সফর ও অসুস্থতায় রোজা...

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

মাহমুদ আহমদ

আল্লাহপাকের অপার কৃপায় আজ সপ্তম রমজান অতিবাহিত করছি, আলহামদুলিল্লাহ। দ্রুতই কেটে যাচ্ছে রহমতের দশক। ইসলাম ধর্মে পৃথিবীতে বসবাসকারী মানুষের ফিতরত এবং চরিত্রের দিকে দৃষ্টি রেখে রেখে আল্লাহতায়ালা কোরআনে কারিমে বিধিবিধান বর্ণনা করেছেন। আর যার ব্যাখ্যা মহানবী (সা.)-এর বর্ণনাতে পাওয়া যায় আর অন্যদিকে মহানবী (সা.) নিজ সুন্নত দ্বারা সেই বিধিবিধানের ওপর আমল করে দেখিয়েছেন। রোজা সম্বন্ধে মহানবী (সা.)-এর সব নির্দেশ হাদিসে আছে, যার ওপর তিনি আমল করেছেন এবং আমল করিয়েছেন। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য, কিছু এমন প্রকৃতির মানুষ আছেন যারা কোরআন-হাদিসের বিধিবিধান ছেড়ে দিয়ে নিজের ওপর এমন কষ্টকর বোঝা চাপিয়ে নেয়, যা ইসলামবিরোধী।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক বিশেষ কিছু অবস্থায় রোজা রাখতে বারণ করেছেন, যেমন সফরে অথবা অসুস্থ অবস্থায় রোজা রাখতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। এ ছাড়া শিশুদের, গর্ভবতীদের এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদেরও রোজা না রাখার নির্দেশ রয়েছে। পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে স্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও অনেকে গায়ের জোরে অসুস্থ অবস্থায় এবং সফরে রোজা রাখেনÑ এটা মোটেও আল্লাহপাকের সন্তুষ্টির কারণ নয়। আল্লাহ যা আদেশ দিয়েছেন তা পালন করার মধ্যেই আল্লাহর সন্তুষ্টি নিহিত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমাদের মাঝে যে এ মাসকে পাবে সে যেন এতে রোজা রাখে। কিন্তু যে অসুস্থ অথবা সফরে থাকে তাকে অন্যান্য দিনে রোজার এ সংখ্যা পূর্ণ করতে হবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্য চান এবং তোমাদের জন্য কাঠিন্য চান না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ৮৫)। এ আয়াতে আল্লাহতায়ালা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন, ‘আল্লাহতায়ালা তোমাদের জন্য সহজ চান আর তোমাদের কষ্টে ফেলতে চান না।’ কিন্তু আফসোস তাদের জন্য যারা এই রোজাকে কষ্টদায়ক বানিয়ে নেয়। তারা রোজার বিষয়ে বেশ কঠোরতা অবলম্বন করে। সব রোজাকেই তারা ইসলাম মনে করে আর তাই যতই অসুস্থ হোক বা দুর্বল, বৃদ্ধ হোক বা গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী তাদের ক্ষেত্রেও ছাড় দিতে চায় না। অসুস্থতা যদি বেড়েও যায় অথবা স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটে, তারপরও রোজা ছাড়ে না। রোজার ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোরতা কোনোভাবেই ইসলাম সম্মত নয়।

ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম নিজের কিছু বিধিবিধানের এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করে দিয়েছে, যদি এই শর্ত কারো মধ্যে পাওয়া যায়, তবে সে যেন এই হুকুমের ওপর আমল করে আর যদি না পাওয়া যায়, তবে যেন না করে। যেমন হজ বা জাকাত ইত্যাদির বিধিবিধান। এগুলো সবার জন্য আবশ্যকীয় নয়। রমজান মাসে সফর করা অবস্থায় রোজা রাখায় প্রকৃতপক্ষে এতে কোনো কল্যাণ নেই। এমন অবস্থায় রোজা না রাখাটাই কল্যাণ।

এ ছাড়া যারা জেনেবুঝে রোজা ত্যাগ করে, তাদের সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো কারণ ছাড়াই রমজানের একটি রোজাও ত্যাগ করে বা ছেড়ে দেয় সে ব্যক্তি যদি পরবর্তিতে জীবনভরও ওউ রোজার বদলে রোজা রাখে, তবু সেটা তার পরিপুরক হবে না।’ (মুসনাদ দারমি)। আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে রোজার হুকুমের ওপর আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : ইসলামী গবেষক ও কলামিস্ট

 

"