রব এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ। এ ব্যাপারে সরকারের সতর্কতার কথা জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেছেন, ‘মশার উপদ্রব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। তবে সরকার সতর্ক রয়েছে, মশক নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে।’ গতকাল রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলতি বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও খাল পরিষ্কারকরণ এবং মশক নিধনে কার্যকর পদেক্ষেপ গ্রহণ বিষয়ক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) মেয়র সাঈদ খোকন, উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, সচিব হেলাল উদ্দিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বর্ষা আসার আগেই ড্রেন পরিষ্কার করা হয়েছে। এর উপকারও আমরা পাচ্ছি। নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে দুই সিটি একযোগে কাজ করছে। আমরা স্বাচ্ছন্দ্যময় সিটি গড়তে চাই।

ঢাকা বহু দিনের পুরোনো শহর, তাই এখানে পরিকল্পনামাফিক অনেক কিছু হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন উত্তরাধিকার সূত্রে রাস্তাগুলো পেয়েছে। তবে যে ইউনিয়নগুলো নতুন করে ঢাকা সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, সেগুলো আধুনিকভাবে সাজানো হচ্ছে। প্রশস্ত রাস্তার একপাশ দিয়ে ইউটিলিটি সার্ভিসগুলো গেছে। এগুলো মেরামতের সময় রাস্তা খোঁড়া লাগবে না। কাউকে দোষারোপ করে লাভ নেই। দেশ আমাদের সবার।’

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, সিটি করপোরেশনকে চার ভাগে ভাগ করে প্রত্যেক ভাগে সাতজন করে ২৮ জন কমিউনিটি অ্যাম্বাসেডর নিয়োগ দিয়েছি। তাদের কাজ হবে, কোন কোন এলাকায় মশার উপদ্রব বাড়ছে, কোথায় কোথায় ওষুধ ছিটানো লাগবে, এসব চিহ্নিত করা। সেসব এলাকায় মশক নিধনকর্মী পাঠানো।

সাঈদ খোকন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। তারপরও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ১৫০টি মেডিক্যাল টিমও গঠন করেছি। ১৫ জুলাই থেকে তারা কাজ শুরু করবে। এরা রোগীর বাড়িতে বাড়িতে যাবে। বিনামূল্যে চিকিৎসা দেবে। প্রয়োজনে হাসপাতালে পাঠাবে। হাসপাতালের সব খরচও সিটি করপোরেশনই বহন করবে।

সাঈদ খোকন আরো বলেন, ‘ডেঙ্গু এবার আলোচিত বিষয়। উপদ্রবও বেড়েছে। এ কারণে আমরা রুটিন ওয়ার্কের বাইরেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কার্যক্রম চালু করেছি। আমরা মনে করি, কার্যক্রম এবং উদ্যোগের সঙ্গে জনসচেতনতা যদি এক করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সহজ। সচেতনতা বাড়াতে মসজিদের খুতবায় বয়ান দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে। সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সচেতনতা বাড়াতে কাজ চলছে।

হটলাইন চালু করা হবে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘হটলাইনের মাধ্যমে ডেঙ্গুর খবর পেলে সেখানে চিকিৎসক পাঠানো হবে।’

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি দাবি করে সাঈদ খোকন বলেন, ‘গত ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ২১০০। এর মধ্যে ১৮৭৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। মাত্র ৩০০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মারা গেছেন মাত্র ২ জন।’

উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ চ্যালেঞ্জ। জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশক নিধন করব। প্রতি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, মহল্লায় মহল্লায় মশক নিধনকর্মীর মোবাইল নম্বরসহ চটি বই বিতরণ করব। ওয়েবসাইটেও মশক নিধনকর্মীদের তথ্য দেওয়া থাকবে।’

উত্তর সিটি করপোরেশনে মশার ওষুধ সরবরাহকারী দি লিমিট এগ্রো প্রোডাক্টকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘তিনবার পরীক্ষা করে প্রমাণিত হয়েছে তাদের ওষুধ ভালো না। তারা আর টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে না। আগামীতে ডব্লিউএইচও অনুমোদিত ওষুধ কিনব।’

এর আগে গতকাল সকালে সিরডাপের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, গ্রামীণ উন্নয়ন ও দারিদ্র্যবিমোচনে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সিরডাপ যে কাজ করছে তা প্রশংসাযোগ্য। পল্লী উন্নয়নে বাংলাদেশের যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তার সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপন করে কাজ করলে সিরডাপের কাজগুলো আরো ফলপ্রসূ হবে। শেষে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কেক কেটে ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেন।

অনুষ্ঠানে সিরডাপের মহাপরিচালক তেভিতা জি বসেইওয়াকা টাগিনা ভুলাওয়ের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে অবস্থানরত ফিলিপাইনের অ্যাম্বাসেডর এইচ ই বাইচেন্টি বাইবেনচিও টি বান্ডিল্লু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন তালুকদার।

 

"