এবার ঢাকামুখী মানুষের ঢল

প্রকাশ : ০৯ জুন ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন শেষে কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও গাবতলীসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে ছিল ঢাকামুখী মানুষের ঢল। প্রায় দুই কোটি মানুষের ঢাকা মহানগরী ঈদের ছুটিতে ছিল বেশ ফাঁকা। রোববার থেকে অফিস-আদালতে কর্মচাঞ্চল্য শুরু হবে। তাই পরিবার নিয়ে শনিবার থেকেই রাজধানীতে ফিরতে শুরু করছেন লোকজন। বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, সদরঘাটে ক্রমেই চাপ বাড়ছে। তবে বাড়তি ছুটি নিয়ে বাড়ি যাওয়া লোকজন ফিরছে ধীরে ধীরে। এক সপ্তাহের আগে স্বাভাবিক চাঞ্চল্য ফিরবে না রাজধানীতেÑ এমনটিই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ঈদ উপলক্ষে যত দিন যাত্রীর চাপ থাকবে, তত দিন পর্যন্ত ট্রেনের বিশেষ সেবা চলবে বলে জানিয়েছে কমলাপুর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের আগে মানুষকে নিরাপদে যেভাবে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছি; সেভাবেই নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার সব প্রস্তুতি রয়েছে। ঈদের আগে যেসব বিশেষ ট্রেন চলাচল করেছে, সেগুলো এখনো চলছে।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন দক্ষিণাঞ্চলের ৪৪টি রুটে ৯০-৯৫টি লঞ্চ চলাচল করছে। ঈদের আগে সদরঘাট টার্মিনালে যাত্রীদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হলেও ফিরতি যাত্রায় এখনো ভোগান্তির চিত্র চোখে পড়েনি। অনেকটা আরামেই ঢাকা ফিরছে ঈদযাত্রীরা। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে ফিরতে টাঙ্গাইল থেকে গাজীপুর পর্যন্ত কিছুটা বেগ পোহাতে হয়েছে ঢাকামুখী মানুষকে।

মাদারীপুর : ঈদের ছুটি শেষ। এবার যেতে হবে চিরচেনা কর্মস্থলে। কংক্রিটের নগরীতে। গ্রামের সবুজ পরিবেশ আর নির্মল বাতাস ছেড়ে ঢাকামুখী হচ্ছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। আর তাই গতকাল সকাল থেকেই ব্যস্ততম নৌরুট কাঁঠালবাড়ী-শিমুলিয়ার কাঁঠালবাড়ী ঘাটে বেড়েছে যাত্রীদের ভিড়। লঞ্চ, স্পিডবোট ও ফেরিতে বোঝাই হয়ে পার হয় পদ্মা নদী। বিআইডব্লিউটিসির কাঁঠালবাড়ী ঘাট সূত্র জানায়, ঈদের ছুটি শেষে আবার ব্যস্ত হয়ে উঠেছে কাঁঠালবাড়ী ঘাট। ঈদ ফিরতি যাত্রায় যাত্রী দুর্ভোগ এড়াতে বাড়ানো হয়েছে ফেরির সংখ্যাও।

এর আগে ১৮টি ফেরি থাকলেও গতকাল থেকে আরো ৩টি যোগ হয়ে মোট ২১টি ফেরি চলছে। এ ছাড়া ৮৭টি লঞ্চ, ২ শতাধিক স্পিডবোট রয়েছে। আবহাওয়া বৈরী হয়ে উঠলে ফেরিতে যাত্রী চাপ বেড়ে যায়। এ ছাড়া সকাল থেকেই ব্যক্তিগত ছোট পরিবহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে ফেরিঘাট এলাকায়।

রাজধানীগামী যাত্রী মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটি শেষ। ইচ্ছা না করলেও যেতে হচ্ছে। যোগ দিতে হবে কর্মস্থলে। সকাল সকালই রওনা হয়েছি, যাতে পথে ভোগান্তি না হয়।

অপর এক যাত্রী বলেন, পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েই ঘাটে আসতে হলো। বাড়ি যেতেও বাড়তি ভাড়া আবার ফিরতেও বাড়তি ভাড়া। এটা মনে হয় না রোধ হওয়ার। এদিকে যাত্রীদের ফিরতি পথেও ভোগান্তি এড়াতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে রয়েছে প্রশাসনের তৎপরতা। বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিমও।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক আব্দুস সালাম মিয়া বলেন, ঘাটে পর্যাপ্ত ফেরি রয়েছে। পরিবহনের চাপ বাড়লেও ঘাট এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই গাড়ি ফেরিতে উঠছে। কোনো ধরনের ভোগান্তি নেই।

সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়। কমলাপুরের প্রতিটি প্ল্যাটফরমে অনেক মানুষ। দুর্ভোগ ও ভোগান্তি সহ্য করে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পর কমলাপুর প্ল্যাটফরমে যখন নামছেন; তখনই খুশির হাসি দেখা গেছে সবার মুখে।

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী নাবিলা আক্তার বলেন, ‘স্টেশনে ট্রেন দেরিতে এসেছে। ঢাকায় পৌঁছতেও দেরি হয়েছে। এর পরও নিরাপদে পৌঁছতে পেরেছি, এ কারণে ভালো লাগছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন, শনিবার বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬৯টি ট্রেন ঢাকায় ফিরেছে এবং ৬৯টি ঢাকা ছেড়ে যায়। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ভর্তি ছিল। ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার সময়ও যাত্রী রয়েছে। যারা ঈদে যেতে পারেনি তারা এখন যাচ্ছে। এসব ট্রেনে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ ঢাকায় ফিরেছে।

তিনি জানান, যাত্রী চাপের কারণে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস, রংপুর থেকে আসা রংপুর এক্সপ্রেস ও দিনাজপুর থেকে আসা একতা এক্সপ্রেস ঢাকায় পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এসব ট্রেন কমলাপুর থেকে যতটা সম্ভব দ্রুত ছাড়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দুপুর ১২টা নাগাদ ২২টি ট্রেন ঢাকা ছেড়েছে। একই সময় বিভিন্ন গন্তব্য থেকে ২১টির মতো ট্রেন ঢাকায় এসেছে।

অন্যদিকে সকালে সদরঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, টার্মিনালে আসা প্রতিটি লঞ্চের কেবিন থেকে শুরু করে ডেকের কোথাও ফাঁকা জায়গা ছিল না। বিপুলসংখ্যক যাত্রী নিয়েই লঞ্চগুলো ঢাকায় ফিরেছে। চাকরিজীবী প্রতিটি যাত্রীর লক্ষ্য প্রথম কর্মদিবসে অফিসে হাজির হওয়া।

আর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। প্রতিটি বাসই যাত্রী নিয়ে ভর্তি অবস্থায় আসছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, স্টেশনগুলো থেকে যাত্রী ভরে গেলেই তারা ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর সড়কে যানজট কিছুটা কম।

 

"