ওসি মোয়াজ্জেম কারাগারে

* ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার * আদালতে ঢুকলেন মাথা নিচু করে * অভিযোগ গঠনের শুনানি ৩০ জুন

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর মামলায় গ্রেফতার ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা করা হলে বিচারক মোহাম্মদ আস শামস জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুন মামলার অভিযোগ গঠনের জন্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে আদালতে রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ছড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। জামিন আবেদনে তার আইনজীবী ফারুক আহমেদ উল্লেখ করেন, মামলায় বলা হয়েছে, আসামি মোয়াজ্জেমের আইডি থেকে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানো হয়নি। ভিডিও ছড়ানো হয়েছে মো. আতিয়ার হাওলাদার সজল নামে এক সাংবাদিকের আইডি থেকে। অথচ তাকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। আইনজীবী দাবি করেন, সজলের আইডি থেকে ভিডিও ছড়ানোর কথা জানতে পেরে ওসি মোয়াজ্জেম গত ১৪ এপ্রিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। তাই মোয়াজ্জেম এ মামলায় আসামি হতে পারেন না। তিনি জামিন পেতে পারেন।

শুনানিতে সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আস শামস জগলুল হোসেন আসামির আইনজীবীকে জিজ্ঞাসা করেন যে, মোয়াজ্জেম হোসেন ভিডিওটি করেছিলেন কিনা? কিন্তু আইনজীবী ফারুক আহমেদ কৌশলে এ প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

এতদিন আদালতে জামিন নিতে আসেননি কেন? বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে আসামির আইনজীবী বলেন, নিরাপত্তার অভাবে তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। এ সময় বিচারক বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিরাপত্তার অভাব বোধ করেছেন?

আইনজীবী উত্তরে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেমের বিষয়টি যেভাবে মিডিয়ার এসেছে তাতে তিনি বাইরে বের হলে যে কেউ তাকে চিনে ফেলবেন। অপরাধী না নির্দোষ তা পরে বিচার হবে, জনরোষে পড়লে পুলিশ অফিসার না নিরীহ মানুষ তা দেখা হয় না। গণপিটুনি শুরু হয়। ওসি মোয়াজ্জেম পলাতক ছিলেন না। জনরোষের ভয়ে আদালতে আসতে পারেননি।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মোয়াজ্জেমের আইনজীবী বলেন, আসামি নির্দোষ, এটা মামলার ট্রায়ালে প্রমাণ করব।

এর আগে দুপুর ২টা ১৮ মিনিটে তাকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মাথা নিচু করে, মুখ ঢেকে আদালতে ঢোকেন তিনি। এরও আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে সোনাগাজী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে শাহবাগ থানা পুলিশ। আর গত রোববার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালত সূত্র বলছে, প্রিজনভ্যানে করে মোয়াজ্জেমকে দুপুর সাড়ে ১২টার পর ঢাকার আদালত চত্বরে আনা হয়। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ২টার দিকে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে মোয়াজ্জেমকে ওঠানো হয়।

সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহানকে গত ৬ এপ্রিল পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তার মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। এর ১০ দিন আগে নুসরাত মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন। এবং তা ভিডিও করে ছড়িয়ে দেন। এ ঘটনায় মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সৈয়দ সাইয়েদুল হক। মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল গত ২৭ মে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন। ৩১ মে পরোয়ানার চিঠি ফেনীর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পৌঁছায়। কিন্তু পুলিশ সুপার কাজী মনির-উজ-জামান বারবার বিষয়টি অস্বীকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ৩ জুন রাতে পরোয়ানা হাতে পাওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। এর দুই দিন পর বিশেষ বার্তাবাহকের মাধ্যমে পরোয়ানা রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়। তখন আবার রংপুর রেঞ্জ বলে, কাজটি বিধি মোতাবেক হয়নি।

পুলিশের এই গড়িমসির সুযোগে মোয়াজ্জেম সটকে পড়েন। পরোয়ানার ২০ দিন পর রোববার ওসি মোয়াজ্জেম গ্রেফতার হন।

"