রাজাকারের তালিকা হচ্ছে

প্রকাশ : ২৭ মে ২০১৯, ০০:০০

গাজী শাহনেওয়াজ

অবশেষে স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের তালিকা হচ্ছে। তবে আইনি জটিলতা এড়াতে সরকার সতর্কতার পাশাপাশি পরিবর্তন আনবে জামুকার আইনেও। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে এ কাজ শেষ হতে পারে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ কথা জানানো হয়েছে। জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে সংরক্ষিত রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার (আধা-সরকারিপত্র) দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময় বেতন-ভাতাভোগী রাজাকারদের তালিকা যথাযথভাবে সংরক্ষণের জন্যও জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রাজাকারদের তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ শুরু হয়। তালিকা প্রণয়ন করে তা সংসদে উত্থাপনের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয় দলটি। তবে আইনি জটিলতায় কাজটি শুরুর পর থেমে যায়। কারণ স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে জামুকার আইনের সঙ্গে উদ্যোগটি ছিল সাংঘর্ষিক। তখন এ বিষয়টি বিবেচনায় না নেওয়ায় প্রক্রিয়াটি আর এগোয়নি। পরে চতুর্থ দফা এবং টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের তালিকা তৈরির বিষয়ে নজর দেয় আওয়ামী লীগ। আগামী বছর মুজিববর্ষ পালন করবে দেশ। এর আগেই কাজটি শেষ করতে নানা প্রস্তুতিও রয়েছে সরকারের।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধষিয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, জাতীয় সংসদে রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের তালিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু জামুকার বিদ্যমান আইনে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশের বিধান রয়েছে; সে কারণে কার্যক্রমটি আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা হ তৈরির বিষয়টি অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে বিদ্যমান আইনে সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আগামী মাসের মধ্যে এটির কাজ সম্পন্ন হলে স্বাধীনতাবিরোধীদের তালিকা চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি শাজাহান খান বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে যাদের আসন অবৈধভাবে শূন্য ঘোষণা করে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় সদস্য করা হয়েছিল, তাদের তালিকা করার বিষয়টি অ্যালোকেশন অব বিজনেসে অন্তর্ভুক্তির কাজ চলছে। মুক্তিযুদ্ধকালে থানা, মহকুমা ও জেলা প্রশাসন থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনকারী রাজাকারদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এ প্রসঙ্গে বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগে স্বাধীনতাবিরোধীদের একটি তালিকা ছিল। এখনো আছে কি না তা জানা দরকার। তিনি বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় এসে সেখানকার অনেক ফাইল ধ্বংস করে।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে সম্প্রতি আমি বলেছি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে গোপন চিঠি দিয়ে ফাইলগুলো সংরক্ষণের জন্য। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির এই সভাপতি বলেন, রাজাকারদের সেই তালিকাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা পাঠানোর জন্য সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে এরই মধ্যে সুপারিশ জানিয়েছি।

এদিকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখায় রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের একটি তালিকা সংরক্ষিত ছিল। এ তালিকায় দেশে রাজাকারের সংখ্যা নির্ধারণ করা ছিল ৪৪ হাজার, আলবদর আট হাজার এবং আলশামসদের সংখ্যা ছিল তিন হাজার। সরকার পটপরিবর্তনে এসব সংরক্ষিত তালিকা তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকার আলামত নষ্ট করেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

 

"