নুসরাত হত্যায় চার্জশিট গ্রহণ

* শুনানি ২০ জুন * পাঁচজনকে অব্যাহতি * ১৬ জনকে অভিযুক্ত

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৯, ০০:০০

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার মামলায় ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে গঠিত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করেছেন আদালত। অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ২০ জুন দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মামলার তদন্ত সংস্থা পিবিআই আসামিদের আদালতে হাজির করে অভিযোগপত্র দাখিল করলে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ তা গ্রহণ করেন। মামলায় গ্রেফতার ২১ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে অব্যাহতি দিয়ে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। বাদীর আপত্তি না থাকায় আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ জুন দিন ধার্য করেন। এছাড়া চার্জশিটভুক্ত ১৬ আসামির মধ্যে সাতজন জামিন আবেদন করলেও আদালত নামঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু সাংবাদিকদের বলেন, বাদীর আপত্তি না থাকায় আজকে আদালত চার্জশিট গ্রহণ করেছেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন নুসরাতের সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ জনি, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম।

অভিযুক্তরা হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ উদ দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে চম্পা/শম্পা (১৯), আবদুুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।

আইনজীবী সাজু আরো জানান, আদালতে সাতজন আসামি জামিন আবেদন করে। আদালত বাদী ও আসামি এবং রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। আগামী ২০ জুন এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করেছেন আদালত। ২০ জুন অভিযোগ গঠন হলে সাক্ষ্য পর্ব ও মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে আমরা সন্তুষ্ট। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলাটি তদারকি করছেন। আশা করি শিগগির ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন গ্রেফতার হবেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, বিচারক আংশিক ন্যায়বিচার করলেও ন্যায়বিচার করেননি। যারা ছাদে নুসরাতের গায়ে আগুন দিয়েছিল সেই ছয়জন ছাড়া বাকি ১০ জনকে একই গ্রাউন্ডে জামিন দেওয়া উচিত ছিল। মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি পক্ষপাতপুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এই মামলায় যে অর্ডার হয়েছে তা আইনসম্মত নয়, বরং বেআইনি।

খুবই স্পর্শকাতর এ মামলার অভিযোগপত্র ও প্রায় ৮০৮ পৃষ্ঠার সামগ্রিক নথি গত ২৮ মে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে দাখিল করেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কর্মকর্তারা।

 

"