মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দাবিতে মহাসড়কে জেলেরা

প্রকাশ : ১০ জুন ২০১৯, ০০:০০

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী সাগরে মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবিতে সীতাকু-ের ছলিমপুর বাংলাবাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শত শত মৎস্যজীবী। গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে প্রায় ৪০টি জেলে পাড়ার অন্তত ১ হাজার নারী পুরুষ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রায় ২ ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে ঈদ শেষে কর্মস্থলে যাওয়া হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে দুপুর ১২টার দিকে জেলেরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল শুরু হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে পূর্ব ঘোষিত আলটিমেটাম অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরী থেকে সীতাকু- উপজেলা পর্যন্ত ৪০টি জেলে পল্লীর লোকজন সকালে রাস্তার পাশে জড়ো হন। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে সাড়ে ১০টার দিকে তারা রাস্তার দুই পাশেই অবস্থান নেন।

উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাস বলেন, গত ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই ৬৫ দিন সমুদ্রে সব ধরনের মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। কিন্তু জেলে পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চট্টগ্রামের প্রায় ৫০ হাজার পরিবারের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, আমরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। দৈনিক যা আয় করি তা দিয়েই সংসার চালাই। প্রায় আড়াই মাস যদি মাছ ধরা বন্ধ রাখতে হয় তাহলে এত পরিবার চলবে কীভাবে? আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়ে কোনো সাড়া পাইনি। তাই রাস্তায় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করলে এবং মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে আরো কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

এর আগে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মৎস্য মন্ত্রীর উপস্থিতিতে জেলেরা মানববন্ধন এবং গত ১ জুন সাগরে মাছ ধরার সরকারি নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে উত্তর চট্টলা উপকূলীয় মৎস্যজীবী জলদাস সমবায় কল্যাণ ফেডারেশন এক সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে ফেডারেশনের সভাপতি লিটন জলদাস আলটিমেটাম দিয়ে জানান, ৭ দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে ৯ জুন থেকে মহাসড়ক অবরোধ করা হবে। তারই অংশ হিসেবে রাস্তায় অবস্থান নেন জেলেরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সীতাকু- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিল্টন রায় বলেন, জেলেরা তাদের নিজস্ব দাবি নিয়ে ঘণ্টা খানেকের মতো সড়ক অবরোধ করেছিল। আমরা তাদের বুঝিয়ে এবং দাবি দাওয়ার বিষয়ে আজকেই ডিসির সঙ্গে বৈঠকের ব্যবস্থা করে অবরোধ তুলে দিয়েছি।

 

"