নুসরাত হত্যাকাণ্ড

মামলার পর ভয় দেখানো হয়েছিল

প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া কামরুন্নাহার মণি সব অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে তার গর্ভের সন্তানের বয়স পাঁচ মাস বলে জানিয়েছে। গর্ভের সন্তান ধারণ করে এ রকম একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়ানোয় অবাক হয়েছেন সবাই। এদিকে, শ্লীলতাহানির মামলা করার পর পাশে না দাঁড়িয়ে স্থানীয় প্রশাসন উল্টো মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান ও তার পরিবারকে ভয় দেখিয়েছিল। পুলিশ সদর দফতরের একটি কমিটির কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে নুসরাতের মা শিরিন আখতার অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করার পর তারা ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি তাদের কথা শোনেননি। বরং তাদের মানহানির মামলার মোকাবিলা করতে হতে পারে বলে ভয় দেখিয়েছিলেন।

মণি সোনাগাজী পৌরসভার বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন ইমান আলী বাড়ির অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর কর্মকর্তা আবদুল আজিজের মেয়ে। গত বছর উপজেলার নবাবপুর ইউপির মহদিয়া গ্রামের মেজবাউল খান মিলনের ছেলে রাজু আহাম্মদের সঙ্গে বিয়ে হয় তার।

সোনাগাজীর নারীকর্মী মর্জিনা আক্তার জানান, কামরুন নাহার মনির পেটে যে সন্তান, সে নিজ থেকে দুনিয়াতে আসতে চায়নি। যে মা তাকে দুনিয়াতে আনতে চেয়েছে; সেই মা কীভাবে এমন কাজ করতে পারে? এই সন্তানের কী অপরাধ ছিল? তাকে কেন জন্মের আগে জেল খাটতে হচ্ছে।

বিটুবি রানি গুহ নামে এক শিক্ষিকা জানান, কামরুন নাহার মা হবে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শব্দ মা। প্রত্যেক নারী একসময় মা শব্দ শোনার প্রতীক্ষায় থাকে। গর্ভের সন্তান আসলে প্রত্যেক মা সব সময় ভালো কাজে লিপ্ত থাকে। কামরুন নাহার মণি ভালো মা তো দূরের কথা, মানুষের মধ্যেও পড়ে না। গর্ভের সন্তান নিয়ে নৃশংসভাবে আরেকজন মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে মণি। সে নারী নামে কলঙ্ক।

কামরুন নাহার মণিকে গত ১৫ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১৭ এপ্রিল তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। গত শুক্রবার মণিকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় পিবিআই। সে সময় মণি কীভাবে নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে তার বর্ণনা দেয়। তার দেওয়া তথ্য মতে পিবিআই বোরকার দোকান পরিদর্শন করে।

সূত্রগুলো বলছে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আগেও ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, উপবৃত্তির তালিকায় নাম তোলার কথা বলে আলিম দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থীকে গত বছরের ৩ অক্টোবর অধ্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে হয়রানি করেন। ওই শিক্ষার্থীর বাবা লিখিত অভিযোগে জানান, ওই দিন অফিস সহকারী ও আয়া অধ্যক্ষের কক্ষে মেয়ের কান্নার শব্দ পেয়ে উদ্ধার করেন। মেয়ে বাড়ি ফিরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। ওই বাবা মৌখিকভাবে পরিচালনা পর্ষদের তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধিকে বিষয়টি জানান। পাঁচ দিন পর তিনি লিখিতভাবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানান। ওই চিঠির অনুলিপি তিনি সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে দেন।

পি কে এনামুল করিম দাবি করেন, অধ্যক্ষের বিষয়ে অন্য যেসব অভিযোগের কথা এখন শোনা যাচ্ছে, সেগুলো সম্পর্কে তাকে কিছু জানানো হয়নি। কোনো অভিযোগ তাদের কাছে করা হয়নি।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত ছিলেন আলিম পরীক্ষার্থী। গত ৬ এপ্রিল আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১০ এপ্রিল মারা যান।

 

"