লক্ষ্য নাগরিক সেবা বাড়ানো

‘কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর’ চালু করবে ডিএসসিসি

প্রকাশ : ১৯ মে ২০১৯, ০০:০০

হাসান ইমন

নাগরিক সেবার মান বাড়াতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) প্রতিটি কাজে নগরবাসীকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটি প্রতিটি ওয়ার্ডকে চার ইউনিটে ভাগ করে ইউনিটপ্রতি সাতজন স্বেচ্ছাসেবীর কাজ করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। সপ্তাহে সাতজনের মধ্যে প্রতিদিনই একজন করে ওয়ার্ডের সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শের রিপোর্ট পাঠাবেন। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন ডিএসসিসির কর্মকর্তারা।

ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যেসব নাগরিক সেবা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কবাতি, মশক নিধন, রাস্তা/ড্রেন নির্মাণ ও মেরামত, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ) দেওয়া হয়, সেগুলো সম্পর্কে নাগরিকরা জানে না। আবার অনেকে অবগত থাকেন কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরামর্শ দিতে চান। কোন এলাকায় আবার নানা সমস্যায় জর্জরিত, সেগুলো সিটি করপোরেশননে জানাতে চায়। কিন্তু কোনোক্রমে সে পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না। সেই জন্য নগরবাসী সমস্যা সমাধানের বা অভিযোগ ও পরামর্শ দিতে পারে, এর জন্য একটি ক্লোজ গ্রুপ খোলা হবে। এ গ্রুপের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর’। রোজার ঈদের পর এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

আরো জানা গেছে, এ কার্যক্রম সফল করার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডকে চারটি ইউনিটে ভাগ করা হয়েছে। প্রতি ইউনিটে সাতজন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করবেন। একজন লোক সহজেই ৩০-৪০ মিনিটে তার আওতাধীন এলাকার রাস্তা, ড্রেন, সড়ক বাতিসহ অন্যান্য কার্যক্রম ঘুরে দেখতে পারবেন। আর সে অনুযায়ী একটা রিপোর্ট, পরামর্শ ও অভিযোগ দিতে পারবেন। আর এ কাজটি করবেন সংস্থাটির আওতাধীন এলাকার ১ হাজার ৫৯৬ জন স্বেচ্ছাসেবী। এ কাজটি ডিএসসিসির ৫৭টি ওয়ার্ডে এক যোগে শুরু হবে। এই গ্রুপটিকে সুন্দর এবং সফলভাবে পরিচালনা করার জন্য সংস্থাটির ৫টি অঞ্চলের প্রধানরা সমন্বয়ক হিসেবে থাকবেন। যে বিষয়ে অভিযোগ আসবে সেগুলো অঞ্চলের প্রত্যেক বিভাগে চলে যাবে। আর স্বেচ্ছাসেবীদের অভিযোগ, পরামর্শ ও রিপোর্ট পাওয়ার পর সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান দেওয়া হবে অঞ্চলের পক্ষ থেকে। যদি সমাধান দিতে দেরি হয়, তাহলে সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট বিভাগকে শাস্তির আওতায় আনা হবে।

অভিযোগ, পরামর্শ ও রিপোর্ট পাঠানোর জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের পরিচয়পত্র দেওয়া হবে। একইসঙ্গে লক বুক দেওয়া হবে। যোগাযোগের স্বার্থে স্বেচ্ছাসেবীদের সবাইকে ক্লোজ গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে যারা থাকবেন, তারা হলেনÑ ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল নেতাকর্মী, যাদের চাকরি শেষ বা এলপিআরে চলে গেছেন, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবীরা।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্মতারা বলছেন, এ উদ্যোগটি অবশ্যই ভালো উদ্যোগ। নগরবাসীকে যত বেশি কাজে লাগানো যায়, তত বেশি উন্নয়নের সুফল আসবে। জাপান, ভারতসহ অনেক উন্নত বা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রেও এভাবে সেবা দেওয়া হয়। তারা আরো বলেন, যে এলাকায় সমস্যা দেখা দিয়েছে সঙ্গে সঙ্গে তথ্য চলবে আসবে সিটি করপোরেশনে। ওই সমস্যা অনুযায়ী সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নেবে। আর যদি সমস্যাটি সমাধান না হয়, তাহলেও দেখা যাবে এ গ্রুপে।

এ বিষয়ে ডিএসসিসির বর্জ্যব্যবস্থানা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আ হ ম হারুন প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে যেসব নাগরিক সেবা দেওয়া হয়, সেগুলো কতটা মানসম্মত, তা এত দিন জানার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তাই নতুন করে এ গ্রুপটা তৈরি করে নগরবাসীকে যুক্ত করে তাদের পক্ষ থেকে সব সমস্যা বা অভিযোগ জানা যাবে। এতে সেবার মান আরো মানসম্মত করা সম্ভব হবে। নাগরিকরা আরো সচেতন হবেন।

এই কর্মকর্তা আরো বলেন, গত ১২ মে স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে মেয়রসহ সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে স্বেচ্ছাসেবীরা এ উদ্যেগ শুনে খুব খুশি হয়েছেন। তারা সন্তুষ্টি চিত্রে এ কাজে অংশগ্রহণ করবেন। রোজার ঈদের পর এ ‘কমিউনিটি অ্যাম্বাসাডর’ নামে এ গ্রুপের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

"