ঈদ কেনাকাটায় ধুম

মানুষের ভিড়ে পা ফেলা দায়

প্রকাশ : ২৫ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

সপ্তাহ দেড়েক পরেই ঈদ। উৎসবের সাড়া পড়ে গেছে সবখানে। আত্মীয়স্বজন তথা প্রিয়জনের জন্য কেনাকাটা শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ছুটির দিনে রাজধানীর নামী দামী শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত ছিল উপচে পড়া ভিড়। শপিংমলে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় না ঘটায় কেনাকাটায় তাদের শেষ ঠিকানা ফুটপাত। সবখানেই ক্রেতাদের ভিড়ে পা ফেলা ছিল দায়।

দিনভর উপচে পড়া ভিড়ে জমজমাট ছিল পান্থপথের বসুন্ধরা শপিংমলে। সেখানকার বিক্রেতাদের দাবি, একই ছাদের নিচে নামিদামি সব ব্র্যান্ড ও বুটিক হাউসের অবস্থান রয়েছে এখানে। তাই ভিড় বেশি, কেনাবেচাও চলছে হরদমে। ঈদের প্রিয় পোশাক, পোশাক অনুষঙ্গ ও পরিবারের প্যাকেজ কিনতে বসুন্ধরায় ভিড় করছেন ক্রেতারা।

ভিড়ের কারণে কারওয়ান বাজার ও পান্থপথে ছুটির দিনেও সৃষ্টি হয়েছিল ব্যাপক যানজট। বসুন্ধরা সিটির নামিদামি ব্র্যান্ড ছাড়াও অনেক দোকানে পাওয়া যাচ্ছে মানসম্পন্ন পোশাক। এখানে দেশি-দশ, ইয়োলো, স্মার্টটেক্সসহ বেশ কয়েকটি দোকানে দিনভর ছিল প্রচন্ড ভিড়। সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত টাকা গোনায়, কেউ দরকষাকষিতে, কেউ ক্রেতার কেনা পণ্য প্যাকিং নিয়ে, আবার কেউবা খুঁজছেন পছন্দের পণ্য।

দোকানিরা বলছেন, ঈদ কেন্দ্র করে ভিড় এড়াতে অনেকে আগেভাগেই কেনাকাটার কাজ সেরে ফেলছেন। ঈদের আগমুহূর্তে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পছন্দমতো পণ্য কেনা ও বাছাই করার সুযোগ পাওয়া যায় না। এ কারণে অনেকে কেনাকাটার জন্য ছুটির দিনকে বেছে নিয়েছেন। এ ছাড়াও কেউ কেউ আত্মীয়স্বজনদের উপহারের জন্য কেনাকাটা করছেন।

এক ব্যবসায়ী বলেন, ঈদের আর কিছুদিন বাকি, তাই শুক্রবারে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বলে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি। ঈদের বেচাকেনা পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। এখন থেকে ক্রেতাদের ভিড়ে আর কথা বলার সময় পাওয়া যাবে না। দেশি-দশ ফ্যাশন হাউসের কর্ণধার তুহিন জানান, এখানে উপহার জাতীয় পোশাক বিক্রি হচ্ছে। পরিবেশ ভালো থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বেড়েছে। ঈদের বেচাকেনা শুরু হয়ে গেছে।

পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে বসুন্ধরা সিটিতে এসেছেন গৃহিণী তাসকিনা। তিনি বলেন, স্বামী চাকরিজীবী। সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া মার্কেট করার সময় পায় না। তাই আজ বন্ধের দিনে শাশুড়ির জন্য, সন্তানের জন্য পোশাক কিনেছি। এখন একটু বেশি সময় নিয়ে পোশাক পছন্দ করার সুযোগ থাকে। বাকি দিনগুলোর মধ্যে ঈদ কেনাকাটা সেরে ফেলব।

এদিকে পোশাক বিক্রেতারা বলছেন, প্রথম রোজার পর থেকে বেচা-বিক্রি ভালো। গ্রামে আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের জন্য পোশাক কিনে ফেলেছেন অনেকে। গতবারের মতো কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা এবার নেই। তাই শুরু থেকে ক্রেতারা মার্কেট আসছেন।

বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিপণিবিতান ঘুরে দেখা যায়, মেয়েশিশুরা কিনছে ফ্রক, গাউন, ফ্লোর টাচ, লাসা ও লেহেঙ্গা আর ছেলেদের পছন্দে রয়েছে পাঞ্জাবি, কটি, শার্ট ও গেঞ্জি সেট।

এবার গরমে সুতির পোশাকের চাহিদা বেশি। বিশেষত বাচ্চাদের জন্য সুতির পছন্দ করছেন তাদের বাবা-মা। আর নামিদামি ব্র্যান্ডগুলো গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে ঈদে এনেছে সুতির গেঞ্জি, হাফ হাতা ফ্রক, টপস, টি-শার্ট, শার্ট ও প্যান্ট।

এদিকে তরুণদের পাঞ্জাবি ও শার্ট-প্যান্ট। এর মধ্যে ‘লুবনান’ নামক পাঞ্জাবিটি মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ক্রেতাদের কাছে পছন্দের। পাঞ্জাবিগুলোর দাম ১৮০০ থেকে শুরু করে প্রায় ১৩ হাজার টাকা।

অন্যদিকে তরুণীদের এ গরমে এবার হালকা-পাতলা সুতি ও জর্জেট কাপড়ের চাহিদা বেশি। পাশাপাশি ভারী কাজের ‘সারারা’ ও ‘ঘারারা’ নামের সালোয়ার-কামিজ দুটোর চাহিদাও ভালো বলে জানান বিক্রেতারা। এর দাম সাড়ে ৩ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা।

"