হাইকোর্টের হুশিয়ারি

মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না

প্রকাশ : ১৬ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব রয়েছে তাদের হুশিয়ার করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারকে সতর্ক করে আদালত বলেছেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে আদালত কাউকে ছাড় দেবেন না। মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা যাবে না। মানুষের স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে জীবন থেকে লাভ কী? এসব ব্যাপারে কোনো ছাড় দেব না।’ দুধ, দইয়ে ক্ষতিকর মাত্রার অনুজীব, টেট্রাসাইক্লিন, কীটনাশক ও সিসার উপস্থিতি নিয়ে জারি করা রুলের শুনানিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে গতকাল বুধবার এই হুশিয়ারি আসে।

আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন ফরিদুল ইসলাম। বিএসটিআইর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিনউদ্দিন মানিক। আর দুদকের পক্ষে ছিলেন সৈয়দ মামুন মাহবুব। দুধ, দই এবং পশু খাদ্যে ভেজাল মেশানোয় কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান জড়িত তা জানাতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়ে বুধবার রিট মামলাটি আদেশের জন্য রেখেছিল আদালত। শুনানি শুরু হলে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সময় আবেদন করেন। আদালত ২৩ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন তাদের।তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের গবেষণা প্রতিবেদনটি না দেওয়ায় জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান শাহনীলা ফেরদৌসীকে ২১ মে আদালতে তলব করা হয়েছে। এক পর্যায়ে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী হাসান মামুন বলেন, ‘প্রফেসর শাহনীলা ফেরদৌসী (নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের প্রধান) যে রিপোর্ট করেছেন, সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। ওই রিপোর্ট করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। বিএসটিআই তো একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি স্ট্যান্ডার্ডকে মেইনটেইন করে পরীক্ষা করে রিপোর্ট করে। উনি (শাহনীলা ফেরদৌসী) তো ঢাকাসহ তিন জেলার ছয়টি উপজেলাসহ ১৮টি স্থান থেকে দুধের পাশাপাশি অন্যান্য নমুনাও সংগ্রহ করে রিপোর্টটি করেছেন। এখানে তো সারা দেশের সামগ্রিক চিত্র নাও উঠে আসতে পারে। আর এই সব রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশের পর আতঙ্ক তৈরি হয়।’

তখন বিচারক বলেন, ‘এটা বলতে হবে যে, মিডিয়াতে এই সব ভেজাল বিষয় উঠে আসার কারণেই আমরা বিষয়গুলো জানতে পারি। তাই মিডিয়াকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। তারা বিষয়গুলো সামনে না নিয়ে এলে আমরা তো জানতেই পারতাম না।’

 

"