মেগা প্রকল্পের সুফল মিলবে ২০৩০ সালে

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু সড়কপথ নয়, একটি শহরের টেকসই যোগাযোগে প্রাধান্য দেওয়া হয় জল, রেল বা অযান্ত্রিক যানবাহনের পথকে। এই হিসাবে ঢাকা প্রাকৃতিকভাবে আশীর্বাদপুষ্ট হলেও, দিন দিন সেই সম্ভাবনা কমিয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়ন ও দুর্নীতি। তবে সরকারের মেগা প্রকল্প আশার আলো দেখাবে। এই প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারের এই মেয়াদেই দেশের মানুষ এসব প্রকল্পের সুফল পেতে শুরু করবে। এদিকে, অগ্রাধিকারভিত্তিক এই ১০ মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন অর্থবছরে বরাদ্দ থাকছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা। তবে, প্রচারণার কৌশল হিসেবে বড় প্রকল্প হাতে না নিয়ে, চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সরকারের প্রতি আহ্বান অর্থনীতিবিদদের।

বৈশ্বিক রাজনীতি আর অর্থনীতির মাঠে সামনের কাতারে থাকতে চায় ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। এজন্য দরকার হবে এমন সব প্রকল্প যা নিশ্চিত করবে অভ্যন্তরীণ সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার। লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মায় সেতু নির্মাণের সাহস দেখায় সরকার। পুরোপুরি প্রস্তুত না হলেও ডিসেম্বরেই দৃশ্যমান হবে সেতুর অনেকটাই। দ্বিগুণ বাড়িয়ে আসছে বাজেটে এ প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করবে সরকার।

টাকার অংকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সম্ভাব্য বরাদ্দ ১৫ হাজার কোটি টাকা। এবার দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর সঙ্গে নতুন বাজেটে যুক্ত হচ্ছে যমুনা নদীতে টানেল প্রকল্প, বলছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

তিনি বলেন, বড় প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা আমাদের বড় দরকার। এখানে আমরা অর্থ বিনিয়োগ করব সবচেয়ে বেশি। আমরা পাটুরিয়ার কাছে আরেকটি পদ্মা সেতুর কাজে বোধহয় হাত দিতে পারব। কর্ণফুলী টানেলের মতো আরো দুই থেকে তিনটি টানেল যমুনা নদীতে করা হবে। যদিও, নির্দিষ্ট মেয়াদে প্রকল্প বাস্তবায়ন আর আর্থিক স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে আক্ষেপ রয়েছে অর্থনীতিবিদদের।

ভবিষ্যতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখার ভিত্তি রচনার ক্ষেত্রে এই ১০ মেগা প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, যে গতিতে এসব প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে তাতে আশা করা যায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলো শেষ হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পাদিত গত ১০ বছরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের এই ১০ মেগা প্রকল্প হচ্ছে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প, ঢাকায় মেট্রোরেল প্রকল্প, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্প, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হয়ে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্প, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্প, কয়লাভিত্তিক রামপাল থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প, পায়রা বন্দর নির্মাণ প্রকল্প এবং সোনাদিয়া গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ প্রকল্প।

অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পাদিত গত ১০ বছরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ১০ মেগা প্রকল্পের বাইরেও ২০৩০ সালের মধ্যে মোট ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে। ২০১০ সালে ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন’ প্রণয়নের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।

সরকারের প্রত্যাশা, অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো (ইপিজেড) তৈরি হলে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রফতানি আয় সম্ভব হবে। একইসঙ্গে এই ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলে দেশের এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে, ২০৩০ সাল নাগাদ সুফল পাবেন নগরবাসী। আশপাশের চারটি নদী দিয়ে ঘেরা ঢাকা, নগর পরিকল্পনাবিদদের চোখে এক আদর্শ শহর। নগরের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে জলপথের ব্যবহার শেষ হয়েছে জমির লোভে। লোভের এই মাত্রা ভয়াবহ হয়েছে নগর পরিকল্পনায় সড়কের প্রাধান্যে।হ

 

 

"