বুদ্ধপূর্ণিমায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশে আগামী বুদ্ধপূর্ণিমায় জামায়াত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) বা ইসলামিক স্টেট (আইএস) ফিদায়ে কায়দায় (গর্ভবতী নারী সেজে) হামলা চালাতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (আইবি)। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজের একটি প্রতিবেদনে গতকাল শনিবার আইবির রিপোর্টে এ সতর্কতার কথা জানা গেছে বলে দাবি করা হয়। এর আগে গত ২৮ এপ্রিল ‘শিগগিরই আসছি, ইনশাআল্লাহ’ শিরোনামে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশকে টার্গেট করে বাংলা ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই হুমকির এক দিন পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে দুই জঙ্গি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই দিন রাতে ঢাকার গুলিস্তানে পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় আইএসের ‘দায় স্বীকার’ নতুন করে ভাবাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তবে এসব ঘটনায় শঙ্কিত না হলেও কঠোর সতর্ক অবস্থায় রয়েছে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে আসছে ১৮ মে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় বাংলাদেশ ও ভারতে জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। আগামী ১৮ মে ভারত-বাংলাদেশে বৌদ্ধ পূর্ণিমা পালন করবেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা।

ভারতের জি-নিউজ জানিয়েছে, আইবি রিপোর্টের ভিত্তিতে দুই বাংলার ধর্মীয় স্থানগুলোতে, বিশেষত হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে এ হামলা হতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে গত শুক্রবার সন্ধ্যাতেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনকে এ নিয়ে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে বলেও জানায় সংবাদ মাধ্যমটি।

রাজ্য পুলিশের বরাত দিয়ে জি-নিউজ বলছে, সতর্কবার্তা পেয়ে এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ এবং কলকাতা পুলিশের দুই কর্মকর্তা সতর্কবার্তার সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে জানিয়েছেন, কলকাতাসহ রাজ্যের বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দিরে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় যেহেতু প্রচুর ভক্তের সমাগম হয়, তাই সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে বলা হয়েছে। সুরক্ষা বাড়ানো হচ্ছে অন্য মন্দিরেও।

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ অথবা পশ্চিমবঙ্গে নারী জঙ্গিদের সামনে রেখে নাশকতার ছককে বাস্তবায়িত করা হতে পারে। নির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, বৌদ্ধ পূর্ণিমার দিন বৌদ্ধ মন্দিরে অথবা অন্য কোনো মন্দিরে ভক্ত সেজে ঢুকে হামলা চালানো হতে পারে। এমনকি নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়াতে গর্ভবতী নারী সেজে (ফিদায়ে কায়দায়) পেটের মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে মন্দিরে ঢোকার মতো নতুন কৌশল জঙ্গিরা নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে ২৮ এপ্রিল ‘শিগগিরই আসছি, ইনশাআল্লাহ’ শিরোনামে বাংলায় একটি পোস্টার পোস্ট করেছিল আইএস জঙ্গিগোষ্ঠী। তখনই জল্পনা শুরু হয়েছিল, তাহলে কি শ্রীলঙ্কার পর এবার পশ্চিমবঙ্গ কিংবা বাংলাদেশে হামলার ছক রয়েছে আইএসের? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, অতীতে নানা জঙ্গি হামলার পেছনে আইএস দাবি করলেও বাংলাদেশে তাদের অস্তিত্বের ব্যাপারটি আগেও তারা পাননি। সেসব দাবির প্রমাণও মেলেনি। বরং স্থানীয় কিছু জিহাদি গ্রুপকে নানা সময় সক্রিয় বলে জানতে পেরেছেন। ফলে ককটেল হামলাটি আসলে কারা চালিয়েছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কোনো মন্তব্য করতে চান না। আরেকজন পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, এর সঙ্গে জঙ্গি হামলার সংশ্লিষ্টতা নেই, এটি সেখানকার স্থানীয় বিরোধের জেরে ঘটে থাকতে পারে। সেসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হলি আর্টিজানের ঘটনার পরে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা অনেকগুণ বেড়েছে। আমাদের রেগুলেশন করা, ইন্টারনেট ট্র্যাক করা, আমাদের ফোনকল ট্র্যাক করা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারি বহুগুণ বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অধিকতর ধারণা নিয়ে আসছেন। সেসব অভিজ্ঞতা মাঠে কাজেও লাগাচ্ছেন।

প্রায় তিন বছর আগে প্রথমবারের মতো গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস। দুনিয়াজুড়ে আলোড়ন তৈরি করা ওই হামলায় ২০ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ইতালির, সাতজন জাপানের, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন। এছাড়া জঙ্গিদের হামলায় দুই পুলিশ সদস্যও নিহত হন। সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ হামলাকারীও নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরো একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়; যাকে পরে রেস্টুরেন্টের কর্মচারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। হামলাকারীদের মধ্যে অনেকেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। এরা শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। মামলার তদন্তে ঘটনার সঙ্গে মোট ২১ জন জড়িত ছিল বলে জানতে পারে পুলিশ। এর মধ্যে ঘটনার দিন ও পরে ১৩ জনই নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে নিহত হয়।

"