জায়ান্ট মিলিবাগের আক্রমণে মরছে গাছ

প্রকাশ : ১১ মে ২০১৯, ০০:০০

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলায় ‘জায়ান্ট মিলিবাগ’ নামে এক ধরনের পোকার আক্রমণে রেইনট্রিসহ বিভিন্ন গাছে মড়ক দেখা দিয়েছে। ফলে কয়েকদিনের ব্যবধানে গাছগুলো মারা যাচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন মালিকরা।

এ পোকা গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগের কচি পাতা, ফলের বোটা বা গাছের গায়ে দলবদ্ধভাবে সাদা রঙের আচ্ছাদন বিছিয়ে এমনভাবে গাদাগাদি করে থাকে যে, গাছটির আক্রান্ত স্থান সহজে দেখা যায় না। এরা খাদ্য হিসেবে গাছের রস চুষে খায়। ফলে গাছের পাতা কালো বর্ণ ধারণ করে ঠিকমতো খাদ্য তৈরি করতে পারে না। একপর্যায়ে গাছগুলো দুর্বল হয়ে শেষ পর্যন্ত মারা যায়।

কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন জানান, তাদের বাগানের রেইনট্রি গাছে ব্যাপকহারে পোকা আক্রমণ করেছে। এ কারণে তাদের বাড়ন্ত গাছগুলো মারা যাচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একই অভিযোগ করেন উপজেলার কৃষ্ণনগর ও দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের কয়েকজন।

কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ ফজলুল হক গণমাধ্যমকে জানান, জায়ান্ট মিলিবাগ ১৯২৩ সালে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। বর্তমানে এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। এরা ফলদ উদ্ভিদ যেমন- নারিকেল, আম, লেবু, কাঁঠাল ছাড়াও বনজ বৃক্ষ রেইনট্রি, কড়ই, পাহাড়ি তুলা ইত্যাদি গাছে আক্রমণ করে থাকে।

তিনি বলেন, সাধারণত ফাল্গুন-চৈত্র মাসে স্ত্রী পোকা গাছ থেকে নেমে আসে এবং মাটির ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার গভীরে গুচ্ছাকারে ৩০০ থেকে ৫০০টি ডিম পাড়ে। আশ্বিন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিম ফুটে বাচ্চা (নিম্ফ) বের হয়ে আসে এবং হেঁটে হেঁটে খাদ্যের সন্ধানে পোষক গাছে উঠতে শুরু করে।

জায়ান্ট মিলিবাগের হাত থেকে গাছ রক্ষার জন্য তিনি দুটি পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, গাছে আক্রমণ করলে যে কোনো সময় জৈব বালাইনাশক, ফাইটোক্লিন দিয়ে পোকাটি দমন করা যায়। এছাড়াও কার্তিক মাসে সদ্য ফোটা নিম্ফ ধ্বংস করা এবং ফাল্গুন-চৈত্র মাসে পূর্ণাঙ্গ স্ত্রী পোকা ধ্বংস করা সম্ভব।

পোকার আক্রমণ কমাতে উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে শেখ ফজলুল হক মনি বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে এ বিপর্যয় রোধ করা সম্ভব। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

"