ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি

৩ পাচারকারী গ্রেফতার

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার পথে ভূমধ্য সাগরে নৌকাডুবির শিকার বাংলাদেশিরা যে মানব পাচার চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন, তার তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে আক্কাসকে, খিলক্ষেত থেকে এনামুলকে এবং বিমানবন্দর এলাকা থেকে রাজ্জাককে গ্রেফতার করা হয় বলে র‌্যাব সদর দফকরের সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান।

গ্রেফতার তিনজন হলেন- শরীয়তপুরের আক্কাস মাতুব্বর (৩৯), সিলেটের এনামুল হক তালুকদার (৪৬) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মো. আবদুর রাজ্জাক ভূঁইয়া (৩৪)।

লিবিয়ার জুয়ারা থেকে অবৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার পথে গত ১০ মে তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকা ডুবে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। ওই নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ ৩৯ বাংলাদেশির একটি তালিকা সরকারের পক্ষ প্রকাশ করা হয়েছে। জীবন বদলের আশা নিয়ে দালালদের ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইউরোপের পথে যাত্রা করেছিলেন এই বাংলাদেশিরা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে এ মোমেন সম্প্রতি এক ব্রিফিংয়ে জানান, যে মানব পাচার চক্র এ ঘটনায় জড়িত তার হোতাসহ পাঁচজনের বিষয়ে তথ্য পেয়েছে সরকার।

তিনজনকে গ্রেফতারের পর ?শুক্রবার কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, সিলেটের জিন্দাবাজারে ইয়াহিয়া ওবারসিজ নামে একটি এজেন্সি আছে এনামুলের। তিনি ১০ থেকে ১২ বছর ধরে মানবপাচারে জড়িত। আবদুর রাজ্জাক গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে এনামুলের দালাল হিসেবে কাজ করছিলেন। আক্কাসও দুই-তিন বছর ধরে মানব পাচার চক্রের দালাল হিসেবে কাজ করছেন।

মুফতি মাহমুদ বলেন, তারা মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছে। এই সংঘবদ্ধ চক্রটি বিদেশি চক্রের যোগসাজশে অবৈধভাবে ইউরোপে লোক পাঠিয়ে আসছে।

মানব পাচারের এই কাজটি তিনটি ধাপে করা হয় জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা মুফতি মাহমুদ খান বলেন, কারা অবৈধভাবে বিদেশে যেতে আগ্রহী, তাদের বাছাই করা হয় প্রথম ধাপে। তারপর তাদের বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া পাঠানো হয়। পরে লিবিয়া থেকে আরেকটি চক্রের মাধ্যমে পাঠানো হয় ইউরোপে। এই চক্রের দেশীয় এজেন্টরা প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্বল্প আয়ের মানুষদের অল্প খরচে উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অনেকেই তাদের প্রস্তাবে সাড়া দেয়।

পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা সংগ্রহ, টিকিট কেনাসহ যাবতীয় সব কাজ এই চক্রের মাধ্যমে হয় জানিয়ে মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এ জন্য এক একজনের কাছ থেকে ৭ থেকে ৭ লাখ টাকা তারা নিয়ে থাকে। এর মধ্যে সাড়ে চার বা পাঁচ লাখ টাকা লিবিয়া যাওয়ার আগেই দিতে হয়। লিবিয়া যাওয়ার পর বাকি টাকা আত্মীয়দের কাছ থেকে নেওয়া হয়। এই ‘মানব পাচার চক্রটি’ বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনটি রুট ব্যবহার করে থাকে বলে জানানো হয় র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলনে।

সেখানে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে তুরস্কের ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া, বাংলাদেশ থেকে ভারত, শ্রীলংকা হয়ে ট্রানজিট ব্যবহার করে ইস্তাম্বুল হয়ে লিবিয়া এবং বাংলাদেশ থেকে দুবাই ও জর্ডান হয়ে লিবিয়ার ত্রিপলি থেকে ইউরোপে লোক পাঠানো হয়।

মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ওই সিন্ডিকেট সমুদ্রপথে নৌযান চালনা, সমুদ্রে দিক নির্ণয় যন্ত্র ব্যবহারসহ কিছু বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে নৌকায় তুলে দেয় পাচারের শিকার মানুষগুলোকে। তিউনিশিয়া চ্যানেল হয়ে ইউরোপের দিকে রওনা দেয় তারা। এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পথে যাওয়ার সময় ভূমধ্য সাগরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।

 

 

"