আমার মা গো...একটি দিন হোক শুধুই মায়ের

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

মায়ের এক ধার ‘দুধের দাম কাটিয়া গায়ের চাম পাপোস বানালেও ঋণের শোধ হবে না’Ñ সত্যি এ ঋণ শোধ হওয়ার নয়। কত মধুর ‘মা’ ডাক। এ ডাক শোনার জন্য প্রসব বেদনা ভুলে যান মা। ১০ মাস ১০ দিন গর্ভধারণ করেন গর্ভধারিণী মা। যার নিজের সন্তান নেই অন্যের সন্তান বুকে ধরে লালন-পালন করে নিজ সন্তান না হওয়ার বেদনা ভুলে যানÑ কবির ভাষায় বলব, প্রসব ব্যথার যন্ত্রণাতে কুঁকড়ে যায় রে মা/দুনিয়াতে সেই যন্ত্রণার নাইরে উপমা/সন্তানের মুখ দেখে মা গো সব কষ্ট ভুলে/ কোলে তুলে বুকের সুধা মুখে দেয়রে তুলে/সন্তানকে ছাড়ে রে না মা’য়ে/হলেও আগুনে পোড়া/বাবা মায়ের উজাড় করা আশীর্বাদের ঢাল,/সন্তানকে রক্ষা করে দুনিয়ায় চিরকাল...। মা। গোটা পৃথিবী আছে ক্ষুদ্রতম এই শব্দে। কারণ মধুর এই শব্দের পেছনের মানুষটা। কে ভালোবাসে না মাকে? জগতের কারো উত্তর নেতিবাচক যে হবে না, তা চোখ বন্ধ করেই বলে দেওয়া যায়। তবুও কি সুখে আছে জগতের সব মা? আপনার মা? মা মানে তো দায়িত্ব। মা মানে তো কর্তব্য। তাই তো কবি লিখেছেন ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি, কিন্তু জেনো ভাই, ইহার চেয়ে নামটি মধুর-তিন ভুবনে নাই।’

আসলে মায়ের বিশালত্ব কোনো কিছু দিয়েই পুরোপুরি তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যে যে আবেগ আর আত্মার সম্পর্ক লুকিয়ে আছে, খ্যাতিমান কবি কাজী কাদের নেওয়াজ তার ‘মা’ কবিতায় কিছুটা হলেও তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। আজ মা দিবস। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর নিউজ ফিড ভরে উঠবে মা-সন্তানের ছবিতে। দেশে দেশে উদ্যাপন হবে দিবসটি। বছরের প্রতিটি দিবস মায়ের জন্য হলেও সমস্যা নেই। তারপরও জন্মদাত্রীর জন্য যদি একটি দিন বিশ্বের মানুষ একযোগে পালন করেন তাতেও দোষের কিছু নেই। একজন মানুষের পৃথিবীতে যে অস্তিত্ব তার পেছনে আছে একজন মায়ের দীর্ঘ ৯ মাসের এক কষ্টসহিষ্ণু কাল। তাই মায়ের অবস্থান সবার ওপরে। তার চেয়ে আপন আর কেউ নেই। সন্তানের কাছে তিনিই জগতের সর্বশ্রেষ্ঠা। তাই বিশ্বেই নানা আয়োজনে সন্তানরা উদ্যাপন করেন মা দিবস। তবে অনেকেই এই দিবসের বিরোধিতা করে বলেন, মায়ের জন্য তো বছরের প্রতিটা দিন। আলাদা করে একটা দিনের কী প্রয়োজন? কিন্তু কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় লিখেছেনÑ ‘আমি ভীষণ ভালোবাসতাম আমার মা কে, কখনো মুখ ফুটে বলিনি। টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে কখনো কখনো কিনে আনতাম কমলালেবু’।

অধিকাংশ বাঙালি ছেলেমেয়ের গল্পটাই বোধ হয় এমন। আমরা মা কে যতই ভালোবাসি না কেন, কিছুতেই কেন জানি মুখ ফুটে তাকে সে কথা বলতে পারি না। বলতে পারি না, মায়ের মুখটা আমাদের কত প্রিয়, কত প্রিয় তার গায়ের গন্ধ। তাই মাতৃত্ব উদ্যাপনের জন্য একটা দিন থাকা মন্দ নয়। ভালো আমরা মা কে সারা বছরই বাসি, কিন্তু একটা দিন না হয় তাকে জানালাম যে তিনি আমাদের জীবনে কতটা প্রিয়, কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের পরের লাইনেই উঠে এসেছে, সন্তানের সামান্যতম ভালোবাসা জ্ঞাপনও একজন মা কে কতটা আনন্দিত করে। ছেলের টিফিনের পয়সা বাঁচানো কমলালেবু পেয়ে ‘শুয়ে শুয়ে মা-র চোখ জলে ভরে উঠত’।

সন্তানের কথা ভাবতে গিয়ে নিজের ইচ্ছা বা শখের কথা ভুলে যান অনেক মা। মা দিবসকে অনেকেই বিশ্বায়নের প্রভাব বলে মনে করেন। ১৯০৮ সালে আমেরিকান শান্তিকর্মী আনা জার্ভিস প্রথম মা দিবস পালন করা শুরু করেন যা পরে বিশ্বেই দারুণ সমাদৃত হয়। কিন্তু মাতৃত্বের উদ্যাপন নতুন কোনো ধারণা নয়। সন্তানের জন্য মায়ের যে সীমাহীন অবদান ও ত্যাগ স্বীকার, তার প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন যুগে যুগে নানা সভ্যতাতেই ছিল। যেমন- গ্রিক উৎসব ‘সিবেল’, রোমান ‘হিলারিয়া’ ও খ্রিস্টান রীতি অনুযায়ী ‘মাদারিং সানডে’র মাধ্যমে মায়ের জন্য বিশেষ একটি দিনের উদ্যাপন হাজার বছর ধরেই প্রচলিত। আজকের আধুনিক মা দিবস সরাসরি সেসব দিবস থেকে না এলেও মাতৃত্বের উদ্যাপন আজও সার্বজনীন।

"