সেনাসদরে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনীকে জনগণের পাশে থাকতে হবে

প্রকাশ : ১৭ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব যোগ্য, দক্ষ, কর্মক্ষম এবং দেশপ্রেমিক অফিসারদের হাতে ন্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীকে সবসময় জনগণের পাশে থাকতে হবে। এজন্য নেতৃত্ব ও পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা, সততা ও আনুগত্য বিবেচনায় নিয়ে পদোন্নতি দিতে হবে। গতকাল রোববার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর নির্বাচন পর্ষদ-২০১৯ এর সভায় সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি এ কথা বলেন। এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর ১৯টি অভ্যুত্থানের ঘটনা তুলে ধরেন।

১৯৮১ সালে নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফেরার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, যখন দেশে ফিরলাম তখন বলেছিলাম এই আত্মঘাতী অবস্থা আমরা চাই না। দেশের সর্বক্ষেত্রে শান্তি চাই। মনোবল ছিল দেশে ফিরেছিলাম। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসই আমার মূলশক্তি। বর্তমানে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা আমাদের একটা অর্জন।

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর করা প্রতিরক্ষা নীতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার দূরদৃষ্টি ছিল। দেশের সেনাবাহিনী কেমন হবে সেই চিন্তাতেই তিনি নীতিমালা তৈরি করেছিলেন। ফোর্সেস গোল ২০৩০ ওই নীতিমালার ভিত্তিতেই প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন চিত্র তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলে থাকার সময়ই তিনি দেশের উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। কোন খাতে কি ধরনের উন্নয়ন করা হবে পরিকল্পনাতে সেসব বিষয় ছিল।

আগামী অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগামী অর্থবছরে দশমিক ২০ ভাগ হবে। পরবর্তী সময়ে দুই অংকে নিয়ে যাব। মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন হলে প্রবৃদ্ধি আরো বাড়বে বলে জানান তিনি। প্রবৃদ্ধি যখন বাড়ে তখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে তার সুফল পায় সাধারণ মানুষ। মানুষ ধীরে ধীরে দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসছে। ৫ কোটি মানুষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নে আমরা অগ্রগামী। এবারের ওআইসি সম্মেলনে আমাদের নারীর ক্ষমতায়নের মূল্যায়ন হয়েছে এবং প্রশংসা করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত এ পর্ষদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের জন্য যোগ্য ও দক্ষ অফিসাররা সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে পদোন্নতি পাবেন। সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির লক্ষ্যে রোববার থেকে শুরু হয়ে সেনাসদর নির্বাচন পর্ষদ-২০১৯ চলবে পাঁচদিন ধরে। পর্ষদে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী সকালে সেনাসদরে পৌঁছলে তাকে স্বাগত জানান সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রতিরক্ষা সচিব আখতার হুসেইন ভূঁইয়া এবং সশস্ত্রবাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মাহফুজুর রহমান ছিলেন।

 

"