ভূমধ্যসাগরে স্বপ্নের সমাধি সিলেটে মাতম

প্রকাশ : ১৩ মে ২০১৯, ০০:০০

তুহিন আহমদ, মহানগর (সিলেট)

একমুঠো স্বপ্ন ছিল ওদের। পরিবারে সচ্ছলতা আনার পাশাপাশি নিজেও প্রতিষ্ঠিত হওয়া। এ বাসনা নিয়েই যাত্রা করেছিল ইউরোপের পথে। কিন্তু সেই স্বপ্নবিলীন হলো ভূমধ্যসাগরে। চার দেশ ঘুরেও ইতালিতে পৌঁছানো হলো না সিলেটের সাতজনের। এদিকে, আপনজনের মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারে কেবলই কান্নার রোল। নিহতদের স্বজনদের সান্ত¦না দিতে বাড়ি আসেন গ্রামের অনেক লোক। তথ্য সংগ্রহের জন্য ভিড় করেন সংবাদকর্মীরাও।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চারজন হলেন সেনেরবাজার কটালপুর এলাকার মুহিদপুর গ্রামের মন্টু মিয়ার ছেলে আহমদ হোসেন (২৪), একই গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আবদুল আজিজ (২৫), সিরাজ মিয়ার ছেলে লিটন শিকদার (২৪) ও মানিকোনা গ্রামের আফজাল। এছাড়াও এই উপজেলার আরো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে এলাকায় তাদের স্বজনদের কাছে খবর এসেছে। গোলাপগঞ্জ উপজেলার নিহত দুজন হলেন শরীফগঞ্জ ইউনিয়নের কদুপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছোট ছেলে কামরান আহমেদ মারুফ (২০) ও একই উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের হাওরতলা গ্রামের মৃত রফিক মিয়ার তৃতীয় ছেলে আফজল মাহমুদ (২৫)। গোলাপগঞ্জের মারুফের ভাই মাছুম আহমদ (২৫) একই নৌকায় ছিলেন। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান।

মাছুম আহমেদের বরাত দিয়ে তাদের বড় ভাই মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘মারুফকে বাঁচানোর জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সমুদ্রের ঢেউয়ে সে তলিয়ে যায়।’

এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহরিয়ার আলম সামাদের ছোট ভাই আহসান হাবিব শামীম। তার বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায়।

জানা যায়, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার যে চারজন রয়েছেন তারা সবাই সিলেট নগরের জিন্দাবাজার রাজা ম্যানশনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত নিউ ইয়াহিয়া ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী মো. এনামুল হক মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন। এজন্য আট লাখ টাকার চুক্তি হলেও লিবিয়া পৌঁছার পর দালালদের বাহানায় আরো আড়াই লাখ টাকা নেন এনামুল। কিন্তু প্রায় দশ লাখ টাকা খরচ করেও প্রাণে রক্ষা পেলেন না তারা।

নিহত লিটন মিয়ার পিতা সিরাজ মিয়া বলেন, ‘৮ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল লিটনের মিয়ার। সিলেটের রাজা ম্যানশনের ইয়াহইয়া ওভারসিজ নামক এজেন্সির সঙ্গে এমন চুক্তি হয়েছিল তাদের। এই এজেন্সির মালিক এনাম আহমদের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। এলাকার পরিচয়ের সুবাদেই চুক্তিবদ্ধ হই।’

এদিকে সিলেটের সাতজন মারা যাওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর থেকে ইয়াহিয়া ওভারসিজটি তালাবদ্ধ রয়েছে। এজেন্সিটির মালিক এনাম আহমদের বাড়ি ফেঞ্চুগঞ্জে। গতকাল রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকবার গিয়ে এজেন্সিটি বন্ধ পাওয়া যায়। বিকেলে এনামুল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বারে ফোন দিলে রিসিভ করেননি। পরে আবারো ফোন দিলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে রাজা ম্যানশন ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমদ বলেন, প্রায় দুই-আড়াই বছর ধরে রাজা ম্যানশনে ইয়াহিয়া ওভারসিজ নামে ব্যবসা করছেন এনাম আহমদ। এর আগে অন্য একটি মার্কেটে তার অফিস ছিল।

 

"