বিএনপির প্রতিক্রিয়া

আকার বড় করার প্রতিযোগিতার বাজেট

প্রকাশ | ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাজেটকে উচ্চাভিলাষী মন্তব্য করে এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি বলেছে, বাজেটের আকার দিন দিন বড় করার চমক সৃষ্টির প্রতিযোগিতায় নেমেছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবিরোধী বলেও দাবি করেছে দলটি।

গতকাল শুক্রবার বিকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সরকারের আগামী অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক দলীয় প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গতকাল অর্থমন্ত্রী ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী বাজেট ঘোষণা করেছেন। বাজেট বৃদ্ধির এ প্রগলভতা বছর শেষে চুপসে যেতে দেখা যায়। এ বাজেট নিয়ে জনমনে কোনো উচ্ছ্বাস নেই। তিনি বলেন, এ বাজেট জনগণের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে গেছে। এটা গণবিরোধী বাজেট। সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিদায়ী বাজেটের আকার ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। এ হিসাবে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। বর্তমান বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। এ হিসাবে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর নিয়ন্ত্রিত করের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এনবিআরবহির্ভূত করের পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি আর কর ছাড়া প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এ ছাড়া বৈদেশিক উৎস থেকে ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা।

ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিশাল আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে; যার সিংহভাগই ধরা হয়েছে এনবিআর থেকে। অথচ চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রায় বেশ ঘাটতি রয়েছে। তার ওপর এবার আরো বড় আকারের আদায়ের পরিকল্পনা। এটা রাতারাতি সম্ভব নয়। বর্তমানে যে ব্যবস্থাপনা রয়েছে, তাতে ঘাটতি বরং আরো বাড়বে।

বাজেট নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, এই বাজেট সারা বছরে সরকারের ব্যর্থতার দলিল। এর মাধ্যমে জনগণের ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এ বাজেট জনগণের কাছে আকর্ষণ সৃষ্টি করতে পারেনি। কারণ সরকার জনগণের কথা শোনে না, তাই তারা তাদের কাছে দায়বদ্ধও নয়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ একমাত্র দেশ, যেখানে জনগণ নয়, একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায়। এ সরকার তাদের নিজেদের স্বার্থে বাজেট দিয়েছে।

 

"