অবৈধ অনুমোদনে জড়িত রাজউকের ৩৯ কর্মকর্তা

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বনানীর এফআর টাওয়ার বেআইনিভাবে নির্মাণ কাজে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ৩৯ কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। গতকাল বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে এফআর টাওয়ারের দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে এ কথা বলেন তিনি। প্রতিবেদনে আগুনের ঘটনা, তাতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের দায়ী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে সাত দফা পর্যালোচনা ও ১৫ দফা সুপারিশ দিয়েছে কমিটি। পূর্তমন্ত্রী বলেন, ১৮তলার ওপরে ঊর্ধ্বমুখী ভবনে যে কয়েকটা ফ্লোর করা হয়েছে তা সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। আমাদের এই তদন্তে রাজউকের তৎকালীন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ইনস্পেক্টর পর্যন্ত এবং রেজিস্ট্রার যারা দেখেছেন, লোন প্রসেসের ভেতর যারা ছিলেন তাদের সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই ঘটনায় জড়িত হিসেবে রিপোর্ট এসেছে। আমরা সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

অগ্নিকান্ডের পেছনে ভবন মালিক পক্ষের প্রচলিত ব্যবস্থা ও নিয়মনীতির প্রতি চরম অবহেলা দেখতে পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত রিপোর্টে ভবনের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রূপায়ন হাউজিং এস্টেটকেই এজন্য দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দগ্রহীতা এফআর টাওয়ার প্রোপার্টিজের সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুকসহ এফআর টাওয়ার ওনার্স সোসাইটিকেও এই অগ্নিকান্ডের জন্য দায়ী করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছেÑ ২৩তলা বিশিষ্ট এফআর টাওয়ারের নকশাটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে বানিয়েছে। আর এর দায় তৎকালীন রাজউক চেয়ারম্যান কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না। সে সময়ের রাজউক চেয়ারম্যান হুমায়ূন খাদেম, অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহম্মেদ, অথরাইজড অফিসার নাজমুল হুদা, সহকারী অথরাইজড অফিসার মো. বদরুজ্জামান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করার সুপারিশ রয়েছে। আট সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি ঘটনার ৫৫ দিন পর এই প্রতিবেদন জমা দিল।

গত ২৮ মার্চ ভয়াবহ ওই অগ্নিকান্ড ঘটে। এতে ভবনটির কয়েকটি ফ্লোর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে এবং আগুনে পুড়ে নিহত হন অন্তত ২৫ জন। এছাড়া শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

 

"