নুসরাত হত্যাকাণ্ড: পাঁচ দিনের রিমান্ডে রুহুল আমিন

আরো ২ পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার খাল থেকে বোরকা উদ্ধার

প্রকাশ : ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

চট্টগ্রাম ব্যুরো ও ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যায় ব্যবহার করা একটি বোরকা খাল থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই। যারা বোরকা পরে অংশ নিয়েছিল তাদের একজনের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বোরকাটি পাওয়া যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক মো. শাহ আলম বলেন, নুসরাতের সহপাঠী রিমান্ডে থাকা জোবায়েরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার দুপুরে সোনাগাজী সরকারি কলেজের পেছনের খাল থেকে তারা এই বোরকাটি উদ্ধার করেন। আর রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় আরো একজনকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। গ্রেফতার ইফতেখার উদ্দিন রানা ওই হত্যাকা-ের পরিকল্পনাকারীদের একজন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। এদিকে, রাফি হত্যা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও মাদ্রাসা কমিটির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মঈনউদ্দিন জানান, শনিবার ভোর রাতে রাঙামাটি সদরের টিঅ্যান্ডটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে রানাকে গ্রেফতার করা হয়। সোনাগাজীর চরগনেশ এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে রানা ওই হত্যাকা-ের পর পালিয়ে রাঙামাটি চলে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

পিবিআই কর্মকর্তা মঈনউদ্দিন বলেন, নুসরাত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় তাই ভাই যে মামলা করেছেন সেখানে ইফতেখার উদ্দিন রানার নাম নেই। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য বেরিয়ে আসে।

আর জোবায়ের এই মামলার এজহারভুক্ত আট আসামির একজন। তাকে গত ৯ এপ্রিল সোনাগাজী থেকে গ্রেফতার করা হয়। জোবায়ের রিমান্ডে রয়েছেন।

পরিদর্শক শাহ আলম বলেন, নুসরাতের সহপাঠী জোবায়ের এই হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনাগাজী সরকারি কলেজের পেছনে একটি খালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে থেকে হত্যার সময় ব্যবহৃত তিনটি বোরকার একটি উদ্ধার করে পিবিআই। এর আগে শুক্রবার দুপুরে অপর আসামি কামরুন নাহার মনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআই জেনেছে সোনাগাজী পৌর শহরের মানিক মিয়া প্লাজার একটি দোকান থেকে মনি বোরকা কেনেন। হত্যাকা-ে অংশ নেওয়া পুরুষদের গায়ে যে তিনটি বোরকা ছিল তার একটি উদ্ধার করল পিবিআই।

সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত ছিলেন আলিম পরীক্ষার্থী। গত ৬ এপ্রিল আরবি প্রথম পত্র পরীক্ষা দিতে গেলে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় কয়েকজন। এ ঘটনায় দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান।

ওই পাঁচজনসহ ১৭ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও পিবিআই। হত্যাকা-ে জড়িত দুই আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক যে জবানবন্দি দিয়েছেন, সেখানে পুরো ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা পেয়েছেন তদন্তকারীরা।

নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে প্রতিদিনই নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে প্রতিদিনই নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে সেই জবানবন্দি অনুযায়ী ৪ এপ্রিল রাতে এক গোপন বৈঠকে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা হয়। রাঙামাটি থেকে গ্রেফতার ইফতেখার উদ্দিন রানাও উপস্থিত ছিলেন ওই বৈঠকে। আর হত্যাকা-ের দিন পপি কৌশলে নুসরাতকে ডেকে ছাদে নিয়ে গেলে আরো কয়েকজনের সঙ্গে গেটে পাহারায় ছিলেন রানা।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার নির্দেশেই নুসরাতকে পুড়িয়ে মারার পরিকল্পনা করার কথা জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন আসামি নূর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম।

 

"