ব্যর্থ মোদি, বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন : রাহুল

৩০০ আসন নিয়ে ফের সরকারে আসব : মোদি

প্রকাশ : ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

লোকসভা নির্বাচনের সাত দফার প্রচার পর্ব শেষ। কাল রোববার শেষ দফার ভোটগ্রহণ। ফল ঘোষণা ২৩ মে। তার আগে ফের সরকার গঠনে আশাবাদী বিজেপি। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহদের দাবি, এবারও বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করবে বিজেপি। ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০০ আসন জিতবে বিজেপি। নরেন্দ্র মোদির মতে, পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে একই সরকার পরপর দুবার নির্বাচিত হয়ে আসছে, এটা বিরাট বিষয়। কিন্তু অন্যরা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, নয়তো পারিবারিক সূত্রে। আগের চেয়ে এখনকার প্রধানমন্ত্রীদের বেশি পরিশ্রম করতে হয়, বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, আবার এখন সোশ্যাল মিডিয়া এসে যাওয়ায় দ্বিগুণ পরিশ্রম করতে হয়। একই অবস্থা হয় ভোটের সময় নেতা-নেত্রীদের। নরেন্দ্র মোদির দাবি, দেশের পরম্পরা, সংস্কৃতি, আজ যখন সরকার সক্ষম হয়, তখন আইপিএল, নবরাত্রি, রমজান থেকে সবকিছুই শান্তিতে হয়। দেশে গণতন্ত্র কত শক্তিশালী, সেটা বিশ্ববাসী দেখেই বুঝতে পারে। মোদি মনে করেন, কিছু কথা সারা দেশের কাছে গর্ব করে বলতে পারা যায়, এটা বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি গত ৫ বছরে একবারও প্রেস কনফারেন্স বা সংবাদ সম্মেলন করেননি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি গত ৫ বছরে একবারও প্রেস কনফারেন্স বা সংবাদ সম্মেলন করেননি। পছন্দমতো, ইন্টারভিউ দিয়েছেন, যখন তার মনে হয়েছে। এ অবস্থায় শেষ দফার ভোটের আগে নরেন্দ্র মোদি শুরুই করেছেন, আজ লোকজন পাল্টে গেছে, দেখে ভালো লাগছে। বলেছেন, দলের নেতাদের জন্য চা বানাতাম, প্রথমে তো আমি এই কাজটাই করতাম। আর পাশে বসে, এরপরই অমিত শাহ ধারতাই করেছেন, ২৩ মে যখন ভোটের ফল ঘোষণা হবে, তখনই বোঝা যাবে, দেশে ফের মোদিই প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ৫৪৩ আসনের মধ্যে ৩০০ আসন জিতবে বিজেপি।

প্রায় একই সময়ে, সপ্তম তথা শেষ দফার নির্বাচনের প্রচার শেষ হওয়ার আগে দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বলেছেন, রিজার্ভ ব্যাংক, সংবিধান, সুপ্রিম কোর্ট, নরেন্দ্র মোদি, আরএসএস এবং বিজেপির হাত রেখে রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে। এসব প্রতিষ্ঠান দেশের স্তম্ভ। বলেছেন, পাঁচ বছর আগে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে যখন এসেছিলেন, তখন অনেক প্রত্যাশা ছিল। ভেবেছিলেন, কর্মসংস্থান, কৃষকদের জন্য অনেক কিছু করবেন। কিন্তু, দেশের পরিস্থিতি বুঝতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। এখন দেশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এরপরই চেনা সুরে রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, আমার সঙ্গে বিতর্ক করার সাহস হলো না নরেন্দ্র মোদির। এতবার চ্যালেঞ্জ করলাম। নরেন্দ্র মোদির সব মিথ্যা বের করেছি। আমরা আমাদের কাজ পাঁচ বছর ধরে করেছি। এবার জনতার হাতে সবকিছু। বলেছেন, ওর (পড়ুন নরেন্দ্র মোদির) বাবা-মা কোনো ভুল করলেও আমি কিছু বলব না। এটা সৌজন্যের বিষয়। আমার বাবা-মাকে নিয়ে হাজার খারাপ কথা বললেও আমি বলব না। এটাই শিক্ষা। রাহুল গান্ধীর কথায়, গত পাঁচ বছরে অনেক প্রশ্ন তুলেছি। একটাও উত্তর পাইনি। নোটবন্দি, গব্বর ট্যাক্স, বালাকোট, কোনো উত্তর আসেনি। কোনো প্রশ্নের জবাব দেন না নরেন্দ্র মোদি, প্রথমবার অমিত শাহের সঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছেন দেখে রাহুল গান্ধীর ভালো লাগছে।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেয়েছেন কলকাতার সাবেক পুলিশ কমিশনার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহাস্পদ রাজীব কুমার। সারদা আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তদন্তে গ্রেফতার না হওয়ার যে রক্ষাকবচ তাকে দিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। তবে আগামী সাত দিন রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না সিবিআই। অর্থাৎ আরো এক সপ্তাহ শীর্ষ আদালতের রক্ষাকবচ বজায় থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি দীপক গুপ্ত এবং বিচারপতি সঞ্জীব খন্নার বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছেন, মামলার প্রয়োজনে রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পারবে সিবিআই। তবে তার অর্থ এই নয়, রাজীব কুমারকে সরাসরি গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছের সুপ্রিম কোর্ট। এর অর্থ, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার বা হেফাজতে নিয়ে জেরার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কোনো বাধা রইল না। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ রায়দানের সময় উল্লেখ করেছেন, রাজীব কুমারও আইনি সুরক্ষা পেতে সাত দিন সময় পাবেন। ওই সাত দিন সিবিআই গ্রেফতার বা হেফাজতে নিতে পারবে না রাজীব কুমারকে।

এদিকে আবার, লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে যে কোনো সময় আবার বড় মাপের সন্ত্রাসবাদী হামলার শিকার হতে পারে ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর। এমনই সতর্কবার্তা জারি করেছে, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দফতর। খবর, শ্রীনগর এবং অবন্তিপুরায় নাশকতার পরিকল্পনা করেছে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী। বিশেষ করে হামলা চালানোর ছক সাজানো হয়েছে ওই দুই অঞ্চলে বায়ুসেনার ঘাঁটিতে। নির্বাচন কেন্দ্র করে গত এক মাসের ওপর কাশ্মীর উপত্যকায় টানটান উত্তেজনা রয়েছে। বিক্ষিপ্ত কিছু সন্ত্রাসবাদী হামলাও ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম হয়েছে কয়েকজন সন্ত্রাসবাদী। এ পরিস্থিতিতে বড়সড় সন্ত্রাসবাদী হামলার সম্ভাবনায় স্বভাবতই সতর্ক জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ এবং নিরাপত্তা বাহিনী। সতর্কবার্তা পাওয়ার পরে উপত্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো মজবুত করে গড়ে তোলা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট।

 

"