২ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল এডিপি

গবেষণা যেন অনন্তকাল না চলে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ২২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আধুনিক প্রযুক্তি এনে গবেষণাকে চলমান রাখতে হবে। গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া যাবে না। তেমনি একটি বিষয়ের গবেষণা যেন অনন্তকাল না চলে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এ দিন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক

পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপি অনুমোদিত হয়। প্র মবারের মতো ২ লাখ কোটি টাকার ঘর ছাড়াল বার্ষিক উনড়বয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। আসছে অর্থবছরে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন পেয়েছে। সভায় এডিপি অনুমোদনের পরে সার্বিক বিষয়ে নির্দেশনা দেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং এজন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে। কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দিতে হবে। বিভিন্ন প্রকল্প কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা বলেন, প্রকল্প কাজে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রকল্প এলাকার খাস জমি থাকলে ভূমি অধিগ্রহণে নিরুৎসাহিত হতে হবে। সরকারি পাওনা পরিশোধের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশীয় পণ্যের স্বত্ব অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণার মাধ্যমে আমাদের পণ্যের স্বত্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বিশ্ব বুদ্ধিগত সম্পত্তি সংস্থা (ডব্লিউআইপিও) থেকে এই স্বীকৃতি আদায় করতে হবে। কেননা এরই মধ্যে আমাদের কিছু পণ্যের স্বত্ব অধিকার অন্য দেশ নিয়ে গেছে। পরে এসব বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, এনইসি সভায় ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি উপস্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এডিপির চূড়ান্ত অনুমোদন করেছেন। এটি রেকর্ড এডিপি অনুমোদন। এবারই প্রথম ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে এডিপি অনুমোদন হলো। মূল এডিপির বাইরে স্বায়ত্তশাসিত বা করপোরেশনের থেকে ১২ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকার জোগান রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ হাজার ৮২ কোটি টাকা নিজস্ব উৎস ও ৫ হাজার ৩১০ কোটি টাকা বিদেশি উৎস থেকে আসবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের অনুমোদিত এডিপি গত অর্থবছরের মূল এডিপির চেয়ে ১৭ দশমিক ১৮ শতাংশ ও সংশোধিত এডিপির ২১ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু ও পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় পরিবহন খাতে বরাদ্দ ৫২ হাজার ৮০৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ২৬ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২৬ হাজার ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা, যা মোট এডিপির ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২৪ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ১২ শতাংশ।

এছাড়াও শিক্ষা ও ধর্ম খাতে চতুর্থ সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৩৭৯ কোটি ১২ লাখ টাকা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণসহ বিজ্ঞান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে পঞ্চম সর্বোচ্চ বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫৪১ কোটি ২৬ লাখ টাকা।

পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৫ হাজার ১৫৭ কোটি ৪০ লাখ, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতে ১৩ হাজার ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ, কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬১৫ কোটি ৯৩ লাখ, পানিসম্পদ খাতে ৫ হাজার ৬৫২ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এডিপিতে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কেনাকাটা নিয়ে দুটি তদন্ত চলছে। একটি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (পিডাব্লিউডি) অন্যটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। আমরাও আইএমইডিকে দিয়ে তদন্ত করাব। রূপপুরে টিম যাবে। এই টিম কী তথ্য দেয় তা প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করা হবে। এর পরেই আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারব। উন্নয়ন থেমে থাকবে না। দেশের উন্নয়ন চলবে। আমাদের দেশের সব উন্নয়ন ধরে রাখব।

সাংবাদিকদের ব্রিফকালে অন্য মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছে কিÑ এমন প্রশ্নের জবাবে এম এ মান্নান বলেন, অন্য কোনো মন্ত্রণালয় বাড়তি বরাদ্দ চাইলে টাকার কোনো সমস্যা নেই। কোনো মন্ত্রণালয় বাড়তি চাহিদার কথা আমাদের বোঝাতে পারলে বাড়তি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন তুলে ধরে মন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের গবেষণা ও পাটে বিশেষ নজর দিতে বলেছেন। আমরা এই দুটি বিষয়ের উন্নয়নে কাজ করব। কিছু কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণ খুঁজতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

 

"