দেশে ফিরেছেন ওবায়দুল কাদের

প্রকাশ | ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসা শেষে দীর্ঘ দুই মাস ১১ দিন পর সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ৫টা ৫০ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

দেশে ফিরে বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমার ওই দুঃসময়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরম মমতা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি একজন মমতাময়ী মা। তিনি সত্যিই মাদার অব হিউম্যানিটি। তার কাছে আমার ঋণের বোঝা আরো বেড়ে গেল।’

নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে নতুন উদ্যোমে আওয়ামী লীগের পাশে থেকে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার দলের সব নেতাকর্মীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। যারা হাসপাতালে আমার ওই সময়ে ছুটে এসেছিলেন। ওই সময় আমার মধ্যে আমি ছিলাম না, আমি জানতাম না আমার কী হয়েছে। একজন রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় অর্জন জনগণের ভালোবাসা পাওয়া, যা আমি পেয়েছি।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আহমেদ হোসেন, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের নেতারা বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান।

৬৭ বছর বয়সি ওবায়দুল কাদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ছাড়াও শ্বাসতন্ত্রের জটিল রোগ সিওপিডিতে (ক্রনিক অবসট্রাকটিভপালমোনারি ডিজিজ) ভুগছেন।

উল্লেখ, গত ২ মার্চ ভোরে ঢাকায় নিজ বাড়িতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ওবায়দুল কাদের। সেখানে দ্রুত এনজিওগ্রাম করা হলে তার হৃৎপি-ের রক্তনালিতে তিনটি বড় ব্লক ধরা পড়ে। এরই মধ্যে একটি ব্লক স্টেন্টিংয়ের (রিং পরানো) মাধ্যমে দ্রুত অপসারণ করেন চিকিৎসকরা। ৪ মার্চ বিকেলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে সেখানকার মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গত ২০ মার্চ সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ওবায়দুল কাদেরের বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। সার্জারি করেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সিনিয়র সদস্য কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. সিবাস্টিন কুমার সামি। ডা. ফিলিপ কোহে এই চিকিৎসা বোর্ডের নেতৃত্বে ছিলেন।

কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ওবায়দুল কাদের। তবে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের কাছেই একটি ভাড়া নেওয়া অ্যাপার্টমেন্টে ছিলেন তিনি। সেখান থেকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসক ডা. ফিলিপ কোহের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।

 

"