এডিপির ৩০ শতাংশ প্রকল্প পিপিপিতে গ্রহণ করা হচ্ছে

প্রকাশ : ১৫ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ২০১৯-২০ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এডিপিতে ৩০ শতাংশ প্রকল্প পিপিপিতে গ্রহণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বিশেষ গুরুত্বপ্রাপ্ত বিষয় হচ্ছে, জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প বিষয়ক রুলস, পিপিপি সংক্রান্ত সিরিজ প্রশিক্ষণ, বোর্ড অব গভর্ন্যান্স সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রকল্প রিভিউ সভা, পিপিপি টিএএফ ফান্ডে অর্থ হস্তান্তর, পিপিপি প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনার বিষয়ও এর মধ্যে রয়েছে। এ ছাড়া পিপিপি আইন-২০১৫ সংশোধন, বাংলাদেশ-জাপান জিটুজি পার্টনারশিপ হালনাগাদকরণ, প্রকল্পের সমন্বয়করণ ও পরিচালনে গুরুত্ব, এডিপিতে ৩০ শতাংশ প্রকল্প পিপিপিতে গ্রহণ এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পিপিপি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ কাক্সিক্ষত মাত্রায় নেওয়ার জন্য এসব বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, ২০১৯-২০ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) পিপিপিতে বাস্তবায়নের জন্য ৭৮টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে এর সংখ্যা রয়েছে ৩৭টি। প্রস্তাবিত উন্নয়ন বাজেটের খসড়ায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর বিনিয়োগ প্রকল্পের ৩০ শতাংশ পিপিপির আওতায় বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়। এজন্য ১৮-২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রোগ্রামিং কমিটির সভায় আরো বেশি প্রকল্প গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। একই বিষয় এডিপির নির্দেশিকা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের চিঠিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এরপর সেক্টরের মাধ্যমে ৬১টি পিপিপির প্রকল্প তালিকা পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি ছিল অনুমোদিত। এ ছাড়া পিপিপি কর্তৃপক্ষ থেকে আরো ৪৭টি অনুমোদিত পিপিপি প্রকল্পের তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সেক্টর থেকে পাওয়া তালিকার ৩০টি প্রকল্পও রয়েছে। তাই সব মিলিয়ে ৭৮টি প্রকল্প আগামী অর্থবছরের এডিপিতে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, তালিকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প, উভয় পার্শ্বে সার্ভিস লেনসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এক্সপ্রেসওয়েতে উন্নীতকরণ, উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ ঢাকা সার্কুলার রুট দ্বিতীয় অংশ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ (আবদুল্লাহপুর-ধউর-বিরুলিয়া-গাবতলী-বাবুবাজার-ফতুল্লা-চাষাঢ়া-সাইনবোর্ড পর্যন্ত ৩৭ কিলোমিটার), মিরপুর-৯নং সেকশনে স্যাটেলাইট সিটি নির্মাণ এবং ঢাকা বাইপাস সড়ক (মদনপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-জয়দেবপুর) চার লেনে উন্নীতকরণসহ অনেক বড় বড় প্রকল্প রয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১৫ মে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প বিষয়ক রুলস-২০১৮ জারি করা হয়েছে। রুল অনুসরণ করে এ যাবৎকালে একটি প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। আরো একটি প্রকল্পের ক্রয় কার্যক্রম চলমান। পিপিপি বিষয়ে সিরিজ প্রশিক্ষণের একটি প্রস্তাব গত বছরের ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরে অর্থবিভাগের অনুমোদন দিয়ে এখন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ বিষয়ে আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে পশ্চিমা উন্নত দেশ ছাড়াও এশিয়া ও পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো বিবেচনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত বছরের ৩০ মে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বোর্ড অব গভর্নরসের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রাখার তাগিদ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পরবর্তী সভায় বাস্তবায়ন অগ্রগতি উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের জন্য গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ৩ মাস পরপর এ সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২০ মে পিপিপি টিএএফ ফান্ডে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে মুখ্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার অফিসে মঞ্জুরিপত্র পাঠানো হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। পিপিপি প্রকল্পের জন্য বিশেষ প্রণোদনা দিতে গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রয়োজন অনুসারে এসআরও জারি করা হয়েছে কি না, সেটি পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে সভায়। পিপিপি সংস্কার কর্মসূচি হালনাগাদকরণে বোর্ড অব গভর্নরসের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগের সভায় পিপিপি আইন-২০১৫ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে পিপিপি আইন-২০১৫ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

"