রাজধানীতে কালবৈশাখী নিহত ৪, আহত ১৬

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

প্রতিদিনের সংবাদ ডেস্ক

রাজধানীতে হঠাৎ ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী বয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টিতে বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে একজন নিহত ও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ চালায়। অপরদিকে, রাজধানীর বাড্ডায় ঝড়ের কবলে পড়ে দেওয়াল ধসে তিনজন নিহত হয়েছেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাদের পরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় আরো একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আর বিরূপ আবহাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, ‘বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে আহত ১৬ জনের মধ্যে শফিকুল (৩৮) নামে এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ১৫ জন মুসল্লি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢাকা মেডিকেলে আহতদের একজন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক (মসজিদ ও মার্কেট বিভাগ) মুহাম্মদ মহীউদ্দিন মজুমদার বলেন, ‘শুক্রবার দিন মসজিদে প্রচুর লোক হয়, এর মধ্যে রমজান মাস, তাই মসজিদের দক্ষিণ গেটে মুসল্লিদের নামাজের জন্য একটি প্যান্ডেল করা হয়। মাগরিবের নামাজের সময় প্রবল ঝড়ে প্যান্ডেলটি ভেঙে পড়ে যায়। তখন সেখানে ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো মুসল্লি ছিল। এরপর আমরা ১৪-১৫ জন মুসল্লিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এর মধ্যে দু-তিনজনের অবস্থা গুরুতর দেখেছি।’

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদর দফতরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার মো. রাসেল সিকদার বলেন, ‘বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে নামাজের জন্য তৈরি একটি প্যান্ডেল ঝড়ো বাতাসে ভেঙে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।’

পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ঝড়ে মসজিদের দক্ষিণ গেটের প্যান্ডেল ভেঙে পড়ে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন মুসল্লি আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তাদের সঙ্গে পল্টন থানা পুলিশও কাজ করছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টÑ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, কালবৈশাখীতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় একটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার শুকানপুকুরী ইউনিয়নের বাংরোড গ্রামের ওপর দিয়ে এ ঝড় বয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানান। চার থেকে পাঁচ মিনিটের ওই ঝড়ে নূর হক, খেলাফত, কান্দরু, শফিকুল ইসলাম, মোশারফ হোসেন, আবদুল করিম, আবদুর রহিম, অনিল চন্দ্র, সুধির ঘোষ, ঋষিকান্তের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে উপড়ে পড়েছে গ্রামের অসংখ্য গাছপালা; বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বিদ্যুৎসংযোগ। নষ্ট হয়েছে বিভিন্ন ফসল। শুখানপুকুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান বলেন, হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে বাংরোড গ্রামে ১৮টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে ১০টি পরিবার একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সর্বাত্মক সহায়তা দেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

বিআইডব্লিউটিএ আরিচা কার্যালয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক মহিউদ্দিন রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল শুরু করা হবে।

এদিকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মহাসড়কের উভয় পাশে দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। শত শত মালবাহী ও যাত্রীবাহী বাস-ট্রাক আটকা পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রীরা।

অপরদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী তিন দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে। মাদারীপুর অঞ্চলসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, তা বিস্তার লাভ করতে পারে। আর সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতের তাপমাত্রাও সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের শুক্রবার সকাল ৯টা পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার তাপপ্রবাহ ও তাপমাত্রার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে আরো বলা হয়, কুমিল্লা অঞ্চলসহ রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের দুই-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকাবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

 

"