লক্ষ্য চীনকে মোকাবিলায়

মালদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা দিয়ে মোদির বিদেশ সফর শুরু

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

চীনা প্রভাব মোকাবিলায় দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মালদ্বীপ-শ্রীলঙ্কা দিয়ে বিদেশ সফর শুরু করেছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রথম ইনিংসের পর এবারের লোকসভা ভোটের প্রচারে, বিরোধী দলগুলোর মূল অভিযোগ ছিল, পাঁচ বছরে দেশের চেয়ে বিদেশে সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ফলে, সরকারি কাজকর্ম লাটে উঠেছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে রাহুল গান্ধী, বিরোধীদের অভিযোগ যে মানুষ খুব একটা মেনে নেয়নি, ভোটের ফল তার প্রমাণ। স্বভাবতই, সংখ্যার জোরে বলীয়ান নরেন্দ্র মোদি কেরালা, অন্ধ্রপ্রদেশের মন্দিরে মন্দিরে পুজো দিয়ে মালদ্বীপ গিয়েছেন। দুদিনের বিদেশ সফরে তিনি মালদ্বীপ থেকে যাবেন শ্রীলঙ্কায়। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রথম বিদেশ সফর। রওনা হওয়ার আগে কেরালার গুরুভায়ুর মন্দিরে, সুগন্ধী ঘি, বিশাল বিশাল পদ্ম ফুল আর বিশেষ রকমের লাল রঙের কলা দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ‘তুলাভরম’ সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রথা মেনে দাঁড়িপাল্লার একদিকে রাশি রাশি পদ্ম ফুল রেখে অন্যদিকে মোদিকে বসিয়ে তার ওজন মাপা হয়েছে মন্দিরে। ২০০৮ সালে দ্বিতীয়বার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গুরুভায়ুরের শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। নিজের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট থেকে গুরুভায়ুর মন্দিরে পুজো দেওয়ার জন্য মন্দিরে দিয়েছেন ৩৯ হাজার ৪২১ টাকা। পুজো দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী টুইট করে জানিয়েছেন, দেশের বিকাশ এবং সমৃদ্ধির জন্য এই প্রাচীন মন্দিরে পুজো দিয়েছেন তিনি।

দেবদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি গিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশ, তিরুমালায় ভেঙ্কটেশ্বরের মন্দিরে পুজো দিতে। তার পরই রওনা হয়েছেন মলদ্বীপ। দুদিনের বিদেশ সফরে সেখান থেকে যাবেন শ্রীলঙ্কায়। টুইট করে প্রধানমন্ত্রী মোদি জানিয়েছেন, সরকারের ‘প্রতিবেশীদের অগ্রাধিকার নীতিকে গুরুত্ব দিতেই এই বিদেশ সফর, যা আমাদের সামুদ্রিক প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কটাকে আরো জোরদার করে তুলতে সাহায্য করবে। দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর তার প্রথম বিদেশ সফরে মালদ্বীপে গিয়ে সেখানকার পার্লামেন্টে ভাষণ দেবেন নরেন্দ্র মোদি। দেখা করবেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সলিহর সঙ্গে। মালদ্বীপের উন্নয়নে অর্থ সাহায্যসহ দুদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি হওয়ার কথা প্রধানমন্ত্রী মোদির।

তিনি ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট সেখানে যৌথভাবে উদ্বোধন করবেন দুটি প্রতিরক্ষা প্রকল্পের। মালদ্বীপ সরকারের সম্মান ‘অর্ডার অব নিশানিজুদ্দিন’ দিয়েও সম্মানিত করা হবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

এদিকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মহম্মদ সোলি, ক্রিকেট অনুরাগী! কয়েক মাস ধরেই তিনি ভারত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট-যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। ‘ক্রিকেট-যোগাযোগ’ অর্থাৎ মালদ্বীপকে একটি চৌকশ ক্রিকেট-রাষ্ট্র বানানোর জন্য সাহায্যের অনুরোধ তিনি করে রেখেছিলেন দুই প্রতিবেশী দেশ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের। মালদ্বীপ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কর্মসূচিতে তাই প্রধান জায়গা পেয়েছে, ক্রিকেট। বিদেশসচিব বিজয় গোখলে জানিয়েছেন, মালদ্বীপে আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ার জন্য অর্থ এবং কারিগরি সাহায্য দান, প্রশিক্ষণ, ক্রিকেট কিট দেওয়ার মতো বিষয়গুলোর নিয়ে কথা হবে মোদি এবং সোলির আলোচনায়। বহুভাবেই ভারত, মালদ্বীপকে ক্রিকেট-প্রশ্নে সাহায্য করতে চলেছে। কমসুদে ঋণ দেওয়া হছে ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়তে।

এবারের কূটনীতির অন্যতম হাতিয়ার ক্রিকেট। এই বিশ্বকাপের ভরা মৌসুমেও। গত কয়েক বছর মালদ্বীপে, চীনের প্রভাব ভারতকে সব চেয়ে চাপে রেখেছিল। ভারতের কূটনৈতিক শিবিরে এখন মালদ্বীপ নিয়ে চালু রসিকতা, অন্তত এই একটি বিষয়ে বেজিং কোনোভাবেই নাক গলাতে পারবে না। বরং তাদের নাকের ডগা দিয়েই বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি হাঁকাবে ভারত-মালদ্বীপ ক্রিকেট সম্পর্ক! কারণ, চীন ক্রিকেট খেলে না। ক্রিকেটে চীনের আগ্রহ নেইও।

 

 

"