উত্তরখানে ৩ লাশ

রহস্যের জট খুলবে ভিসেরা রিপোর্টে

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরখানে একই পরিবারের তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুজনকে হত্যার পর একজন আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক। তবে মা ও ছেলেমেয়ের মধ্যে কে কাকে খুন করেছে আর কে আত্মহত্যা করেছে, তা বুঝতে ভিসেরা প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করার কথা বলেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। গতকাল বুধবার তিনি বলেন, কেউ বিষ পান করে থাকলে তা ভিসেরা প্রতিবেদনে জানা যাবে। তখন হয়তো স্পষ্ট হবে, কোন দুজনকে হত্যার পর কে আত্মহত্যা করেছে।

গত ১২ মে রাতে উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার এক বাসার দরজা ভেঙে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় মা ও মেয়ের লাশ ছিল বিছানায়; আর ছেলের লাশ মেঝেতে পড়ে ছিল। লাশগুলো ফুলতে শুরু করেছিল বলে দিন দুই আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। পরদিন তিনজনের ময়নাতদন্তের পর ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, তিনজনের মধ্যে মা জাহানারা বেগম মুক্তা (৪৮) এবং তার প্রতিবন্ধী মেয়ে আতিয়া সুলতানা মিমের (১৯) মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। আর জাহানারার ছেলে মহিব হাসান রশ্মির (২৭) মৃত্যু হয়েছে গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে।

উত্তরখান থানা পুলিশ জানিয়েছিল, রশ্মির গলার বাঁ থেকে ডান দিকে ধারালো অস্ত্রের পোচ ছিল। পাশেই পড়েছিল একটি রক্তমাখা বঁটি। ঘরের দুই জায়গায় দুটো চিরকুট পাওয়া গেছে। দুই চিরকুটের বক্তব্য একই, তবে হাতের লেখা আলাদা। তাতে লেখা ছিল, ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য আমাদের ভাগ্য এবং আমাদের আত্মীয়স্বজনের অবহেলা দায়ী। আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের সম্পত্তি দান করা হোক।’ উত্তরখানের ওসি খলিলুর রহমান বলেছিলেন, রশ্মির বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পর অর্থসংকটে ছিল পরিবারটি। এক সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং আরেক সন্তানের চাকরি না হওয়ায় অনটন আর হতাশা থেকে তারা আত্মহত্যা করে থাকতে পারে।

জানা গেছে, মহিব হাসান রশ্মিদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের জগন্নাথপুরে। তার বাবা ইকবাল হোসেন মারা গেছেন ২০১৬ সালে। আত্মীয়দের সঙ্গে জমি নিয়েও সমস্যা ছিল। নিহত জাহানারার ভাই মনিরুল হক জানান, তার বোনজামাই বিআরডিবিতে চাকরি করতেন। মূলত তার মৃত্যুতে পরিবারে হতাশা নেমে আসে। এ মাসের শুরুতে ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন রশ্মি। এমবিএ শেষ করার পরও তিনি হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন।

দিন দশেক আগে রশ্মি ফেসবুকে হতাশা প্রকাশ করে একটি পোস্ট দেন। সেখানে লেখা ছিল, ‘জীবনের জন্য টাকা আর টাকাই সব।’ তিনজনের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জাহানারার ভাই মনিরুল উত্তরখান থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। সেখানে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়।

 

"