বাজেটের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী

ব্যাংক থেকে লুটে খাওয়ার টাকা নেই

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে বালিশকাণ্ড ঘটান বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি মাসুদ

প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বলা হচ্ছে ব্যাংকে টাকা নেই। ব্যাংকে টাকা থাকবে না কেন? অবশ্যই টাকা আছে। তবে লুটে খাওয়ার টাকা নেই। জাতীয় সংসদে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট নিয়ে কয়েকজন এমপির বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী গতকাল জাতীয় সংসদকে এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতার কারণে তার পক্ষে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর এ বক্তব্য দেন।

ব্যাংক খাত লোপাট প্রশ্নে বিএনপি সরকারের সময়ের ঘটনার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংক খাত যারা লুট করে নিয়ে গেছে তারা দেশান্তর হয়ে পড়ে আছে অথবা দুর্নীতির দায়ে কারাগারে বন্দি। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেয়নিÑ এ রকম বহু ঘটনা আছে। সময় এলে এ ব্যাপারে আরো আলোচনা করতে পারব।

বাজেট নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট নিয়ে ভেতরে-বাইরে অনেক কথা হচ্ছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন, বাজেট নাকি কিছুই না। যারা এ ধরনের মানসিকতা নিয়ে কথা বলছেন, তাদের কাছে আমার একটাই প্রশ্নÑ বাজেট সঠিক না হলে মাত্র ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এত উন্নতি করল কী করে?’ তিনি বলেন, ‘কেউ বলছেন বাজেট দিয়েছেন, বাস্তবায়ন করতে পারেননি। বাজেট যদি বাস্তবায়ন করতে না পারি, তা হলে ২০০৮ সালে মাত্র ৬১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেয়েছিলাম, আজকে সেখানে ৫ লাখ কোটি টাকার ওপরে চলে গেছে। বাস্তবায়নের দক্ষতা না থাকলে এটা করলাম কীভাবে?’

সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন, জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধি অর্জন ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় ও ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়। এ প্রাক্কলন করতে গিয়ে সংগত কারণেই আমরা কিছুটা বেশি করি। রাজস্ব আদায়ে খানিকটা উচ্চাভিলাষী হওয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত এক দশকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অসম্ভবকে সম্ভব করা, অজেয়কে জয় করা, দুর্ভেদ্যকে ভেদ করারই গল্প। আমাদের উচ্চাভিলাষ না থাকলে এসব অর্জন সম্ভব হতো না। বাজেট বাস্তবায়ন, পরিসংখ্যানÑ সবই প্রমাণ করে আমাদের লক্ষ্য সব সময়ই বাস্তবভিত্তিক ছিল। বাস্তবতার কারণেই আমাদের বাজেটে কিছুটা সংশোধন, সংযোজন, পরিমার্জন, পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রতি বছরই আমরা এটা করে থাকি। এটা সব দেশের বাজেটেই হয়ে থাকে।’

প্রধানমন্ত্রী সম্পূরক বাজেটে হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৮ শতাংশ অনুমান করেছিলাম। সংশোধিত বাজেটে তা আমরা ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ হবে বলে আজ অনুমান করছি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ হয়েছিল, এটি আমরা সাফল্যজনকভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হব বলে আশা করছি। মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ অনুমান করা হলেও সংশোধিত মূল্যস্ফীতি ধারণা করা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে অত্যন্ত সতর্ক থাকার জন্যই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে বলেই আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। এটা দেখে সারা বিশ্ব আজ অবাক হচ্ছে। বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এখন উন্নয়নের বিস্ময়। যেখানে যাই, সেখানেই সেই কদরটা পাই। দেশবাসী সেই সম্মানটা পায়। কাজেই অযথা কিছু কথা বলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত না করাই ভালো। আমরা কাজ না করলে দারিদ্র্যের হার ৪০ ভাগ থেকে ২১ ভাগে নেমে আসত না। এই ২১ ভাগ থেকে দারিদ্র্যের হার আরো নামিয়ে আনব।’

বুয়েট ছাত্রদলের ভিপি ছিলেন বালিশ মাসুদুল : পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের আওতায় ভবনের আসবাবপত্র ও বালিশ ক্রয়সহ অন্যান্য কাজের অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগে প্রত্যাহার হওয়া নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল আলম একসময় বুয়েট ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে ভদ্রলোক এই বালিশকান্ড ঘটিয়েছেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি একসময় বুয়েট ছাত্রদলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন। যাই হোক, ভদ্রলোককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’

গণফোরামের সংসদ সদস্য মোকাব্বির খান দেশে সুশাসনের অভাব রয়েছে বলে যে অভিযোগ করেন তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আরেকজন সংসদ সদস্য বললেন, সুশাসনের অভাব। উনি যে দল থেকে এসেছেন, নবগঠিত দল। আসলে আওয়ামী লীগ ভেঙেই ওই দলটি গড়া হয়েছিল।’ তিনি আরো বলেন, ‘উনাদের নেতা আওয়ামী লীগই করতেন। তারপর চলে গিয়েছিলেন। কাজেই তার দলে কী ডিসিপ্লিনটা আছে? কী দলতন্ত্রটা আছে? যার নিজের দলেই সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, ডিসিপ্লিন নেই। যেখানে কেউ কথা বলতে গেলেই বলেন, খামোশ। তার কাছ থেকে কী আশা করা যায়?’ বিএনপির হারুনুর রশীদের বক্তব্যের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্য বললেন, প্রতিবার নির্বাচিত হলেই প্লট পাবেন। আমি তো সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আমি তো কোনো প্লট নিইনি।’

"