সম্পত্তির লোভ : ৩০ বছর ধরে শিকলবন্দি রামকৃষ্ণ

প্রকাশ : ১৮ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের মিরকাদিম পৌর এলাকায় ৩০ বছর ধরে ছোট্ট ঘরে শিকলবন্দি হয়ে আছে রামগোপালপুর দুধপট্টি এলাকায় রামকৃষ্ণ সাহা ওরফে রমা (৫৫)। তিনি এলাকার গৌরাঙ্গ সাহার পুত্র। জানা গেছে, সম্পত্তি আত্মসাৎ করতেই স্বজনরা এভাবেই শিকলবন্দি করে রেখেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাম কৃষ্ণ সাহা ওরফে রমাকে (৫৫) তার আপন ছোট ভাই গনাই সাহা ৩০ বছর আগে ঘরের মধ্যে শিকল বন্দি করে রাখে। পাঁচ বছর পূর্বে গনাই সাহা মারা যায়। স্বামীর মৃত্যুর পর গনাই শাহর স্ত্রী মনি রানী শাহা ও তার সন্তানরা এখন রমাকে একটা ছোট্ট অন্ধকার ঘরে শিকলবন্দি করে রেখেছে। খাবার মিলে দিনে ২ বার, স্থানীয়রাও মাঝে মাঝে তাকে খাবার কিনে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট টিনের ঘরে ৮ ফিট / ৮ ফিট রুমে ছোট্ট একটি কাঠের চকি। রুমটির এক কর্নারে বড় একটি গর্ত সেখানে রমা প্রস্রাব করে। টয়লেট করতে হলে রমা খোলা জানালা দিয়ে ঘরের পেছনের অংশে পায়খানা করে। মাঝে মধ্যে ভাতিজারা শিকল খুলে দেয় টয়লেটে যাওয়ার জন্য। ঘরটিতে নেই বিদ্যুৎ, চারদিকে দুর্গন্ধ, ড্রামের মধ্যে ময়লা আর আবর্জনা যুক্ত পানি। রমা সেই ড্রামের পানিই পান করে। পরিবারের লোকজন তাকে পাগল দাবি করলেও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি।

বন্দি রুমে এ প্রতিবেদকের কথা হয় রাম কৃষ্ণ সাহার সঙ্গে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ব্যবসা করতাম। জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। বাবা মা মারা যাওয়ার আগে বিশাল সম্পত্তি আমাকে দিয়ে যায়। আমি যৌবনকাল থেকে শিকলবন্দি, বিয়ে করিনি, সংসার নেই। ওরা আমার সম্পদ নেবে নিয়ে যাক। এভাবে আমাকে আটকে রেখেছে কেন? আমাকে ছেড়ে দিক। আমি কাজ করে নিজের পেট চালাব। তবুও স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই।

স্থানীয় মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর আলম জানান, লোকটা শিক্ষিত। তার সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য তাকে পাগল বানিয়ে রেখেছে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানরা। অতি দ্রুত তাকে মুক্ত করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত ।

গনাই শাহার স্ত্রী মনি রানী সাহা বলেন, ৩০ বছর ধরে তাকে শিকলেবন্দি রেখেছি। ওনি আমার ভাসুর হন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। এজন্য এভাবে শিকলে আটকে রাখা হয়। এক প্রশ্নের জবাবে মনি রানী সাহা জানান, তাকে আজ পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাকে ছেড়ে দিলে এলাকার লোকদের মারধর করে। তাই বাধ্য হয়ে তাকে শিকলবন্দি রাখি।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আমির হোসেন চৌধুরী বলেন, এটা একটা অমানবিক ঘটনা । একজন সুস্থ মানুষকেও যদি এভাবে শিকলবন্দি রাখা হয় তাহলে সে পাগল হয়ে যাবে। তাকে দ্রুত চিকিৎসাসেবা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেয়া জরুরি ।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আহাম্মেদ বলেন, বিষয়টি অমানবিক। আমরা অবগত হয়েছি। তদন্ত করে দেখব।

 

"