আরো দুই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল

মানহীন পণ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের নির্দেশ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিম্নমানের পণ্য হিসেবে চিহ্নিত ৫২টি খাদ্যপণ্যের মধ্যে আরো দুটি পণ্যের উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বিএসটিআই। পাশাপাশি ২৫টি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিএসটিআইয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি এর সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক প্রচার বন্ধ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ নিয়ে ওই ৫২ পণ্যের মধ্যে ১১টি পণ্যের উৎপাদক, ৯টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল এবং ৪৫টির লাইসেন্স স্থগিত করা হলো। গত বুধবারই বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের এসএস কনজুমার প্রোডাক্টের ‘পিওর হাটহাজারী’ ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া এবং নওগাঁর কিরণ ট্রেডার্সের ‘কিরণ’ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাইয়ের লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা আসে।

এদিন লাইসেন্স স্থগিত করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-

১. ঢাকার বাঘাবাড়ী স্পেশাল ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ী স্পেশাল’ ব্র্যান্ডের ঘি, ২. সিলেটের নিশিতা ফুডসের ‘নিশিতা’ ব্র্যান্ডের সুজি, ৩. সিলেটের মঞ্জিল ফুডস অ্যান্ড প্রোডাক্টসের মঞ্জিল ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, ৪. কুষ্টিয়ার শান ফুডের ‘শান’ ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, ৫. রাজশাহীর কাশেম ট্রেডার্সের ‘ডলফিন’ ব্র্যান্ডের হলুদের গুঁড়া, ৬. রাজশাহীর কাশেম ট্রেডার্সের ‘ডলফিন’ ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া, ৭. রাজশাহীর আমিরুল ট্রেডার্সের ‘সূর্য’ ব্র্যান্ডের মরিচের গুঁড়া, ৮. খুলনার গ্রিন ল্যান্ডস মিল্ক প্রোডাক্টসের গ্রিন ল্যান্ডস ব্র্যান্ডের মধু, ৯. খুলনার মধুমতি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মধুমতি ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১০. ঝালকাঠির নূর সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ‘নূর স্পেশাল’ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১১. ঝালকাঠির নিউ ঝালকাঠি সল্ট মিলসের ‘দাদা সুপার’ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১২. ঝালকাঠির কোয়ালিটি সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ‘তিন তীর ব্রান্ডের’ আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১৩. ঝালকাঠির লাকী সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের মদিনা ও স্টারশিপ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১৪. ঝালকাঠির তাজ সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজের ‘তাজ’ ব্র্যান্ডের আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১৫. ঝালকাঠির জেদ্দা ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের ‘জেদ্দা’ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ১৬. বরিশালের অমৃত ফুড প্রোডাক্টসের ‘অমৃত’ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ১৭. সিলেটের মধুফুল অ্যান্ড প্রোডাক্টসের ‘মধুফুল’ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ১৮. চট্টগ্রামের মিঠাই সুইটস অ্যান্ড বেকারির মিঠাই ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ১৯. চট্টগ্রামের ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ‘ওয়েল ফুড’ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ২০. চট্টগ্রামের মিষ্টিমেলা ফুড প্রোডাক্টসের ‘মিষ্টিমেলা‘ ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ২১. চট্টগ্রামের মধুবন ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুটের মধুবন ব্র্যান্ডের লাচ্ছা সেমাই, ২২. চট্টগ্রামের কেআর ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের কিং ব্র্যান্ডের ময়দা, ২৩. চট্টগ্রামের রূপসা ফুড প্রোডাক্টসের রূপসা ব্র্যান্ডের ফারমেন্টেড মিল্ক, ২৪. চট্টগ্রামের ইমতিয়াজ ব্রেড অ্যান্ড ফুডের মেহেদী ব্র্যান্ডের বিস্কুট এবং ২৫. ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাঈয়েবা ফুড প্রোডাক্টসের মক্কা ব্র্যান্ডের চানাচুর। মনোন্নয়ন করে আবার লাইসেন্স গ্রহণের আগে এসব পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এমনকি খুচরা বিক্রি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসটিআই বলছে, রোজা শুরুর আগে বাজারে গোপন অভিযান চালিয়ে ৪০৬টি পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। এসব পণ্যের মধ্যে ৫২টি পণ্য নিম্নমানের হিসেবে চিহ্নিত হয় ল্যাবরেটরি পরীক্ষায়। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট বিপণন কোম্পানিগুলোকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়।

বিএসটিআইয়ের সার্টিফিকেশন মার্কস বিভাগের উপপরিচালক রিয়াজুল হক বলেন, নোটিসের জবাব দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পরও উত্তর না আসায় ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

"