উত্তরায় বাড়ি থেকে তিন লাশ উদ্ধার

ছেলেকে গলা কেটে হত্যা মা-মেয়েকে শ্বাসরোধে

প্রকাশ : ১৪ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ভৈরব প্রতিনিধি

রাজধানীর উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকায় মা-মেয়েকে শ্বাসরোধে এবং ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত রোববার রাতে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তাদের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের জগন্নাথপুর উত্তরপাড়ায়। তারা সপ্তাহখানেক আগে ভৈরবের ভাড়া বাড়ি ছেড়ে উত্তরখানে উঠেছিলেন। নিহতরা হলেন মা জাহানারা বেগম ওরফে মুক্তা (৪৫), ছেলে কাজী মুহিব হাসান (২৮) ও মেয়ে তাসপিয়া সুলতানা (২০)। তাসপিয়া প্রতিবন্ধী ছিলেন। এদিকে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করে ওই তিনজন আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানালেন ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে।

ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন, অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে এ কথা জানান তিনি।

এই চিকিৎসক জানান, মা জাহানারা বেগমের গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাতের হালকা দাগ রয়েছে। তবে তাকে শ্বাস রোধে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিমের গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে। জাহানারা বেগমের ছেলে মুহিব হাসানকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।

লাশ উদ্ধারের পর উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজার ছিটকিনি ভেঙে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। ভেতরের কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া গেছে। চিরকুটটি মোবাইল ফোন দিয়ে চাপা দেওয়া ছিল। তাতে লেখা আছে, আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য ও আমাদের আত্মীয়-স্বজন দায়ী।

উত্তরখানের ওই বাসাটি মা-ছেলেমেয়ে দেড় মাস আগে ভাড়া নিয়েছিলেন। ছেলে মুহিব হাসান বেকার ছিলেন। সম্প্রতি ৪০তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে অংশ নেন তিনি। এদিকে জগন্নাথপুর উত্তরপাড়ার ইকবালের পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে, জাহানারা বেগমের স্বামী ইকবাল হোসেন ছিলেন বিআরডিবি অফিসের ব্যবস্থাপক। ২০১৬ সালে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় হৃদ?যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। ইকবাল বড়লেখায় কর্মরত থাকলেও দীর্ঘদিন পরিবারটি থাকত ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। ইকবালের মৃত্যুর পর পরিবারটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস শুরু করে। মাস দুয়েক আগে ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বাসাটি ছেড়ে তিন সদস্যের পরিবারটি বাড়ি ফিরে আসে। বাড়িতে তাদের থাকার নিজস্ব ঘর না থাকায় পাশের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন।

 

"