ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু

‘ভিআইপি’ আসন নেই মিলবে না সুপারিশেও

কমলাপুরে ই-টিকিটিংয়ের সার্ভার রুমে দুদক

প্রকাশ : ২৩ মে ২০১৯, ০০:০০

কাইয়ুম আহমেদ

প্রতি বছর ঈদে অভিযোগ ওঠে, রেলের উচ্চ শ্রেণির টিকিট পেয়ে যান ‘ভিআইপিরা’। ২৪/২৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পান না সাধারণ মানুষ। এমপি-মন্ত্রী-রাজনীতিক-আমলাদের সুপারিশে টিকিট পেয়ে যান বিশেষ ব্যক্তিরা। এবার তা বন্ধে উদ্যোগী হয়েছে রেল। মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতিদের টিকিট দেওয়া হবে ব্যক্তি ভ্রমণে চাহিদা অনুযায়ী। তবে তাদের সুপারিশে টিকিট দেওয়া হবে না কাউকে। রেলের কর্মীদের জন্য নির্ধারিত কোটা সংরক্ষণ করা হবে। তবে টিকিট নিতে হবে পাস দেখিয়ে। এই উদ্যোগের মধ্য দিয়েই গতকাল বুধবার ট্রেনের ঈদযাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে।

এদিকে, যাত্রীদের ভোগান্তি এড়াতে এবারই প্রথম কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে চারটি জায়গা থেকে টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি ই-টিকিটিংয়ের জন্য ৫০ শতাংশ টিকিট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। সে অনুযায়ী সকাল ৯টা থেকে কাউন্টারগুলোতে ৩১ মের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু সকাল থেকেই রেলওয়ের ওয়েবসাইট বা অ্যাপ ব্যবহার করে টিকিট কাটতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন অনেকে। আর অ্যাপসে রেলের টিকিট কাটার ভোগান্তির অভিযোগ পেয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম সিএনএসের সার্ভাররুমে হানা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সকাল ১০টার দিকে দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই টিম অভিযান চালায়।

এ সময় দুদক কর্মকর্তারা অ্যাপসের মাধ্যমে টিকিট কাটার ভোগান্তির কথা বললে সিএনএসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। সার্ভার ডাউনের নামে সিএনএস টিকিট কালোবাজারি করলে কঠিন শাস্তির হুশিয়ারি জানান দুদক কর্মকর্তারা।

দুদকের উপসহকারী পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, টিকিট কালোবাজারির বিরুদ্ধে আমরা সিএনএসের কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছি। কালোবাজারি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, ঈদযাত্রার টিকিট নিয়ে দুর্নীতি হলে সহ্য করা হবে না। এরই মধ্যে তা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে সব টিকিট। ব্যক্তিবিশেষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না।

রেল সূত্র জানিয়েছে, অতীতে ভিআইপিদের সুপারিশে কেবিন, এসি ও প্রথম শ্রেণির টিকিট সাধারণ মানুষ পেতেন না। ভিআইপিদের চাহিদা পূরণে টিকিট সার্ভারেই ব্লক করা হতো, যা কাউন্টার থেকে বিক্রি করা যেত না। এবার এ সুযোগ থাকছে না। রেল ভবন থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, টিকিট ব্লক করা যাবে না।

প্রতি বছর ঈদের টিকিট শুধু কমলাপুর থেকে বিক্রি হলেও এবার পাঁচ জায়গা থেকে দেওয়া হচ্ছে। পশ্চিমাঞ্চল অর্থাৎ রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোর ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে কমলাপুর থেকে। বিমানবন্দর স্টেশনে পাওয়া যাচ্ছে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ট্রেনের টিকিট। তেজগাঁও থেকে বিক্রি হচ্ছে ময়মনসিংহ ও জামালপুর ট্রেনের টিকিট। বনানী থেকে দেওয়া হচ্ছে নেত্রকোনা ও মোহনগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট দেওয়া হচ্ছে ফুলবাড়িয়ার পুরোনো রেল ভবন থেকে।

বৃহস্পতিবার বিক্রি করা হবে ১ জুনের টিকিট। ২৪ মে দেওয়া হবে ২ জুনের টিকিট। ২৫ মে বিক্রি হবে ৩ জুনের টিকিট। ২৬ মে দেওয়া হবে ৪ জুনের টিকিট।

গত বছরের ঈদুল ফিতরের সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনে আসন সংখ্যা ছিল ২৫ হাজার ৩৪৫টি। এবার তা বেড়ে হয়েছে ২৭ হাজার। ঈদের আগের পাঁচ দিন ছয় জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। এতে আসন সংখ্যা আরো বাড়বে।

প্রতি বছর কমলাপুর স্টেশনে ঈদযাত্রার টিকিটের জন্য ভিড় করেন লাখো মানুষ। এবার দুর্ভোগ কমাতে অর্ধেক টিকিট বিক্রি হবে রেল সেবা অ্যাপের মাধ্যমে। বাংলাদেশে তৈরি এ অ্যাপের মাধ্যমে ঘণ্টায় ১৫ হাজার টিকিট বিক্রি সম্ভব। গত ২৮ এপ্রিল অ্যাপটি চালুর পর ১৭ মে পর্যন্ত ডাউনলোড হয়েছে এক লাখের বেশি বার। অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৩১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। ২২ হাজার ৩২টি টিকিট বিক্রি হয়েছে অ্যাপের মাধ্যমে।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে ৩৩টি আন্তঃনগর এবং চারটা বিশেষ ট্রেনসহ ৩৭টি ট্রেনের ২৮ হাজার ২২৪টি টিকেট বিক্রি হবে। কমলাপুর স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে যাতায়াতকারী ১৬টি ট্রেনের ১৪ হাজার ৯৫টি টিকেট বিক্রি হবে। এর মধ্যে কাউন্টার থেকে ৫ হাজার ৯৪৪টি এবং অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপসে ৮ হাজার ১৫১টি টিকিট বিক্রি হবে।

বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ৭টি আন্তঃনগর ট্রেনের ৪ হাজার ৮৭৯টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৪৮টি অনলাইনে এবং ২ হাজার ৩৩১টি টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হবে।

তেজগাঁও স্টেশন থেকে জামালপুরগামী পাঁচটি ট্রেনের ৩ হাজার ৪৪৪টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ৬৪৪টি অনলাইনে এবং ৬১৪টি কাউন্টারে বিক্রি হবে।

বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি ট্রেনের ১ হাজার ২৫৮টি টিকিট বিক্রি হবে। ৬৪৪টি টিকিট অনলাইনে বাকি ৬১৪টি টিকিট কাউন্টারে দেওয়া হবে।

ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের ৪ হাজার ৫৪৮টি টিকিট বিক্রি হবে। এর মধ্যে ২ হাজার ২৫১টি টিকিট অনলাইনে এবং ২ হাজার ২৯৭টি টিকিট কাউন্টারে বিক্রি হবে। গতকাল বিক্রি হয় ২৫ হাজার ৫৭১টি টিকিট। বিশেষ ট্রেনের টিকিট বিক্রি হবে কাল থেকে।

 

"