রাসায়নিক পরীক্ষা

আলামতে মিলেছে কেরোসিন

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জব্দকৃত আলামতের নমুনা পরীক্ষা করে দাহ্য পদার্থ (কেরোসিন) পাওয়া গেছে। জব্দকৃত নমুনার রাসায়নিক পরীক্ষার শেষে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ। সেই প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সিআইডি রাসায়নিক পরীক্ষাগারের প্রধান পরীক্ষক ড. দিলীপ কুমার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘আমরা সোমবার পরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। হত্যা সংশ্লিষ্ট জব্দকৃত আলামতে দাহ্য পদার্থের নমুনা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নুসরাত হত্যাকা-ে কেরোসিন ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।’

পরীক্ষাগার সূত্রে আরো জানা গেছে, নুসরাত হত্যার জব্দকৃত আলামত পরীক্ষার জন্য গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফি এবং ম্যাস স্পেক্ট্রোফটোমিটার ও অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে নমুনায় কেরোসিনের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই পরীক্ষাগারের এক পরীক্ষক বলেন, জব্দকৃত নিহতের পরনের সালোয়ার ও বোরকার পোড়া অংশ বিশেষ এবং দুটি কালো রঙয়ের পলিথিন রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা কেরোসিনের উপস্থিতি পেয়েছি। চলতি মাসেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের কথা রয়েছে। আমাদের রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ৬ এপ্রিল সকালে নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যান। ওই সময় মাদ্রাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করছেÑ এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় যান। সেখানে রাফির ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়।

মুখোশ পরিহিত চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা কেরোসিন নিক্ষেপ করে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

গত ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নুসরাত। ওই ঘটনায় রাফির মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন।

চাঞ্চল্যকর ওই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে থানা পুলিশের পরিবর্তে তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্তের স্বার্থে ভিকটিমের পরিহিত সালোয়ার ও বোরকার পোড়া অংশ বিশেষ এবং দুটি কালো রঙের পলিথিন জব্দ করা হয়। আদালতের ক্ষমতাপত্র ও আদেশনামাসহ জব্দকৃত আলামতগুলো পরীক্ষার জন্য গত ২ মে সিআইডি রাসায়নিক পরীক্ষাগার চট্টগ্রামে পাঠানো হয়।

 

"