সিন্ডিকেটে আটকা ছাত্রলীগের কমিটি

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

জিয়াউদ্দিন রাজু

ছাত্রলীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির বয়স প্রায় ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। গেল বছরের ৩১ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করেন ২৯তম কমিটিতে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদেরই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে নেওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক চাইলেও সাবেকদের কারণে আটকে আছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এ নিয়েই দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বন্দ্ব। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজেই। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি করার তাগিদ দিয়েছেন। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে এ তাগাদা দেন তিনি। বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, পহেলা বৈশাখের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাহলে কী হলো? ছাত্রলীগ তো আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে। এ সময় এক কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ছাত্রলীগের সাবেক কয়েকজন নেতার ইন্ধন আছে বলে জানান।

বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও বি এম মোজাম্মেল হক।

বৈঠকে উপস্থিত এক কেন্দ্রীয় নেতা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী সভাপতি শেখ হাসিনা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্রলীগের সব নেতাকর্মীকে মিলেমিশে অতি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে নির্দেশ দেন। এ জন্য গত কমিটির সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসাইনের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দিতে বলা হয়েছে। বৈঠকে এখন পর্যন্ত এদিকে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ১১(খ) ও (গ) ধারায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যকাল দুই বছর। এর মধ্যে সম্মেলন না হলে কমিটির কার্যকারিতা থাকবে না। সে হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কমিটি এরই মধ্যে নির্ধারিত সময়ের একটা অংশ পার করে ফেলেছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছাড়াই। এ নিয়ে বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে পদপদবি নিয়ে চলছে টানাহেঁচড়া। বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে গেলেও হোঁচট খেতে হয়েছে সাবেক ছাত্রলীগ ও বর্তমান কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার কারণে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা তাদের অনুসারীদের ছাত্রলীগের পদপদবিতে বসাতে চাচ্ছেন। এমনকি বর্তমান কমিটির ওপরও চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন।

এদিকে ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানায়, বাংলার নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখী কনসার্ট স্থানে ভাঙচুর ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নিয়ে সংগঠটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে আওয়ামী লীগ সভাপতির পক্ষ থেকে ছাত্রলীগকে কঠোর হুশিয়ারি করেছেন নেতারা। বৈশাখের কনসার্ট স্থানে মঞ্চ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের দয়ে ১২ জন ছাত্রলীগের কর্মীর নামের তালিকাও আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে জমা দিয়েছে ছাত্রলীগ। বিষয়টি তদন্ত করছেন শীর্ষ নেতারা।

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়ে ছাত্রলীগকে বলা হয়েছে। ছাত্রলীগের মধ্যে যেসব দ্বন্দ্ব ছিল তা মিটমাট করা হয়েছে। এখন আর দ্বন্দ্ব নেই।

উল্লেখ্য, ছাত্রলীগের ২৯তম সম্মেলনের প্রায় আড়াই মাস পর গত বছরের ৩১ জুলাই রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি এবং গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩০১ জনকে নিয়ে গঠিত হয়। বর্তমান এ কমিটির মেয়াদ অর্ধেক শেষ হলেও এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি। সাধারণত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ কেন্দ্রীয় কমিটিতে চলে আসে। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় কমিটি না হওয়ায় ঢাবি কমিটিও আটকে আছে। ঢাকা মহানগরের দুই গুরুত্বপূর্ণ শাখারও একই সংকট।

 

"