বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়া

প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছি, যা দেশের জিডিপির ১৮ দশমিক ১ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য প্রবৃদ্ধি উচ্চস্তরে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো, ব্যবসাবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, আর্থিক খাতের সংস্কার ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করছি। এ ছাড়া সরকারের গৃহীত মেগা প্রকল্প ছাড়াও অবকাঠামো খাতে গুরুত্ব দিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ে বাস্তবায়ন করা হবে। এটি জনকল্যাণমূলক বাজেট। আমরা বাজেট এমনভাবে করে দিয়েছি, যা সব মানুষেরই কাজে লাগবে। এ ছাড়া নতুন মূল্য সংযোজন করের (মূসক) বা ভ্যাট আইন ব্যবসায়ীরা খুশি মনেই বাস্তবায়ন করবেন বলে আশাবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার সূচনা বক্তব্যে প্রতিটি খাত ধরেই বাজেটে বরাদ্দ ও এর পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন।

গতকাল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী নিজেই এই সংবাদ সম্মেলন করেন। অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার সবাইকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সূচনা বক্তব্য রাখতে বললে তিনি বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনের সূচনা বক্তব্য শুরু করেন। রীতি অনুযায়ী বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে মূল আয়োজক ও বক্তা থাকেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে এবার আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থিত হতে পারেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে মঞ্চে ডেকে নেন সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতকে। এ ছাড়া কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা খাতে সরকারে সামগ্রিক লক্ষ্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে, বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে জ্ঞান বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদেরও আধুনিক বিশ্বের সমতুল্য করে তোলা হবে। এ ছাড়া মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করাও সরকারের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান রাখা হয়েছে। এই খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৮৭ হাজার ৬২০ কোটি, যা মোট বাজেটের বরাদ্দের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও জিডিপির ৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। কেবল শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নয়, ২৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ-সংক্রান্ত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

স্বাস্থ্য খাতকেও সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে দেশব্যাপী সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৪০ জন করে সেবা নিয়ে থাকে, এর ৮০ শতাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য ও অন্যান্য সামাজিক সেবাও নিশ্চিত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২৫ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমান অর্থবছরে ছিল ২২ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা। আর স্বাস্থ্য খাতেও কেবল স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় নয়, ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এই খাতে মোট বরাদ্দ ২৯ হাজার ৪৬৪ কোটি টাকা, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ ও বাজেটের ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে উৎসাহিত করতে স্টার্টআপের জন্যও ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে।

নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট আইন ব্যবসায়ীরা খুশি মনেই বাস্তবায়ন করতে সহায়তা করবেন বলে আশাবাদ জানিয়েছে শেখ হাসিনা বলেন, ভ্যাট আইনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেন জিনিসপত্রের দাম না বাড়ে। অর্থাৎ এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সব সময় চেষ্টা করেছি, ব্যাংকঋণের ওপর সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে থাকে। কতগুলো সুবিধাও দিলাম। মানেনি। বাজেটে বলা আছে, নির্দেশনা আছে, কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। নিয়মটা মেনে চলতে হবে, যেন ঋণ সুদ সিঙ্গেল ডিজিটে হয়। ডাবল না হয়। তাতে বিনিয়োগ বেশি হবে। অনেক আইন সংশোধন করব। সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে ব্যাংকের মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হবে। যেসব ঋণগ্রহীতা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে পরিশোধ না করার জন্যই ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি হয়ে যান, সেসব ঋণ গ্রহীতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বৃহৎ ঋণগুলোকে আরো নিবিড়ভাবে পরীবিক্ষণ ও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ মনিটরিং ব্যবস্থাকে জোরদার করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আমরা শেয়ারবাজারে সুশাসন দেখতে চাই। আমাদের দেশের জন্য একটি শক্তিশালী অর্থনীতির পাশাপাশি আমরা দেখতে চাই একটি বিকশিত পুঁজিবাজার। শিল্প বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সংগ্রহের আদর্শ মাধ্যম হচ্ছে পুঁজিবাজার। এ বিষয়ে আমরা সর্বাত্মক উদ্যোগ নিচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০৩০ সাল নাগাদ ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বাজেটে কর্মসংস্থানের কথা বলেছি। চাকরি দেওয়ার কথা বলিনি। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আমরা এক শ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। এই বরাদ্দ শিক্ষা, প্রযুক্তি, কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণে ব্যয় হবে। আমরা চাই প্রশিক্ষণ নিয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী যেন নিজের কাজ নিজে করতে পারেন। কাজেই তিন কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা আছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না। এত বেশি বেকার যদি থাকে, তাহলে তো ধান কাটলেও ৪০০-৫০০ টাকা পাওয়া যাবে। প্লাস দুই বেলা খাবার বাড়িতে। সেই লোক কেন পাওয়া যাচ্ছে না, বিবেচনা করেছেন। কর্মসংস্থানের সুযোগ আছে বলেই ধান কাটার লোক নেই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ যেন পেটভরে খেতে পারে, সেই সুযোগ তৈরি করা। আমরা একশোটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে ?তুলছি। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। একেকটি প্রকল্প হলে কত মানুষের কাজ হবে, চাকরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘পত্রিকার মাধ্যমে দেখেছি, ধান কাটার লোক পাওয়া যায় না। শ্রমিকরা আরো বেশি টাকা চায়। এই যে শ্রমের মূল্য বেড়েছে, চাহিদা বেড়েছে। বেকার লোকের অভাব আছে বলেই তো।’

দেশ থেকে অর্থ পাচার ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছেÑ এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, অর্থপাচার ঠেকাতে আলাদা কমিটি আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়Ñ সব মিলিয়েই কমিটি আছে। আন্তর্জাতিক কমিটিও আছে। সবাই মিলে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে অর্থপাচার যেখানেই হচ্ছে, ধরা পড়ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

দেশ থেকে যেন অর্থপাচার হয়ে না যায়, সে কারণে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই অপ্রদর্শিত অর্থপাচার করতে চায়। এটা বন্ধ করার জন্যই বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা আমরাই কেবল নই, এর আগের সব সরকারই এ সুযোগ দিয়েছে। আমরাও এর আগে এই সুযোগ দিয়েছি। এখনো দিচ্ছি। মাঝে মাঝে সেই সুযোগ বন্ধও করেছি। তবে কালো টাকার স্তূপ যেন গড়ে না ওঠে, তাই এই টাকা প্রদর্শন করার সুযোগও করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, অপ্রদর্শিত টাকা যেন বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকে, তাই আমরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি করে দিয়েছি। চাইলে সেখানে বিনিয়োগ করার সুযোগ থাকবে। তবে সেখানে বিনিয়োগ করতে চাইলেও সুনির্দিষ্ট হারে চার্জ বা সুদ দিতে হবে। এই সুনির্দিষ্ট হারের অতিরিক্ত চার্জ বা ফি জমা দিয়েই কালো টাকার মালিকরা বিনিয়োগ করতে পারবেন। আর এ ধরনের বিনিয়োগ করলে তাকে আর প্রশ্ন করা হবে না। ভবিষ্যতে যেন এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন না করা হয়, সে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

বাজেটে সোনালি যুদ্ধের কথা বলা হয়েছে। এই সোনালি যুদ্ধ কীÑ এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ যেন সোনালি দিন দেখতে পায়, সেটিকেই সোনালি যুদ্ধ বলা হয়েছে। এটি অকল্যাণ, ধ্বংস নয়, সৃষ্টির যুদ্ধ।’

২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ হাজার কোটি টাকা, যা সর্বশেষ ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকার সব ক্ষেত্রে সফল হলেও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে সফল হতে পারছে না কেনÑ এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খবর নেবেন, পত্রিকার মালিকরা কে কোন ব্যাংক থেকে কত টাকা ঋণ নিয়েছেন। সব ব্যাংক থেকে এই তথ্য বের করেন। যত মিডিয়া আছে, প্রত্যেকে বলবেন, কোন মালিক কোন ব্যাংকের কত টাকা ঋণ নিয়ে কত টাকা শোধ দেননি। খেলাপি হয়ে নিজেরা হিসাব করলে আমাকে আর প্রশ্ন করতে হবে না।’ পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মালিকদের এই খেলাপি ঋণের হিসাব নিয়ে তবেই যেন পত্রপত্রিকায় এ বিষয়ে লেখা হয়, সেই আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের এখানে সুদের হার অনেক বশি। ব্যাংকগুলোতে চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ হয়। আবার খেলাপি ঋণের হিসাব যখন দেওয়া হয়, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ যোগ হয়ে যে ঋণের পরিমাণটা দাঁড়ায়, সেই হিসাব প্রকাশ করা হয়। ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি দেখায়। প্রকৃত ঋণ আসলে অতটা নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চক্রবৃদ্ধি হারে সুদসহ খেলাপি ঋণ ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের কিছু দুর্বলতা আছে। ধীরে ধীরে বিষয়গুলো অ্যাডজাস্ট করা হচ্ছে। আমরাও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর আমরা আগেও বলেছি, খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণও শোধ দেওয়ার সুযোগ দেব। সেই প্রক্রিয়া চলছে।

বাজেটে দুঃশাসনের সুবিধাভোগীরা সুবিধা পাবেÑ অর্থনৈতিক গবেষকদের এমন মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভালো না লাগা পার্টি যারা তাদের কোনো কিছুতেই ভালো লাগবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কিছু লোক থাকে যাদের একটা মানসিক অসুস্থতা থাকে, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। আপনি যতই ভালো কাজ করেন, তারা কোনো কিছুতেই ভালো খুঁজে দেখে না। যখন দেশে একটা গণতান্ত্রিক পদ্ধতি থাকে, যখন দেশে অর্থনৈতিক উন্নতি হয়, সাধারণ মানুষের উন্নতি হয়; তখন তারা কোনো কিছুই ভালো দেখে না। সবকিছুতেই কিন্তু খোঁজে।’

তিনি বলেন, ‘যাদের গবেষণা, তারা কী গবেষণা করে আমি জানি না। তারপরও তাদের একটা কিছু বলতে হবে। সেটা ভালো। আবার এত সমালোচনা করেও তারা বলবে আমরা কথা বলতে পারি না। এ রোগটাও আছে আবার। এটা অনেকটা অসুস্থতার মতো।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমার কথা হচ্ছে সাধারণ জনগণ খুশি কি না, সাধারণ মানুষ খুশি কি না। সাধারণ মানুষ তাদের ভালো করতে পারছি কি নাÑ এটা হচ্ছে বড় কথা। বাজেটের সুফলটা কিন্তু একেবারে গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আর এ ভালো না লাগা পার্টি যারা, তাদের কোনো কিছুতেই ভালো লাগবে না। তারা গবেষণা করে কি আনতে পারলেন, দেশের জন্য সেটা আমি জানি না। তবে এটা নিয়ে আমার বেশি একটা মাথা ব্যথা নেই। আমি এইটুকু বলব, দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা, দেশকে উন্নত করা, সমৃদ্ধশালী করা এবং স্বাধীনতার সুফলটা যেন দেশের প্রতিটি মানুষের ঘরে পৌঁছায় সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সে লক্ষ্যে নিয়েই কাজ করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে আমি মনে করি, আমরা যথেষ্ট অগ্রগতি আনতে সক্ষম হয়েছি। এখন বাংলাদেশ বাইরে গেলে আগে যারা মনে করত আমরা ভিক্ষুকের জাত হিসেবে যাচ্ছি, এখন আর কেউ তা মনে করে না। এটাই হচ্ছে আমাদের সব থেকে বড় অর্জন। যারা সমালোচনা করার তারা করে যাক। ভালো কথা বললে আমরা গ্রহণ করব। মন্দ কথা বললে আমরা ধর্তব্যে নেব না। পরিষ্কার কথা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা ও পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট নিহতদের স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। আর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের জন্য দোয়া চেয়ে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য শেষ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

"