যানজটমুক্ত মহাসড়কে ঈদযাত্রা

নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

প্রতি বছরই ঈদে ঘরমুখো মানুষের সড়কপথে বাড়ি ফেরার সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল মহাসড়কে যানজট। বিশেষ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু এবং ঢাকা-বগুড়া ও ময়মনসিংহ সড়কের গাজীপুর, কোনাবাড়ী ও চন্দ্রা এলাকার যানজটের বিড়ম্বনা ঈদ আনন্দকেই মাটি করে দিত। মাঝে মাঝে এই যানজট এতটাই তীব্র আকার ধারণ করত যে, অনেকের ঈদ করতে হতো মহাসড়কে বাসের মধ্যেই। তবে এবার কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী এবং কোনাবাড়ী উড়াল সড়ক খুলে দেওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টে গেছে, এখন অনেকটাই নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরছে মানুষ। মহাসড়কে নেই আর আগের মতো যানজট। তবে রাজধানীর যানজটের জট এখনো খোলেনি, সময় যতটা লাগছে, সেটা ঢাকা থেকে বের হতে। গতকাল রোববার রাজধানীর সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে বাসচালক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে কোনাবাড়ী উড়াল সড়কটিও উদ্বোধন করেন। এরপর যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সেতু দুটি ও উড়াল সড়কটি। গত মার্চে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাং রোড, সোনারগাঁর কাঁচপুর এবং মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকা ছিল যানজটপ্রবণ। সাধারণ দিনেই সেখানে যানজট লেগেই থাকত, আর ঈদ এলে তো কথাই নেই। প্রতি বছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের জন্য এই তিনটি স্থান ছিল আতঙ্কের নাম। এসব স্থানে দিনভর আটকে থাকতে হতো যানবাহনকে। এক সপ্তাহ আগেও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট হতো ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার। মেঘনা-গোমতী সেতু পার হতেই লেগে যেত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। চারলেনের মহাসড়কেও ২৬৪ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম যেতে সময় লাগত ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা। সেতু এলাকার যানজটে মাত্র শত কিলোমিটার দূরের কুমিল্লায় যেতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টাও লেগে যেত।

আর এখন, শীতলক্ষ্যা মেঘনা ও গোমতীতে তিনটি নতুন সেতু নির্মাণের পর দুই ঘণ্টায় নেমেছে ঢাকা-কুমিল্লার দূরত্ব। চট্টগ্রাম যেতে লাগছে পাঁচ ঘণ্টা।

একই অবস্থা ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কেও। এ মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের উত্তরবঙ্গের ১১৮টি রোডের হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পায় বহু গুণ। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের একমাত্র এই মহাসড়ক পথে যানজট ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। যানজটে আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনে বসে থাকতে হতো। ভাঙাচোরা সড়কে এলোমেলো গাড়ি চলাচলে ধুলায় ধূসর হয়ে উঠত মহাড়সকটি। অসুস্থ হয়ে পড়তেন অনেক যাত্রী। আবার সময়মতো পৌঁছতে পারা সম্ভব হতো না। বিশেষ করে দুই ঈদে ঘরমুখো মানুষকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হতো। ওই সময় ছয় ঘণ্টার যাতায়াতে লাগত ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা। কোনাবাড়ী উড়াল সড়ক খুলে দেওয়া এবং জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সড়ক খুলে দেওয়ায় এখন বগুড়া যেতে সময় লাগছে ৫ থেকে সাড়ে ৫ ঘণ্টা। এছাড়া ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-যশোর, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও নেই যানজট। নির্বিঘেœ বাড়ি ফিরছে ঘরমুখো মানুষ। আগের চেয়ে কম সময়ে পৌঁছাচ্ছেন যাত্রীরা।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সৌদিয়া পরিবহনের চালক সাবির আহমেদ বলেন, খুব শান্তিতে চলতে পারছি। শান্তিমতো ইফতার এবং সাহ্রি খেতে পারছি। পাঁচ ঘণ্টাতেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম আর কুমিল্লা যেতে লাগবে দুই ঘণ্টা।

ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের একতা এক্সপ্রেসের চালক আবদুল হাই বলেন, গত রাতে আমি বগুড়া থেকে ঢাকায় আসি। যেখানে আগে সময় লাগতো ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা। আর এখন সময় লাগছে পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা। খুব দ্রুতই মানুষ গন্তব্যে যেতে পারছে। আমাদেরও ভালো লাগছে।

অন্যদিকে ঢাকা-বগুড়া ও ময়মনসিংহ সড়কের যাত্রীরা গাজীপুর পার হলেই দ্রুতই গন্তব্যে পৌঁছতে পারে। তবে এখনো সমাধান হয়নি ঢাকার যানজটের। ঢাকা থেকে গাজীপুর যেতে সময়ে লাগছে কয়েক ঘণ্টা। মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে বের হলে বনানী, এয়ারপোর্ট, উত্তরা, টঙ্গী এলাকায় যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। একইভাবে কল্যাণপুর গাবতলী থেকে সাভার যেতেও যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটের ইসলাম পরিবহনের চালক শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা থেকে টঙ্গী বা গাজীপুর যেতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। গাজীপুরের পরে ময়মনসিংহে পৌঁছতে সময় লাগে মাত্র দেড় ঘণ্টা। আমাদের সময়টা এখানেই চলে যায়।

 

"