সংসদে উচ্চকণ্ঠ হলেন বিএনপির এমপিরা

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাপ ছড়িয়েছেন বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। তারা ঈদের আগে চাঁদ দেখা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ধর্মমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্যে সংসদ অধিবেশনে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি দলের সদস্যরা হৈ হট্টগোল শুরু করেন। এই উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে বিএনপি এমপিদের মাইক বন্ধ করে দেন স্পিকার।গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে চলা অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে আলোচনার সুযোগ নিয়ে বক্তব্য দিলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন কক্ষ। বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের এ নিয়ে সমালোচনার এক পর্যায়ে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদ ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন। চাঁদ দেখা ইস্যুতে বিএনপি সদস্যদের বক্তব্যকে সমর্থন জানান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা। এরপর বিএনপির অপর সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সংসদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান, শুরু হয় হট্টগোল।

সর্বশেষ আলোচনার সুযোগ নিয়ে রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য নিজে শপথ নিয়ে বর্তমান সংসদ যে বৈধ, তার প্রমাণ দিয়েছেন। আবার অধিবেশনে সংসদকে অবৈধ বলে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অপমাণিত করেছেন, ভোটারদের অবমাননা করেছেন। তিনি বিএনপির সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য এক্সপাঞ্জের দাবি জানান। এ সময় স্পিকার কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আপত্তিকর অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করে দেন।

এর আগে বিএনপির হারুন অর রশিদ ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে বিভ্রাটের সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম হচ্ছে ইসলাম। ঈদের চাঁদ দেখার কমিটি রয়েছে। চাঁদ দেখা যায় সন্ধ্যার সময়। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রথমে ঘোষণা দিলেন কোথাও চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ হবে না। আবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ করেই আবার বলা হলো চাঁদ দেখা গেছে কাল ঈদ। এ নিয়ে জনমনে মারাত্মক ভোগান্তির সৃষ্টি করেছে।

সর্বশেষ ফ্লোর নিয়ে বর্তমান সংসদকে অবৈধ বলায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়েন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের একমাত্র সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ফ্লোর নিয়ে তিনি সংসদের বৈধতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তাকে রাজনৈতিক কারণে জামিন দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে জাতীয় পার্টির ডা. রুস্তম আলী ফরাজী ফ্লোর নিয়ে বলেন, ৯০ ভাগেরও বেশি ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ, তবুও বিক্রি হচ্ছে। আর চাঁদ দেখা নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তড়িঘড়ি করা উচিত হয়নি।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে দেশে মদ-জুয়ার লাইসেন্স দেন। জঙ্গিবাদ, বাংলা ভাই-শায়খ আবদুর রহমানদের তৎপরতা বিএনপি আমলে দেশবাসী দেখেছে। কিন্তু ঈদে চাঁদ দেখানো নিয়ে জনগণকে ভোগান্তি দেওয়া হয়েছে। আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বালিশের দাম নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় চলছে।

সরকারি দলের পংকজ দেবনাথ বলেন, জনমতের চাপে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এদিন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। সম্পূর্ণ বিনা অপরাধে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিএনপি-জামায়াত জোটের দুঃশাসন-লুটপাটের কারণেই এই ওয়ান ইলেভেনের সৃষ্টি হয়েছিল।

 

"