নিত্যপণ্যের দাম চড়া

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

নিজস্ব প্রতিবেদক

চাহিদার তুলনায় বাজারে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকার পরও সব পণ্যের দাম চড়া। ক্রেতাদের অভিযোগ, সরবরাহ বেশি থাকার পরও বেশি দামে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। এদিকে, খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। নিত্যপণ্যের নিয়ন্ত্রণহীন দামে স্বস্তিতে নেই ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মহাখালী কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হয়েছে ছোলা, খেসারি, মসুর ডাল, বুট ও পেঁয়াজ। প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হয়েছে ৮০-৮৫ টাকা, খেসারি ৬৫-৭০, মসুর ডাল ১০০-১১০ ও বুট ৩৮-৪০ টাকা। দেশি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ২০-২৫ টাকায়।

বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তা ছাড়া প্রতি কেজি পেঁপে ৬০ টাকা, শসা ৪০-৬০, গাজর ৭০, টমেটো ৩০-৪০ এবং লেবু হালি মানভেদে ২০-৪০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন, কচুরলতি, করলা, পটোল, বরবটি বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা দরে। ধুন্দুল, ঝিঙা, কাঁকরোল, চিচিঙা বিক্রি হয়েছে ৫০-৬০ টাকায়। প্রতি আঁটি লাউশাক ৩০ টাকা, লালশাক, পালংশাক ১০ টাকা, পুঁইশাক ও ডাঁটাশাক ২০-৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। দাম অপরিবর্তিত থাকা অন্য সবজির মধ্যে পটোল ৪০-৫০, শজনে ডাঁটা ৬০-৮০, বরবটি ৬০-৭০, কচুরলতি ৭০-৮০, করলা ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

মাংস ব্যবসায়ী আবদুল রব বলেন, আমরা সরকার নির্ধারিত গরুর মাংসের দাম ৫২৫ টাকা, খাসির মাংস ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে যায়। এবারো বেড়েছে। তবে এবারের দাম বাড়ার প্রবণতা আগের থেকে বেশি ছিল। এখন দাম কমতে শুরু করেছে। সামনে আরো কমবে। কারণ রোজার সময় ব্রয়লার মুরগির চাহিদা কম থাকে।

এদিকে টানা দুই সপ্তাহ দাম কমার পর ডিমের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। শুধু ডিম বিক্রি করেন এমন ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো ডিমের ডজন বিক্রি করছেন ৮০-৮৫ টাকায়। মুদি দোকানে ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করেছেন সাড়ে ৭-৮ টাকায়।

রোজায় অপরিবর্তিত বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। রুই, কাতলা বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। তেলাপিয়া বিক্রি হয়েছে ২০০, আইড় ৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৫০০, বেলে মাছ প্রকারভেদে ৭০০, বাইন মাছ ৬০০, গলদা চিংড়ি ৮০০, পুঁটি ২৫০, পোয়া ৬০০, মলা ৫০০, পাবদা ৬০০, বোয়াল ৬০০, শিং ৮০০, দেশি মাগুর ৬০০, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ এবং চাষের কৈ ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রামের ইলিশ মাছ বিক্রি হয়েছে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায়।

একই অবস্থা বিরাজ করছে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্যের বাজারে। বাজারে প্রতি কেজি নাজির ৫৮ থেকে ৬০ টাকা। মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৫২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর ২৮ নম্বর ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ ছাড়া খোলা আটা বিক্রি হয়েছে ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাউর চাল ৯০ থেকে ৯৫। প্রতি কেজি খোলা আটা ২৭ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, খোলা ময়দা ২৮ টাকা ও প্যাকেট ৩২ টাকা।

"