সংসদ অধিবেশন শুরু

কাল বাজেট পেশ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০

সংসদ প্রতিবেদক

একাদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকারের প্রথম এই বাজেট অধিবেশনটি শুরু হয়। অধিবেশন শুরুর দিনে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী ও এমপিরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ অধিবেশন ১১ জুলাই পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করবেন। অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সব এমপি ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাজেট অধিবেশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি আশা করি সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা সরকারি আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুচিন্তিত মতামত দিয়ে বাজেটকে আরো বাস্তবমুখী করার ওপর আলোচনা করবেন।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিদিন অধিবেশন বসবে বিকেলে। স্পিকার প্রয়োজনে অধিবেশনের মেয়াদ ও সময়সীমা বাড়াতে এবং কমাতে পারবেন। স্পিকারের সভাপতিত্বে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে কমিটির সদস্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, রওশন এরশাদ, আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, আনিসুল হক, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং নূর-ই-আলম চৌধুরী বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

অর্থমন্ত্রীর বাজেট প্রস্তাবনার পর অধিবেশনজুড়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। সংবিধান অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যেই নতুন অর্থবছরের বাজেট পাস করতে হবে। বাজেট অধিবেশন সাধারণত দীর্ঘ সময় হয়ে থাকে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পাস হওয়া পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার ৪টি সরকারি দিবস হিসেবে গণ্য হবে। ১৭ জুন সম্পূরক বাজেট আলোচনার পর পাস করা হবে। ১৮ জুন হতে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। ২২ ও ২৯ জুন এই দুই শনিবার অধিবেশন কার্যক্রম চলবে। প্রতিদিন বিকাল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে।

এ অধিবেশনে উত্থাপনের জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। পূর্বে অনিষ্পন্ন ৩টি সরকারি বিল পাশের জন্য কমিটিতে পরীক্ষাধীন রয়েছে। বেসরকারি সদস্যদের কাছ হতে কোনো বিলের নোটিশ পাওয়া যায়নি। পূর্বে প্রাপ্ত ও অনিষ্পন্ন ১টি বেসরকারি বিল রয়েছে। এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮৩টি ও সাধারণ প্রশ্ন ১ হাজার ৮৫১টিসহ প্রাপ্ত মোট প্রশ্নের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩৪টি। এছাড়া সিদ্ধান্ত প্রস্তাব ১৭০টি ও মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ ৪৭টি এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনার জন্য ১টি নোটিশ পাওয়া গেছে।

শোক প্রস্তাব গ্রহণ

অধিবেশনের শুরুতে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হক, সাবেক এমপি এ বি এম তালেব আলী, আবদুল আলী মৃধা, মো. আবদুল মজিদ মাস্টার ও এ কে এম বজলুল করিম, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানার ভাসুর ও বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিক আহমেদ সিদ্দিক, বিশিষ্ট নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজ উদদীন আহমদ, একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হায়াৎ সাইফ, একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুল সংগীতশিল্পী, গবেষক, স্বরলিপিকার ও সংগীত গুরু খালিদ হোসেন, কঙ্গোয় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি রৌশন আরা, বিশিষ্ট কৌতুক অভিনেতা আনিসুর রহমান, নন্দিত অভিনেতা সালেহ আহমেদ এবং অভিনেত্রী মায়া ঘোষের মৃত্যুতে আনীত শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। প্রস্তাবে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়। পরে প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মনোনয়ন

এর আগে অধিবেশনের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মনোনয়ন দেয়া হয়। যারা স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠক পরিচালনা করবেন। সভাপতিমন্ডলীর সদস্যরা হলেন মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম, এ বি তাজুল ইসলাম, হাবিবে মিল্লাত, কাজী ফিরোজ রশিদ ও মেহের আফরোজ চুমকি।

বাজেট উত্থাপন

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন। এবারের বাজেটের আকার হবে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। যা দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। এবারো ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে বাজেট উপস্থাপন ও বক্তৃতা করবেন অর্থমন্ত্রী। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হবে একটি ভিডিও চিত্র। ওই ভিডিও চিত্রে বর্তমান সরকারের সামগ্রিক সাফল্য তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট সংসদে উপস্থাপনের আগে তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন নেয়া হবে। মন্ত্রিসভার বৈঠক সংসদ ভবনে হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এই দিন সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি। তিনি অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা শুনবেন। সংসদে উত্থাপিত প্রস্তাবনা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আগামী ৩০ জুন পাস হবে। এর আগে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হবে।

 

"