দুদককে আদালত

জাহালমের কারাভোগে দায়ী কারা?

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আদালত প্রতিবেদক

আসামি না হয়েও জাহালমের কারাভোগের জন্য কে বা কারা দায়ী তা দেখতে দুদকের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন হাইকোর্ট। সোনালী ব্যাংকের সাড়ে ১৮ কোটি টাকা ঋণ জালিয়াতি সংক্রান্ত ৩৩টি মামলার নথি হাইকোর্টে জমা দেওয়ার বিষয়ে এক শুনানিতে গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন চান বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

এ বিষয়ে আগামী ২ মে শুনানির পরবর্তী তারিখ রেখে ওই সময়ের মধ্যে ৩৩ মামলার নথি ও দুদকের প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষে এ দিন আদালতে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশীদ আলম খান। আর জাহালমের পক্ষে ছিলেন অমিত দাশগুপ্ত। ভাইকে নিয়ে জাহালমও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

যে ৩৩টি মামলায় জাহালমকে কারাগারে রাখা হয়েছিল, সেসব মামলার এফআইআর, চার্জশিট, সম্পূরক চার্জশিট ও ব্যাংকের নথিপত্র আদালতে দাখিল করতে গত ৬ মার্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এসব নথি ১০ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হলেও ওইদিন দুদকের পক্ষে আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সময়ের আবেদন করেন। হাইকোর্ট তখন বুধবার পর্যন্ত সময় দেন।

তিন বছর জেলখাটা জাহালম কেমন আছেন, কীভাবে জীবনযাপন করছেন, তা তার মুখ থেকে শুনতে তাকেও বুধবার আদালতে নিয়ে আসতে আইনজীবী অমিত দাসগুপ্তকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সে অনুযায়ী মামলাটি বুধবার শুনানির জন্য উঠলে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথি এখনো আদালতে আসেনি।

বিচারক বলেন, যেহেতু ফাইল আসেনি, আজ থাক। আমাদের প্রত্যাশা ছিল আজ ফাইল আসবে। এরপর আদালত দুদকের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, এ ঘটনায় দুদকের করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে কিনা। আমরা দেখব, এটার জন্য হু ইজ রেসপনসিবল। আমরা দেখতে চাই। প্রতিবেদনটা অনেক জরুরি। ৩৩ মামলার নথিও সঙ্গে দাখিল করবেন। যাদের ভুলের কারণে জাহালমের তিন বছর কারাবাস হলো এবং যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের আমরা দেখব।

পরে খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, এটার একটা ইন্টারনাল তদন্ত হচ্ছে। একজন তদন্ত করছেন। উনাকে ২০ দিনের সময় দিয়েছিল। আরো সাত দিন সময় চেয়েছেন। কোর্ট প্রতিবেদন দেখতে চাইছেন। সব কিছু দেখতে চাচ্ছেন- দায়টা কার। সোনালী ব্যাংকের প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা জালিয়াতির অভিযোগে আবু সালেক নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৩৩টি মামলা করে দুদক। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলে সালেকের বদলে তিন বছর ধরে কারাগারে কাটাতে হয় টাঙ্গাইলের জাহালমকে।

গত ৩০ জানুয়ারি প্রথম আলোয় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সেদিন বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত। পরে আদালতের আদেশে ৩ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম।

 

"