করজাল বিস্তৃতির বাজেট

* আয় : ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা * ঘাটতি : ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা * মূল্যস্ফীতি : মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ * এডিপি : ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা

প্রকাশ : ১৪ জুন ২০১৯, ০০:০০

শাহজাহান সাজু

বিশাল ব্যয় ও অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ‘সমৃদ্ধ আগামীর’ প্রত্যাশায় আওয়ামী লীগের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয় বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি।

নতুন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবার গ্রামীণ উন্নয়নকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে বাজেট তৈরি করেছেন। এতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গ্রামে শহরের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়ন বরাদ্দ বাড়িয়েছেন। এ অর্থে গ্রামের অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামের হাট বাজারগুলো অর্থনৈতিক পাওয়ার হাউস হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। এছাড়াও গ্রামের মানুষের কাছাকাছি প্রশাসনিক ক্ষমতা পৌঁছে দেওয়া, ব্যাংকিং সুবিধার প্রসারের জন্য বাজেটে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব বিবেচনায় অর্থনীতিবিদরা একে গ্রামবান্ধব বাজেট হিসাবে অভিহিত করছেন।

গতকাল বিকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রস্তাবিত বাজেটে শেষ পর্যন্ত ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভ্যাট আইন, ২০১২ এর বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসায়ীদের অব্যাহত দাবির প্রেক্ষাপটে নতুন আইনে ৫টি ভ্যাটের হার রেখে তা কার্যকরের ঘোষণা দিলেন তিনি। এই নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে মূসক জালের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ আইনটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় ব্যবসায়ীদের হিসাবে স্বচ্ছতা আসবে। ফলে মূসক ফাঁকি রোধ হওয়ার সঙ্গে রাজস্ব আয় বাড়বে। তাছাড়া জনগণের কাছ থেকে মূসক নিয়ে যারা সরকারের কোষাগারে জমা দেন না; আইনটি বাস্তবায়িত হলে তারাও চলে আসবেন করজালের আওতায়। একইসঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার সংখ্যা ১ কোটিতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও করেছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে দেশে রিটার্ন দাখিলকারীর সংখ্যা মাত্র ২২ লাখ।

অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভ্যাট আইন, ২০১২ আগামী অর্থবছর (২০১৯-২০) থেকে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। এই আইনটির যথাযথ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জনবলসহ আনুষঙ্গিক সব রকমের সহায়তা আমরা নিশ্চিত করব।

নতুন মূসক আইনটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার ভিত্তিতে তৈরি জানিয়ে মুস্তফা কামাল প্রস্তাবিত বাজেট বক্তব্যে বলেন, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ নামীয় আইনটি আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চার ভিত্তিতে প্রণীত, এটি ঊধংব ঙভ ফড়রহম নঁংরহবংং-সূচকে প্রভূত উন্নয়ন সাধন করবে।

বিনিয়োগকারীদের ও ব্যবসায়ী মহলের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে অধিকতর যুগোপযোগী ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে নতুন আইনে কিছু সংস্কার ও সহজীকরণের প্রস্তাব করে মুস্তফা কামাল বলেন, ১৫ শতাংশ মূসকের পাশাপাশি নির্দিষ্টকৃত পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ মূসক আরোপ; পণ্যের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে ওষুধ ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ২.৪ শতাংশ এবং ২ শতাংশ অব্যাহত রাখা হয়েছে। নতুন আইনটি অনলাইন ভিত্তিক বিধায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার সরবরাহের ক্ষেত্রে চালানের তথ্য ধারণের জন্য দোকান ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রনিক ফিসকাল ডিভাই (ইএফডি) এবং সেলস ডেটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, নতুন আইনটি অনলাইনভিত্তিক। ফলে নতুন আইনে অনলাইনে রিটার্ন জমা, ভ্যাট পরিশোধসহ যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হওয়ার কথা রয়েছে। অথচ দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এখনো অনলাইনে ব্যবসা পরিচালনা করে না। একই সঙ্গে নতুন এ আইনে অনেক ক্ষেত্রে উপকরণে কর রেয়াত নেওয়া কঠিন হবে। তবে তিনি যদি আইনটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন তাহলে মূসক জালের ব্যাপক বিস্তৃতি বিস্তৃতি ঘটবে। একইসঙ্গে ভ্যাট বাড়াবে সরকারের রাজস্ব আয়।

এদিকে, বর্তমানে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের যে অবস্থা, তাতে অটোমেশনের কাজ শেষ হতে আরো অনেক সময় লাগতে পারে। তাছাড়া বিগত দিনে ইসিআর (ইলেক্টনিক ক্যাশ রেজিস্ট্রার) মেশিন প্রকল্প বাস্তবায়নের অবস্থা সুখকর।

ভ্যাট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অটোমেশনের পূর্ণ বাস্তবায়ন ছাড়া এই আইন কার্যকর করা কঠিন হবে।

প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আরো বলেছেন, যেক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ মূসক প্রযোজ্য সেক্ষেত্রে দাখিলপত্রের মাধ্যমে উপকরণ কর রেয়াত গ্রহণ করা যাবে।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, নতুন আইনে যারা ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দেবেন, আসলে তারাই রেয়াত পাবেন। এই শ্রেণি সাধারণত বড় ব্যবসায়ীরা। ফলে তারা প্রকৃত ভ্যাট সিস্টেমে থাকবেন। অন্যদিকে, ১৫ শতাংশের নিচে অর্থাৎ ৫, ৭.৫ ও ১০ শতাংশ হারে যারা ভ্যাট দেবেন তারা রেয়াত সুবিধা পাবেন না। এ পদ্ধতি প্রকারান্তরে আবগারি প্রথা চালুর শামিল যা ভ্যাট আইনের পরিপন্থি। অর্থাৎ এক পক্ষ রেয়াত পাবেন, অন্য পক্ষ রেয়াত পাবেন না। একই আইনে দুই পদ্ধতি চালু করা হলে ট্যাক্স অন ট্যাক্স অর্থাৎ করের ওপর কর (দ্বৈত কর) আরোপ করা হবে মনে করেন তিনি।

ভ্যাট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আইনে যে রেটগুলো নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, মোট করভার পণ্য ও সেবার মূল্যে গড়ে ২৭ শতাংশ থেকে সাড়ে ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে, যা বর্তমানে রয়েছে ২০ শতাংশ। এ প্রস্তাব কার্যকর হলে ভ্যাট আহরণের ক্ষেত্রে করের ওপর কর বা দ্বৈত কর ব্যবস্থা চালু হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেন তারা।

বাজেট বক্তব্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূসক নেটের বাইরে রাখার জন্য বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত মূসক অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করেছেন তিনি। তাছাড়া বার্ষিক টার্নওভার ৫০ লাখ টাকা হতে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার কর দেওয়ার সুযোগের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতকে উৎসাহ প্রদানের কথা বলেছেন তিনি। এর বাইরে বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষিত বেকারদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে ঋণ দেওয়ার জন্য বিশেষ তহবিল গঠন, নারী উদ্যোক্তাদের প্রণোদনা, প্রবাসীদের জন্য বিমা ব্যবস্থা চালু করা, তৈরি পোশাক শিল্পে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বাজেটে নানা স্বপ্নের কথা বলেছেন। রাজস্ব আয় থেকে শুরু করে উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রবৃদ্ধি অর্জন সবকিছুতে উচ্চ আকাক্সক্ষার কথা শুনিয়েছেন। তবে এবারও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আয় করে তা জনগণের কল্যাণে খরচ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ঘোষণার পাশাপাশি উচ্চ রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা আদায়ে নানা কৌশলে তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে করের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণের কথা বলেছেন। বিভিন্ন খাতকে উৎসে করের আওতায় আনার প্রস্তাব করেছেন। তবে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ, মূল্যস্ফীতিসহ সামষ্টিক অর্থনীতির অধিকাংশ সূচক বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এটা তাকে স্বস্তি দেবে।

বিশাল ব্যয়ের বাজেটে অর্থমন্ত্রী নানামুখী জনতুষ্টির ঘোষণার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বন্ধ্যত্ব কাটাতে নানা ধরনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন এবারের বাজেটে। এক্ষেত্রে বিভিন্ন খাতকে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। সেখানে কালো টাকা বিনিয়োগ করলে কোনো প্রশ্ন তোলা হবে না।

প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যুবকদের ব্যবসায়ী করে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন। যুবকদের ব্যবসা শুরুর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। এছাড়া বৈধপথে রেমিট্যান্স আনার জন্য আগামী অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা রাখা হচ্ছে। এজন্য আগামী অর্থবছরের জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রবাসী কর্মীদের বিমার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে পোশাক খাতে সর্বোচ্চ ৪টি খাতে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে সব খাতে তৈরি পোশাক রফতানিতে ১ শতাংশ হারে রফতানি প্রণোদনার প্রস্তাব করেন মুস্তফা কামাল। এ খাতে প্রণোদনা বাবদ ২ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়ন খাতে অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এছাড়া বাজেটে বেশকিছু সংস্কারের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সঞ্চয়পত্র কেনা-বেচা আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া সঞ্চয়পত্র ক্রয় নিয়ন্ত্রণে জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ইএফটির মাধ্যমে পেনশন প্রদানের উদ্যোগের কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের গ্রুপ বিমার আওতায় আনতে সমন্বিত বিমা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে শিগগির ইউনিভার্সেল পেনশন অথরিটি গঠন করা হবে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হয়নি। করপোরেট করহারও অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে পুঁজিবাজারে করমুক্ত লভ্যাংশ ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া বোনাস শেয়ার এবং রিজার্ভ ৫০ শতাংশের বেশি হলে ১৫ শতাংশ নতুন করে কর আরোপ করার প্রস্তাব হয়েছে।

বাজেট পরিসংখ্যান : আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের মূল বাজেট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা থাকলেও সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে করা হয় ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫৪১কোটি টাকা। তবে বড় বাজেট দেওয়া হবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হবে না এই রীতি থেকে এবারও বাজেটকে বের করে আনতে পারেননি অর্থমন্ত্রী।

আগামী অর্থবছরের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর, এনবিআরবহির্ভূত কর, কর ব্যতীত প্রাপ্তি ও সম্ভাব্য বৈদেশিক অনুদান মিলিয়ে রাজস্ব প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অবশ্য সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে করা হয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৬১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে প্রত্যাশা অর্থমন্ত্রী। ফলে এনবিআরের কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ১৬ দশমিক ২৮ শতাংশ। গতবারের মতো এবারও সবচেয়ে বেশি কর আদায়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা। বিদায়ী অর্থবছরের বাজেটে ভ্যাট থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৫৫৪ কোটি টাকা। লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়। আয়কর ও মুনাফার ওপর কর থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার আশা করা হয়েছে এবারের বাজেটে। বিদায়ী সংশোধিত বাজেটে এর পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন বাজেটে আমদানি শুল্ক থেকে ৩৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা, সম্পূরক শুল্ক থেকে ৪৮ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা, রফতানি শুল্ক থেকে ৫৪ কোটি টাকা, আবগারি শুল্ক থেকে ২ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা এবং অন্যান্য কর ও শুল্ক থেকে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা পাওয়া যাবে বলে বাজেটে প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেট ঘাটতি (অনুদান ছাড়া) আগামী অর্থবছরের জন্য ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে তা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা যা পরে করা হয় ১ লাখ ২৫ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা।

অর্থ সংস্থানের মধ্যে আগামী অর্থবছরে বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ৭৫ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ লক্ষ্য ৬০ হাজার ৫৮৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ৭১ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। ব্যাংক ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় উৎস হচ্ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রি। আগামী অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ২৭ হাজার কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারলে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে আটকে রেখেই ৮ দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পাওয়ার কথা শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, ভ্যাট আইনের দ্বিতীয় তফসিল এবং এক্সাইজ অ্যান্ড সল্ট অ্যাক্টের প্রস্তাবগুলো ‘দ্য প্রভিশনাল কালেকশন অব ট্যাক্সেস অ্যাক্ট, ১৯৩১’ অনুযায়ী জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের তারিখ থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে।

 

"