মোদি ভারতের বিভাজনের প্রধান টাইম ও মমতার ফোঁস

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

পার্থ মুখোপাধ্যায়, কলকাতা থেকে

ভোটের মরসুমে আমেরিকার জনপ্রিয় টাইম ম্যাগাজিনের কভার নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে ভারতে। টাইম ম্যাগাজিনের ২০ মে’র সংস্করণের প্রচ্ছদে ছাপানো হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি। হেডলাইনে লেখা হয়েছে, ভারতের বিভাজনের প্রধান। ম্যাগাজিনের যে প্রতিবেদনের কারণে এই কভার করা হয়েছে, তা লিখেছেন আতীশ তসির। প্রতিবেদনটির হেডলাইন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র কি আর পাঁচ বছরের জন্য মোদির সরকারকে সহ্য করতে পারবে? সাবেক প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাবনাকে তুলনা করে লেখা হয়েছে, হিন্দু ও মুসলিমের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার কোনো ইচ্ছাই প্রকাশ করেননি মোদি। প্রতিবেদনে গুজরাটের হিংসায় প্রচুর মানুষের প্রাণহানির প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছে। গোটা লেখাতেই, হিন্দু-মুসলসিমের সম্পর্ক নিয়ে, আর তাতে, মোদির হিন্দুত্বঘেঁষা মনোভাবের সমালোচনা করা হয়েছে। এর আগেও, নরেন্দ্র মোদিকে কটাক্ষ করে প্রতিবেদন লেখা হয়েছে টাইম ম্যাগাজিনে। ২০১২ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নরেন্দ্র মোদি একজন বিতর্কিত, উচ্চাকাক্সক্ষী ও কূট-রাজনীতিক।

এদিকে, নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে আওয়াজ আরো জোরদার করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নির্বাচনী প্রচারে বলেছেন, এখানেও (পড়–ন পশ্চিমবঙ্গে) এনআরসি করবে বলছে, কিন্তু এখানে একটা লোকের গায়ে হাত দিতে দেব না। অসমে এনআরসি করেছে, ২২ লাখ লোককে তাড়িয়েছে। তাই বিজেপির এই ধমকানি-চমকানিকে আমি ভয় পাই না। আমি সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়েছি, কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়েছি, সবার বিরুদ্ধে একা লড়াই করছি। তাই বাংলা এবার পথ দেখাবে।

তিনি বলেন, আমরা চাই শান্তিতে বসবাস করতে, তাই এই বিজেপি চাই না, এই মোদি চাই না, অমিত শাহ চাই না। আর তারপরই সুর চড়িয়ে বলেছেন, এখন আবার হয়েছেন চৌকিদার, কিন্তু এখন চৌকিদার কেমন হয়েছেন? আগে কেটলি নিয়ে ঘুরে বেড়াত, এখন কেটলি নেই, সঙ্গে আছে জেটলি। গণতন্ত্রের মাধ্যমে মানুষ জবাব দেবেন, এটাই তো ‘গণতন্ত্রের থাপ্পড়’। কিন্তু বুড়ো খোকা দেশ ভাঙলে কী করবেন? একটা ছোট্ট ছেলে যদি গ্লাস ভাঙে, মা তাকে হয়তো থাপ্পড়ও মারে, পরে আবার আদরও করে। এখানে এসে বলছে, রাস্তায় মেয়েরা বেরোতে পারে না। আমরা আমাদের যা আছে সেটা নিয়েই গর্ব করব। এটাই বাংলার সংস্কৃতি, এটাই নজরুল শিখিয়েছেন, এটাই রবীন্দ্রনাথ শিখিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মাঠে-ময়দানের সভায় এসব বলছেন তখন পুলিশ (মমতা, পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ মন্ত্রীও বটে) গাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনায় মেদিনীপুরের ঘাটালে বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে দায়ের করেছে এফআইআর। সরকারি কাজে বাধা দেওয়া, হুমকিসহ একাধিক ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে ভারতী ঘোষের বিরুদ্ধে। যার মধ্যে বেশকিছু জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পিংলায় নাকা চেকিংয়ের সময় বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা। পুলিশ সূত্রে খবর, তল্লাশি চালাতে না দিয়ে প্রথমে পালানোর চেষ্টা করেন সাবেক আইপিএস কর্মকর্তা। পরে তাকে ধরে পুলিশ। শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। রাত ২টা নাগাদ ছেড়ে দেওয়া হয় ঘাটালের বিজেপি প্রার্থী ভারতী ঘোষকে। অভিযোগ, বারবার সিজার লিস্টে সই করতে বলা হলেও, সই না করেই চলে যান ভারতী ঘোষ। এফআইআরে বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী ৫০ হাজারের বেশি টাকা সঙ্গে রাখতে পারে না। বিপুল পরিমাণ টাকার উপযুক্ত কাগজপত্র দেখাতে পারেনি ভারতী। পুলিসের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন তিনি।

স্বভাবতই চুপচাপ বসে নেই, বিজেপিও। কয়লা পাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে সংসদ সদস্যদের কথোপকথনের একটি পেনড্রাইভ তার কাছে রয়েছে বলে গত বৃহস্পতিবার দাবি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে চিঠি লিখে তদন্তের দাবি করেছেন জনৈক বিশ্বনাথ গোস্বামী। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার সভায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে কয়লা পাচারের অভিযোগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পাল্টা কয়লা পাচারের সঙ্গে বিজেপির মন্ত্রী-সংসদ সদস্যদের যোগের অভিযোগ তুলে, পেনড্রাইভ ফাঁসের হুশিয়ারি দিয়েছিলেন মমতা।

ভোটের আগে সবচেয়ে বিতর্কিত ইস্যু, রাম মন্দির-বাবরি মসজিদের মীমাংসা হলো না, সুপ্রিম কোর্টে। অযোধ্যার বিতর্কিত জমি আদতে কার, সে ব্যাপারে কোনো রায় আপাতত দেননি সুপ্রিম কোর্ট। বরং এ ব্যাপারে যারা মধ্যস্থতা করছেন, সেই প্যানেলের দাবি মেনে নিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য তাদের সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ আগস্ট করেছে দেশের শীর্ষ আদালত।

এর মধ্যে আগামীকাল রোববার, দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও ষষ্ঠ দফার ভোট হতে যাচ্ছে ১০০ শতাংশ কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। রাজ্যে আরো ৩০ কোম্পানি বাহিনী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আগামীকাল রোববারের ভোটের নিরাপত্তায় থাকছে মোট ৭৭০ কোম্পানি বাহিনী। ষষ্ঠ দফার ভোটে প্রথমে কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় ৬৮৩ কোম্পানি বাহিনী থাকবে ভোটের নিরাপত্তায়। কমিশন জানায় ৭৩ দশমিক ০৫ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হবে। সেই সংখ্যা বাড়িয়ে কমিশন জানায় ষষ্ঠ দফার নিরাপত্তায় ৭৪০ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।

"