ওয়েস্ট ইন্ডিজে আবারও জয় দেখছে বাংলাদেশ

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০

আরিফ সোহেল

মাঠ ছোট; ত্রাসের নাম গেইল-রাসেল। তাতে ভয় নেই; বিশ্বকাপ ক্রিকেটে এখন সব ভয় অনাহূত বৃষ্টিকে ঘিরে। তবে সুখর কথা আজ সেই ভয়-ডরহীন টন্টনে। শুধু যৎ-কিঞ্চিত বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলেছেন প্রকৃতিবিদরা। তাতে মাঠ ভিজবে না। বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে একই সমতলে দুই দলের সেমিফাইনালের গল্প। উত্তেজনার রঙ ছড়ানো এক ম্যাচ; তেমন আবহ দেখার অধীর অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। বিশ্বকাপের অন্তিম যাত্রারথ সচল রাখতে বাংলাদেশের মতো এই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজও মরার আগে বাঁচার চেষ্টা করবে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে।

আবারও ওয়েস্ট ইন্ডিজ; আবারও জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। ম্যাচে নামার আগে পুরোনো গল্প-অনুগল্পের জাবর এগিয়ে রাখছে বাংলাদেশকেই। শুধু আয়ারল্যান্ডের সুখস্মৃতির কথাই নয়। ৩ ম্যাচেই জয়ী বাংলাদেশ। তার চেয়ে ১২ মাসে হিসাবটা মিলিয়ে চরম তৃপ্ত হওয়ার উপলক্ষ পাবেন ভক্তরা। এক বছরে মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশ ৭; ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২। বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে প্রতি ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। টন্টনে আরো বড় পরীক্ষা। পরীক্ষা দিতে হবে ক্যারিবীয় বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে। তবে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ তার পেস আক্রমণে পূর্ণ আস্থা রাখছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বৃষ্টিবিষণœ ম্যাচ কাটানোর বাংলাদেশের স্বপ্নজয়ের পথে এই আজকের ম্যাচটিই হতে পারে মাইলফলক। ভাবীকালে ম্যাচের আগে টন্টনেই হতে পারে চলতি বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল ছুঁয়ে দেখার প্রত্যাশা বুননের স্বপ্নসিঁড়ি।

বাংলাদেশ সব ভয়কে জয় করেই বিশ্বকাপে টিকে থাকার কঠিনতম লড়াইয়ে নামছে আজ। মন্ত্র তাদের এক ও অভিন্নÑ ‘বিশ্বকাপে টিকতে হলে জিততেই হবে’। তাই হিটার ক্রিস গেইল কিংবা আন্দ্রে রাসেলের হাঁকডাক নিয়ে ভাবছে না। তবে তাদের আলাদা করেই বধ করার ফাঁদ এঁটেছেন মাশরাফি-ওয়ালশরা। আইপিএল মাতানো এই হার্ড হিটারের সম্মিলিত ছক্কার সংখ্যা ৮৬। তবে বিশ্বকাপে ওদের ছক্কাজাদু অনেকটাই উধাও। তারপরও স্মরণতব্য গেইল-রাসেলের দিনে মহাতা-বীয় ব্যাটিংÑ অনভিপ্রেত ভাবার দরকার নেই।

বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ৪টি করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পয়েন্ট দুই দলেরই সমান ৩। তবে নেট রান রেটে এগিয়ে গেইলের দল। আর মুখোমুখি বিশ্বকাপ মঞ্চের বোঝাপড়ায় শতভাগ এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তারা ৪ ম্যাচের ৩টিই জিতেছে। ২০০৩ সালের ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৪৪ রানের পর বাংলাদেশ মাত্র ৮.১ ওভার ব্যাটিং করতে পেরেছে। তারপর শুরু হয় বৃষ্টি; আর থামেনি। ম্যাচ হয়েছিল পরিত্যক্ত। পাশাপাশি এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই কিন্তু দেশের মাটিতে বাংলাদেশ মাত্র ৫৮ রানে অল আউট হয়েছে। বিশ্বকাপে এটা বাংলাদেশের একটি নেতিবাচক রেকর্ড।

টন্টনে রোদ-বৃষ্টি-রোদ-বৃষ্টি; এই দ্বৈরথেই চলেছে ইনডোর, কখনো আউটডোর অনুশীলন। কার্ডিফ অধ্যায় শেষে করে টন্টনে এসে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ; আবার কখনো দেখা গেছে ঝলমলে রোদে। তবে আজকের ম্যাচের আগে এখানকার প্রকৃতিবিদদের পূর্বাভাসে স্বস্তির সংবাদ। সোমবাব বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম। সকালে বৃষ্টির ছিটেফোঁটা গন্ধ থাকলেও বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নির্বাসনে যাবে ক্রিকেটের আজন্ম এই শত্রু।

গতকাল অনুশীলন সেশন শেষে সাহসী উচ্চারণে বাংলাদেশকে মেলে ধরেছেন কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি এই পেস বোলার এখন তার দেশেরই জাত শত্রু। শতভাগ পেশাদার কোচ বলেছেন, ‘সম্প্রতি ম্যাচের আলোকে আমাদের ক্রিকেটাররা জানেÑ ওদের বিপক্ষে কী করতে হবে।’ আয়ারল্যান্ডে তিন জাতির আসরের মধুর স্মৃতির ক্যানভাসের আভায় মুখ উঠিয়ে বলেছেন, ‘ওখানে আমরা তিন বিভাগেই ওদের চেয়ে অনেক বেশি ধারাবাহিক ছিলাম। আগামী ম্যাচগুলোয় আবারও ধারাবাহিকতায় ফিরতে উদগ্রীব আমরা। টন্টনে ওদের নিয়ে ভয় নেই; ভয় সব জড়ো হয়েছে প্রকৃতি আর বৃষ্টি ঘিরে। যেখানে অবশ্য কারো হাতও নেই; কিছুই করার নেই।’ এই ম্যাচে পুরাপুরি পেস আক্রমণ নিয়েই বাংলাদেশ নামছে। ঠিক এমন ইঙ্গিত দিয়েছে কোচসহ টিম ম্যানেজমেন্ট। তার মানে এই ম্যাচে ফিরছেন পেসার রুবেল হোসেন। দলের একাদশ আরো পরিবর্তিত হতে পারে।

গত ১০ জুন ব্রিস্টলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচের আগে অনুশীলন করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দিন বৃষ্টি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে বাংলাদেশের সহজ স্বপ্ন। স্বপ্নযাত্রার পথটি ক্রমেই কঠিন হচ্ছে। লন্ডনের দ্য ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২১ রানের জয় দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ। একই মাঠে দুর্দান্ত খেলেও নিউজিল্যান্ডের ২ উইকেটের জয় রুখতে পারেনি। কার্ডিফে তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক সাকিবের সেঞ্চুরি ছাড়া খুঁজে পাওয়া যায়নি টিম বাংলাদেশকে।

চার ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে ক্যারিবীয়রা। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৩ পয়েন্ট পেলেও রান রেটে পিছিয়ে বাংলাদেশ আছে সাতে। আশার কথা হলো যাদের নিয়ে এত ভয়, সেই গেইল ও রাসেল এখনো ব্যাটে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেননি। কোর্টনি ওয়ালশ ওই গেইল ও রাসেলকে নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনা করছেন। বলেছেন, ‘তাদের নিয়ে আমরা কিছু পরিকল্পনা করেছি। তারা দুজনই গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তাদের থামানোর চেষ্টা করতে হবে এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য দ্রুত আউট করতে হবে। তাদের ওপর মনোযোগ দিতে হবে। কারণ তারা দুজনেই খুবই ভালো খেলোয়াড়।’ মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের সঙ্গে আজ রুবেল হোসেনকে মাঠে চাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট। ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন এলে সুযোগ মিলতে পারে লিটন দাসেরও। সাকিবকে নিয়ে যে ভয় ছিল; তা কেটে গেছে। খেলছেন তিনি। তবে পরশু মুশফিককে পড়তে হয়েছে আঙুলে চোটে। যদিও তাকে নিয়ে শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

"