সময় কমছে সব পাবলিক পরীক্ষার

প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি), মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেটসহ (এইচএসসি) সমমানের সব পাবলিক পরীক্ষা সম্পন্নের সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নেওয়া এমন সিদ্ধান্ত আগামী বছর থেকে কার্যকর হবে বলে জানা গেছে। এদিকে, জিপিএ-৫ উঠে হবে নতুন গ্রেডবিন্যাস। সব পাবলিক পরীক্ষায় প্রতি পাঁচ নম্বর ব্যবধানে জিপিএ পরিবর্তন হবে। এছাড়া বর্তমান পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ নম্বরের জিপিএ-৫ কমিয়ে তা জিপিএ-৪ গ্রেড করার প্রস্তাবনা করা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়, পাবলিক পরীক্ষায় বিশ্বের সঙ্গে আমাদের (বাংলাদেশ) নম্বরের শ্রেণিব্যাপ্তি সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন পদ্ধতিতে জিপিএ-৫ পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ এবং বর্তমানে ৮০ থেকে ১০০ নম্বরে জিপিএ-৫ দেওয়ার পদ্ধতি থাকছে না। পরীক্ষার ফলের পাঁচ নম্বর ব্যবধানে গ্রেড পরিবর্তন করা হবে।

প্রস্তাবনায় নতুন গ্রেড হিসেবে দেখা যায়, পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর ১০০ রাখা হয়েছে। তবে জিপিএ-৫ পরিবর্তন করে তা জিপিএ-৪ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১০০ থেকে ৯৫ নম্বর পেলে নতুন গ্রেড হিসেবে ‘এক্সিল্যান্ড গ্র্রেড’ যুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী পাঁচ নম্বর কম ব্যবধানে ‘এ প্লাস’, ‘এ’, ‘এ মাইনাস’, ‘বি প্লাস’, ‘বি’, ‘বি মাইনাস’, ‘সি প্লাস’, ‘সি’, ‘সি মাইনাস’, ‘ডি প্লাস’, ‘ডি’, ‘ডি মাইনাস’, ‘ই প্লাস’, ‘ই’ এবং ‘ই মাইনাস’ গ্রেড দেওয়া হবে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর সূত্রে জানা গেছে, জেএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময় লাগে ১৫ দিন। পাঁচ দিন কমিয়ে এনে এবার থেকে তা ১০ দিনে সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সময় লাগে ২৮ থেকে ৩০ দিন। এ সময় ১০ দিন কমিয়ে ২০ দিনে সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করতে সময় লাগে ৪৫ দিন। এ সময় ১৫ দিন কমিয়ে ৩০ দিনে সম্পন্নের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ছুটির কারণে বা জরুরি কারণে নির্ধারিত সময় দু-একদিন বেশি লাগতে পারে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সব পাবলিক পরীক্ষার দিন কমানো হয়েছে। চলতি বছর থেকে এটি কার্যকর হবে। ফলে মাসজুড়ে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষার আয়োজন থাকছে না।

২০১৮ সালের জেএসসি পরীক্ষা ১ থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত হয়। ২০১৯ সালের জেএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শেষ করা হবে ১০ নভেম্বরের মধ্যে। ২০১৮ এর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (তত্ত্বীয়) ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে তা সম্পন্ন হয় ২৫ ফেব্রুয়ারি। আগের বছরগুলোতে এর চেয়ে বেশি সময় লাগে। এ পরীক্ষার সময় কমিয়ে ২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

এছাড়া গত বছর এইচএসসি পরীক্ষা ১ এপ্রিল শুরু হয়ে শেষ হয় ১১ মে। আগামীতে এ পরীক্ষা এক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্যাপ না রেখে আগে থেকেই নেয়া হয়। এ কারণে এ পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার প্রয়োজন হবে না।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পাবলিক পরীক্ষার সময় বিভিন্ন কেন্দ্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ থাকে। ১০ থেকে ১৫ দিন সময় কমিয়ে আনায় ওইসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হবে না। ফলে পরীক্ষার্থী ছাড়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা নিয়মত ক্লাস করতে পারবে। এছাড়া পরীক্ষার সময় বেশি পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশ্নফাঁসের মতো প্ররোচনায় পড়েন। দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা শেষ হলে এ সমস্যাও থাকবে না। অভিভাবকরাও দ্রুত চাপমুক্ত হবেন। এসব কারণে সময় কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মু. অধ্যাপক জিয়াউল হক আরো বলেন, পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের পাঠ কার্যক্রমও নিয়মিত হবে। অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেরও সুযোগ বাড়বে।

তিনি বলেন, পরীক্ষার মধ্যে গ্যাপ থাকলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হন বলে মনে হয় না। দীর্ঘদিন ধরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে অভিভাবকরাও মানসিক চাপে থাকেন। এছাড়া বেশি গ্যাপ থাকলে পরীক্ষা নিয়ে অনৈতিক কাজের সুযোগ বাড়ে। এসব কারণে দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্নের নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া।

 

 

"