বছরে ৫০ লাখ টাকার কম বিক্রিতে ভ্যাট নয়

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট নেটের আওতার বাইরে রাখতে ৫০ লাখ টাকার কম বার্ষিক টার্নওভারকে মূসক বা ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের সঙ্গে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর একগুচ্ছ সংশোধনী প্রস্তাব করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দীর্ঘ প্রতিক্ষিত আমাদের ভ্যাট আইন, ২০১২ আগামী অর্থবছর (২০১৯-২০) থেকে আমরা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এই আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবলসহ আনুষঙ্গিক সব ধরনের সহায়তা আমরা নিশ্চিত করব। আরো থাকবে সরকারি এবং বেসরকারি খাতের সমন্বয়ে গঠিত একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ, ‘যারা আইনটি বাস্তবায়নে তদারকি করবেন।’

নতুন মূসক আইনটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার ভিত্তিতে তৈরি জানিয়ে আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় বলেন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ নামীয় আইনটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার ভিত্তিতে প্রণীত, এটি ঊধংব ঙভ ফড়রহম নঁংরহবংং-সূচকে প্রভূত উন্নয়ন সাধন করবে। ব্যবসায়ীদের অনুরোধে কয়েক দফা পেছানোর পর এ বছর মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনানুষ্ঠানিক ঐকমত্য হয়েছে। আইনটিকে যুগোপযোগী করা এবং মূসক হারের পুনর্বিন্যাস করার প্রস্তাব অর্থবিল আকারে এ বাজেটে উত্থাপিত হচ্ছে।

অধিকতর যুগোপযোগী ও ব্যবসায়-বান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন আইনে কিছু সংস্কার ও সহজীকরণের প্রস্তাব করেন তিনি। যেগুলোর মধ্যে রয়েছে, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে উৎসাহ দিতে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভারের ক্ষেত্রে ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেওয়ার সুযোগ, মূসক নিবন্ধন সীমা ৮০ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা করা, ১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্ট পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ, ৭ দশমিক ৫ ও ১০ শতাংশ মূসক আরোপ, স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে করভার কমানোর জন্য মূসক হার ৫ শতাংশ নির্ধারণ, ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে বর্তমানের মতো স্থানীয় ব্যবসায়ী পর্যায়ে মূসকের হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৪ শতাংশ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখা এবং পণ্য ও সেবার সরবরাহের ক্ষেত্রে চালানের তথ্য ধারণের জন্য দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) এবং সেলস ডেটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকার ইএফডি মেশিন ক্রয়ের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। পাশাপাশি বাজেট প্রস্তাবে সংশোধিত আইনের বিশেষ কিছু দিকও তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী, যার মধ্যে উল্লেখযোগ হলো পণ্য সরবরাহের আগে বিদ্যমান মূল্য ঘোষণা পদ্ধতি বাতিল করে বিনিময় বা ন্যায্য বাজার মূল্যের ভিত্তিতে কর পরিশোধের ব্যবস্থা, যে ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক প্রযোজ্য সেক্ষেত্রে দাখিলপত্রের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাবে এবং দাখিলপত্রই রিফান্ডের আবেদন হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

"