বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট : সব টিভি সম্প্রচার ১৯ মে থেকে

এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ

প্রকাশ : ১২ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ রোববার। এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় চলে গেছে। পাশাপাশি দেশে স্পেস সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে ১৫ টেলিভিশন চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট তরঙ্গের মাধ্যমে সম্প্রচার করছে। আগামী ১৯ মে থেকে দেশের সব টিভি চ্যানেলই এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার শুরু করবে। খবর বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডÑ বিসিএসসিএল সূত্রের।

এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ টিআইএম নুরুল কবির বলেন, এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে বাংলাদেশ অনন্য উচ্চতায় চলে গেছে। পাশাপাশি দেশে স্পেস সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগে তো এটা নিয়ে পড়ার কথা আমাদের ভাবনাতেই ছিল না। এখন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশন গাজীপুরের দায়িত্ব নিয়েছে আমাদের ছেলেমেয়েরাই। এটা আশার কথা। পাশাপাশি আমরা দ্বিতীয় স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের কথা ভাবছি। সেটা করতে হলে অবশ্যই প্রথমটির বাণিজ্যিক যাত্রা সফল হতে হবে। সে ক্ষেত্রে আরো বেশি তৎপর হতে হবে। প্রচারণাটা চালাতে হবে। এখানে একটু বেশি মনোযোগ দরকার।

তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের যাত্রার শুরুতেই বাংলাদেশের সবগুলো টিভি চ্যানেল এই স্যাটেলাইট থেকে সেবা নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তি করেছে। আজ থেকে তারা বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট দিয়ে সম্প্রচার শুরু করবে। এ ব্যাপারে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ১৯ মে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর কয়েকটি প্রদর্শনী হবে। এর মধ্যে রয়েছে, অনলাইন ব্যাংকিং লেনদেনে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সব টিভি চ্যানেলকে স্যাটেলাইটের আওতায় আনা এবং ভাসানচরে (যেখানে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কথা রয়েছে) ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা হবে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমেই। এছাড়া স্যাটেলাইট থেকে কেবল টিভি দেখার সেবা ‘ডাইরেক্ট টু হোম’ বা ডিটিএইচ সেবাও নিশ্চিত করা হবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে মর্যাদার আসনে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের ২১ অক্টোবর সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ উৎক্ষেপণে ‘স্যাটেলাইট সিস্টেম’ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেয়। এর জন্য ২ হাজার ৯৬৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়। এর মধ্যে সরকারি অর্থ ১ হাজার ৩১৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা আর বিদেশি অর্থায়ন ১ হাজার ৬৫২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যদিও শেষ পর্যন্ত স্যাটেলাইট উড়াতে মোট খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের থ্যালাস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। গত বছরের ১২ মে ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে মহাকাশে পাঠানো হয় দেশের প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। নভেম্বরে এর পরিচালনার দায়িত্ব বুঝে নেয় বিসিএসসিএল।

নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পরই দেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়াসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিসিএসসিএল।

বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেছেন, আসলে স্যাটেলাইট এক বছর হলেও আমরা বুঝে পেয়েছি গত নভেম্বরে, অর্থাৎ ৬ মাস আগে। এর আগে এটি ছিল ফ্রান্সের থ্যালাস এলিনিয়া স্পেসের নিয়ন্ত্রণে। তারা গাজীপুরে গ্রাউন্ড স্টেশনে আমাদের ঢুকতেই দেয়নি। আমরা পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে পাওয়ার পর বেশ কয়েকটি চুক্তি এরই মধ্যে করেছি।

ড. শাহজাহান আরো বলেন, ফিলিপাইন ও নেপাল এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ কেনার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দেশের দুর্গম অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবস্থা চালু সহজ হবে। এরই মধ্যে সে উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। হাতিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তর করা হলে সেখানেও ইন্টারনেট যোগাযোগসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কয়েকটি জরুরি সেবা নিশ্চিত হবে। এর মধ্যে আছে টেলি মেডিসিন এবং টেলি অ্যাডুকেশন সেবা। ঢাকায় বসেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতে পারবেন। বড় কথা হচ্ছে ঢাকা থেকেই রোহিঙ্গাদের জন্য শিক্ষা কার্যক্রমও পরিচালনা সম্ভব হবে।

"