ব্যর্থতার দায় নিলেন মাশরাফি

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আরিফ সোহেল

শেষ দুই ম্যাচে ভারত-পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বৈরথ হয়নি। ভারতের হালকা প্রতিরোধ হলেও পাকিস্তানে লবডঙ্কা। তবে মোটের ওপর সাকিব এবং মুস্তাফিজে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটে বিশ্বকাপে রং ছড়িয়েছে লাল-সবুজের বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের লম্বা সফর শেষে গতকাল দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে ৩টি জয় পেলেও সেমিফাইনাল স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় মনোভাবে নাড়িয়ে-চড়িয়ে দিয়েছে বোদ্ধাদের। বাংলাদেশের সম্ভাবনা ফিকে হয়ে গেছে; কিছু দলের জটিল সমীকরণীয় জয়-পরাজয়েও। ২-১টি ম্যাচ বাদ দিলে স্বল্পে যথেষ্ট তুষ্ট বাঙালি চলতি আসরকে মনে করেছে বীরোচিত লড়াইয়ের আসর। তবে শেষ চারে না ওঠাকে ব্যর্থতাই মনে করছেন অধিনায়ক মাশরাফি, যার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েছেন সবুজ আঙিনায় পা রেখেই।

দলের ব্যর্থতার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারিনি। আর অধিনায়ক হিসেবে সেই ব্যর্থতার দায়ভার অনেকটাই আমার। আমি এর দায় নিচ্ছি, আমাকেই নিতে হবে। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে তাকেও নিতে হতো।’ দলের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নিজেও সমালোচনার শিকার হয়েছেন, তবে এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না, ‘সমালোচনা হয়েছে বা হবে, এটা স্বাভাবিক। প্রত্যেক সিরিজ বা টুর্নামেন্টের পরই সেটা হয়, আর বিশ্বকাপের পর তো হবেই। তবে কিছু ব্যাপার যদি আমাদের পক্ষে থাকত, তাহলে হয়তো ভিন্ন কিছু হতো।’ গতকাল ঠিক বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছান মাশরাফিরা। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মিডিয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা বলেছেন, ‘যে প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম, সেই জায়গা থেকে অবশ্যই হতাশাজনক। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে আমরা যেভাবে খেলেছি, যদি আমাদের ভাগ্য সহায় হতো, তাহলে হয়তো সেমিফাইনালে যেতে পারতাম। আমরা শতভাগ ইতিবাচক খেলেছি।’

মাশরাফি নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন, আপাতত অবসরের ভাবনা নেই তার। আগের কথা বলেছেন, ‘বোর্ড সূত্রের খবর, আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরের তিন ওয়ানডেতেও মাশরাফিই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন। আর এ বছরই ঘরের মাঠে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা সিরিজ আয়োজন করে মাশরাফিকে বিদায় দেওয়া হতে পারে।

এক প্রশ্নে জবাবে মাশরাফি বললেন, ‘আসলে ভারতের বিপক্ষে হারের আগে পর্যন্ত আমাদের সেমিফাইনালে খেলার আশা টিকে ছিল। আমাদের পারফরম্যান্সে বৈচিত্র্য ছিল। সাকিব ও মুশফিক ছাড়া হয়তো আমাদের সব খেলোয়াড় ধারাবাহিক ছিল না। তা ছাড়া কিছু জায়গা ছিল, যেখানে ভাগ্য সহায় থাকলে ভালো হতো। পারফর্মার হিসেবে সাকিব-মুস্তাফিজ, মুশফিক ও সাইফউদ্দিন অসাধারণ খেলেছেন। অন্যরা অধারাবাহিক ছিল। তবে এই চারজন দারুণ করেছে।’ আস্থার প্রতিদান দিতে না পারলেও নবীন ক্রিকেটারদের প্রশংসা করেছেন মাশরাফি। বলেছেন, ‘ওদের একতরফা দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা অনেক চেষ্টা করেছেন। এই মঞ্চ অনেক বড়, এখানে পারফর্ম করা সহজ নয়। আমি আশা করি, ওরা ধারাবাহিক পারফর্ম করে আজকের সাকিব-তামিম-মাহমুদউল্লাহদের মতো ক্রিকেটার হবেন।’

দলের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজ আসেননি। বিশ্বকাপের মাঝপথে তার স্ত্রী গিয়েছিলেন ইংল্যান্ডে। স্ত্রীকে নিয়ে বেড়িয়ে কয়েক দিন পর দেশে ফিরবেন মিরাজ। সাব্বির রহমান আর লিটন দাসও থেকে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডে। এই চার ক্রিকেটার ছাড়া বাকিরা ফিরেছেন দেশে। আয়ারল্যান্ড সফর শেষে কয়েক দিনের জন্য দেশে ফিরেছিলেন মাশরাফি। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ইংল্যান্ডে যান তিনি। বিশ্বকাপের পুরোটা পরিবার নিয়ে ইংল্যান্ডে কাটিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। শুক্রবার সকালে স্ত্রী-সন্তানরা দেশে ফিরলেও মাশরাফি ফিরেছেন দলের সঙ্গে।

এবারের বিশ্বকাপে ৯ ম্যাচের ৮টিতে মাঠে নেমে তিনটি জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছে বৃষ্টিতে। ৭ পয়েন্ট নিয়ে ১০ দলের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ অষ্টম।

 

"