এফআর টাওয়ার উঁচু হয় জাল নকশায়

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার বনানীর এফআর টাওয়ারের ১৮ তলার ওপরের যে অংশকে ‘অবৈধ’ বলছে রাজউক; এ সংস্থাই সেই অংশের তিনতলা বন্ধক রেখে ঋণ নিতে রূপায়ণকে অনুমতি দিয়েছিল। বহুতল এই বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিকা- তদন্তে গঠিত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কমিটির তদন্তে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে; কমিটি ওই সময়ে এই অনুমোদনে জড়িত রাজউকের সংশ্লিষ্ট সবার নামও চেয়েছে। রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড দাবি করেছে, রাজউকের অনুমতি নিয়েই ভবন পাঁচতলা বাড়ানো হয়েছিল, ঋণের আবেদন মঞ্জুরই তার প্রমাণ।

তবে রাজউক কর্মকর্তারা এখন বলছেন, রূপায়ণ কোনো অনুমতিই নেয়নি, জাল নকশা ব্যবহার করে ভবন উঁচু করেছিল। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় রাজউকের এস্টেট ও ভূমি শাখার তৎকালীন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করছেন সংস্থার এখনকার কর্মকর্তারা। এই অনিয়মে রাজউকের কারো যোগসাজশ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গত ২৮ মার্চ এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ২৭ নিহত হওয়ার পর এই ভবন নির্মাণে নানা অনিয়মের বিষয়গুলো বেরিয়ে আসতে থাকে। এই ভবনের জমির মূল মালিক ছিলেন প্রকৌশলী এস এম এইচ আই ফারুক। অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ভবনটি নির্মাণ করে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেড। সে কারণে সংক্ষেপে ভবনের নাম হয় এফআর টাওয়ার। অগ্নিকা-ের পর সরকারের বিভিন্ন সংস্থা চারটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তার একটি গঠন করে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

এ কমিটির সদস্যসচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম গত ১৬ এপ্রিল রাজউকের উপপরিচালকের (এস্টেট ও ভূমি-১) কাছে একটি চিঠি পাঠান। তাতে বলা হয়, এফআর টাওয়ার-সংক্রান্ত নথির নোটাংশের নোটানুচ্ছেদ ৮৬ ও ৮৭ পরিপ্রেক্ষিতে ওই ভবনের এবিসিডি ২০, ২১ ও ২২ তলার অফিস স্পেসগুলো জিএসপি ফাইন্যান্স বাংলাদেশ লিমিটেডের অনুকূলে বাণিজ্যিক ঋণ গ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। ওই নথির সংশ্লিষ্ট নোটাংশে স্বাক্ষরকারী রাজউকের প্রত্যেক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীর নাম ও ঠিকানা তদন্ত কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়। পরে গত ১৮ এপ্রিল রাজউক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির কাছে ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম-ঠিকানা পাঠায়। দেখা গেছে, এস্টেট ও ভূমি শাখার সদস্য মো. রেজাউল করিম তরফদার, পরিচালক মো. শামসুল আলম, মুহাম্মদ শওকত আলী, সহকারী পরিচালক শাহ মুহাম্মদ সদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক সহকারী পরিচালক জাহানারা বেগম এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান মোল্লা ওই নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

২০০৪ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে ২০০৬ সালের ৪ জুলাই পর্যন্ত রাজউকে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন তৎকালীন উপসচিব মো. রেজাউল করিম তরফদার।

উপসচিব মো. শামসুল আলম ২০০৫ সালের ৯ অক্টোবরে প্রেষণে রাজউকে আসেন। ২০০৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মুহাম্মদ শওকত আলী ২০০৪ সালের ১৯ অক্টোবর প্রেষণে উপপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান। তাকেও ২০০৭ সালের ৩১ অক্টোবর অব্যাহতি দেওয়া হয়। এই তিন কর্মকর্তার বর্তমান অবস্থান ও ঠিকানা নেই রাজউকের কাছে। সহকারী পরিচালক সদরুল আলম রাজউকে কর্মরত, থাকেন রাজউকের বনানী কোয়ার্টারে।

তত্ত্বাবধায়ক সহকারী পরিচালক জাহানারা বেগম অবসরে গেছেন। অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মজিবুর রহমান মোল্লা সাময়িক বরখাস্ত।

আর রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিয়াকত আলী খান মুকুল বর্তমানে রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান। তিনি বিদেশে বলে তার প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

তবে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের উপদেষ্টা পাটোয়ারী জহির উল্লাহ (পি জে উল্লাহ) দাবি করেছেন, তারা অনুমতি নিয়ে বৈধভাবেই ২৩ তলা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।

 

"